জাতীয় ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:১০

সংসদে তিন ইস্যুতে বিতর্ক : জ্বালানি সংকট-সার ডিলার-‘গুপ্ত’ রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদে প্রথম অধিবেশনের ১৯তম দিনেও তিনটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। জ্বালানি সংকট, আওয়ামী লীগের নিয়োগপ্রাপ্ত সার ডিলার ও চট্টগ্রামে ‘গুপ্ত’ লেখাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে অধিবেশন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এসব ইস্যুতে সরকার দলের নেতা, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা এবং বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে সংসদের পরিবেশ ছিল বেশ সরগরম। তবে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত সারের ডিলার পরিবর্তন ও জ্বালানী সংকট মোকাবিলায় সরকারী দল ও বিরোধী দল একত্রে কাজ করা বিষয়ে একমত দেখা যায়।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৯তম দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এবং মাগরিবের নামাজের বিরতির পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নোত্তর, জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ, ৭১ বিধি, রাষ্ট্রপতির ভাষণে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব ও বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমানের ৬৮ বিধিতে আনীত জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ‘দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট নিরসনে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে সরকারের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন সংসদ সদস্যরা।

সংসদ অধিবেশন শুরুতেই টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আউয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জমির পরিমাণ হ্রাস এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে কৃষিখাত নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কৃষি উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে কৃষক কার্ড ১৪ এপ্রিল উদ্বোধন করা হয়। ওই কার্ডের মাধ্যমে ১০টি সেবা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রদান, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, কৃষি বিমা সুবিধা, ন্যায্যমূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রয়ের সুবিধা, কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া ও বাজার তথ্য প্রাপ্তিসহ ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ দেওয়া ইত্যাদি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে এ কার্ড দেওয়া হবে।

সংসদের অধিবেশনের শেষ সময়েও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমানের ৬৮ বিধিতে আনীত জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ‘দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট নিরসনে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে সরকারের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিরোধীদলের আলোচনা প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে সবাই মিলে কাজ করার জন্য আমরা প্রস্তুত।

জ্বালানি সংকট : পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
সংসদে আনীত নোটিশে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বর্তমানে সারা দেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট চলছে। পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মানুষ জ্বালানি পাচ্ছে না, যার ফলে জনজীবনে বহুমাত্রিক সংকট দেখা যাচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, সারাদেশে যখন জ্বালানির জন্য হাহাকার চলছে, তখন সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সংকটের কথা অস্বীকার করে বিভ্রান্তিকর দাবি জানাচ্ছেন। সরকারের এই বাস্তবতাবিবর্জিত ও অস্বীকারের প্রবণতা সংকটকে আরো ঘনীভূত করছে এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও ক্ষুদ্ধ করে তুলছে। তাই বর্তমান সংকটের প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করে এই সংকট নিরসনে সরকারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত সমাধান জরুরি।

নোটিশের জবাবে জ্বালানী মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বিশ্বব্যাপী সংকট চলছে। যে কারণে কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। আবার এ নিয়ে অসাধুমহলের অপতৎপরতা চলছে। তারপরও সরকারের পদক্ষেপে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরেছে। সরকার জনগণের স্বার্থে ও কৃষকের ভর্তুকি নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ দূরদর্শিতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। এরপরও জ্বালানি সংকট নিরসনে কোনো সুপারিশ থাকলে তা নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও তার টিমকে মন্ত্রণালয় বা মন্ত্রীর দপ্তরে আলোচনার আমন্ত্রণ জানান তিনি।

বর্তমানে জ্বালানি তেলের যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তাকে ‘সংকট’ বলতে রাজি নন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি এটাকে সংকট বলতে চাই না। বিরোধীদলীয় নেতা দেশব্যাপী তীব্র জ্বালানি সংকটের কথা বলেছেন, কিন্তু আমি জিজ্ঞেস করতে চাই, জ্বালানির কারণে কি বোরো চাষ ব্যাহত হয়েছে? প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সহনীয় মাত্রায় জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। যদি সংকটই হতো, তবে কি কোনো মিল-ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ হয়েছে? চাষাবাদ, স্কুল-কলেজ, ব্যবসা-বাণিজ্য তো সবকিছুই স্বাভাবিক চলছে। তাহলে সংকট কোথায়?

জ্বালানি তেলের কালোবাজারি ও মজুত প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোথাও কালোবাজারি বা মজুত হলে সেগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাগুলোই (র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি) খুঁজে বের করছে। অনলাইনে তেল বিক্রির কালোবাজারি চক্রকেও ধরা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিন-রাত মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে এবং প্রতিটি ডিপো ও পাম্পে রুটিন মাফিক তদারকি করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করে চলেছি। আগামী শনিবারও এরকম একটি বৈঠকের দিন নির্ধারিত রয়েছে। আমরা প্রতিনিয়ত প্রত্যেকের বুদ্ধি নিচ্ছি, পরামর্শ নিচ্ছি। পরীক্ষামূলকভাবে ফুয়েল পাস আমরা চালু করেছি ঢাকায়। আমরা যেটি সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিতে চাই। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি প্রতিটা জেলা শহরে কিন্তু জ্বালানির ব্যবস্থাপনার চিত্র অনেক উন্নত হয়েছে। স্থানীয় জেলা প্রশাসন পুলিশ প্রশাসন অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তাদের এলাকায় ফুয়েল পাস চালু করে এই ব্যাপারে তারা সুফল লাভ করেছে। আমি নিশ্চিত আগামী শুক্র-শনিবারে আমরা অধিকাংশ নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ফেরত যাবো। নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ফিরে গিয়ে যদি আমরা স্থানীয় জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের সাথে কথা বলে বাস্তব চিত্র সম্পর্কে আমাদের যথার্থ যদি পরামর্শ থেকে আমরা যদি পরামর্শ দেই, নিশ্চয়ই আগামী সপ্তাহে এই চিত্র আরো পাল্টাবে।

পরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান দেশে চলমান জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে পড়ে তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে ৩ জন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান। একইসঙ্গে এই জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি ‘যৌথ কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সরকারি ও বিরোধী দলের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, ‘জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য আমাদের শর্ট টার্ম, মিড টার্ম এবং লং টার্ম স্ট্র্যাটেজি থাকতে হবে। যদি সরকারি দল মনে করে একটি কমন বা যৌথ কমিটি করা দরকার, তবে আমরা তাতে সাড়া দেব। আমাদের কাছে কিছু প্রপোজাল (প্রস্তাবনা) আছে, যা আমরা সরকারের হাতে তুলে দিতে চাই।’

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা বলেন, সব সময় আমার দলের পক্ষ থেকে আমি বলতে পারি দেশ এবং দেশের মানুষের কোনো বিষয় যদি আমাদের সামনে কেউ উপস্থাপন করেন, দেশ এবং দেশের মানুষের স্বার্থের ব্যাপারে কেউ কোনো প্রস্তাবনা দেন, আলোচনা করতে চান, পরামর্শ দেন, সুপারিশ দেন; বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সব সময় প্রস্তুত সেই বিষয়ে আলোচনা করার জন্য। আমরা যে অবস্থানেই থাকি না কেন সব সময় আমরা সেই প্রস্তাব গ্রহণ করতে সেই প্রস্তাবে আলোচনা করতে আমরা রাজি আছি।

‘গুপ্ত’ নিয়ে সংসদে উত্তেজনা
জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভুঁঞা বলেন, সরকারকে নাজেহাল করতে চক্রান্ত চালাচ্ছে বিরোধী দল। আমি বলতে চাই আজকে সংসদে আমাদের বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা যে আচরণ দেখাচ্ছে, এতে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশে আগামী দিনে সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি তারা করতে দেবে না, এটাই প্রতীয়মান হচ্ছে। বিরোধী দলকে আমি এটাও বলে দিতে চাই, আমাদেরকে যারা ভোট দিয়েছে তারা আঙুল চুষবে না, বসে থাকবে না। আমাদের ভোটাররা তাকিয়ে থাকবে না, তারা প্রতিবাদ করবে। এ সময় হট্টগোল শুরু করেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা। তারা ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরাও পাল্টা টেবিল চাপড়ে ওই সংসদ সদস্যকে সমর্থন জানান। এ নিয়ে উত্তেজনা চলাকালে সংসদ সদস্যদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য স্পিকারকে বারবার আহ্বান জানাতে শোনা যায়।

এ সময় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে স্পিকার বলেন, রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন দলের বিভিন্ন মতাদর্শ থাকতে পারে, তাদের কথাবার্তার সবাই সবটাই পছন্দ হবে, এমন কোনো বিষয় নয়। আপনারা বক্তব্যের মাধ্যমে জবাব দেবেন। বক্তব্যের সময় কাউকে অনুগ্রহ করে ডিস্টার্ব করবেন না।

এরপর বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফ্লোর নেন। তিনি বলেন, প্রথমে আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এখানে যে অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, এটা এক্সপ্যাঞ্জ করা হোক। একজন সংসদ সদস্য সংসদের ভেতরে দাঁড়িয়ে যে হুমকির ভাষায় কথা বললেন, আমরা এতে আঘাত পেয়েছি। আমরা আমাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছি। জনগণ বসে থাকবে না মানে কী? তিনি কি জনগণকে বিশৃঙ্খলার দিকে উসকে দিচ্ছেন? এগুলো সংসদীয় আচরণ না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জবাবে স্পিকার বলেন, আমরা পরীক্ষা করে দেখবো, যদি কোনো অসংসদীয় ভাষা থাকে, সেটা এক্সপঞ্জ করবো। তবে যেসব বক্তব্য এসেছে, এটা তো বাংলাদেশের রাজনীতির ভাষা। আমরা চুপ করে থাকবো না। এগুলো তো শত বছর ধরে রাজনীতিবিদরা বলে এসেছেন। আপনারা বক্তৃতার সময় এর জবাব দেবেন, কিন্তু বক্তব্য চলাকালে অনুগ্রহ করে ডিস্টার্ব করবেন না। পরে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল বারী সর্দারকে কথা বলার আহ্বান জানান স্পিকার।

স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে ওয়াদুদ ভুঁঞা বলেন, চট্টগ্রামে সিটি কলেজে ছাত্রদলের ওপর হামলা করেছে কারা? শিবির। কী অপরাধ ছিল ছাত্রদলের? ছাত্রদল শুধু বলেছে, গুপ্ত, লিখেছে গুপ্ত। সেই জন্যই তারা ছাত্রদলের ওপর হামলা করে। এরমাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রের ওপর আঘাত করেছে। বিরোধী দলের ভাইয়েরা ক্ষেপে উঠেছেন, এই সংসদে গণতান্ত্রিকভাবে কথা বলার অধিকার দিতে চায় না। এই সংসদে কথা বলার জন্য আমরা নির্বাচিত হয়ে এসেছি। বিরোধী দলের ভাইয়েরা ফ্যাসিস্টের মতো কণ্ঠ চিপে ধরতে চায়।

পুরোনো সার ডিলারদের নিয়ে উত্তপ্ত সংসদ
বিগত সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া সার ডিলারদের বাতিল করে নতুন করে ডিলার নিয়োগের প্রস্তাবে একমত হয়েছেন সরকার ও বিরোধী দলীয় সদস্যরা। তবে এ নিয়ে আলোচনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জাতীয় সংসদ অধিবেশন। এ বিষয়ে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ উত্থাপন করেন সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান। এর আগে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তৃতা করেন। এক পর্যায়ে পুরোনোদের বাতিল করে নতুন সার ডিলার নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সরকারি মালিকানাধীন গাড়ি চান হাসনাত আবদুল্লাহ
অতীতের মতো ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি নয়, সরকারি মালিকানাধীন গাড়ি চেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি’র (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আমরা নেব না। প্লট সুবিধাটি আমরা নেব না। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এসিল্যান্ডসহ অন্যান্য সরকারি অফিসার সরকারি কার্য পরিচালনা করার জন্য যেভাবে সরকারি একটি গাড়ি পেয়ে থাকেন, ঠিক একই প্রক্রিয়ায় আমাদের যারা সংসদ সদস্য আছে তাদের একটি গাড়ি ব্যবহার দেওয়া যায় কি না, সেটি আমি এই সংসদে আমি জানিয়েছিলাম।

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, এখন সরকারি মালিকানাধীন একটি গাড়ি দেওয়ার কথা বলছি। যতদিন পর্যন্ত এমপি থাকবেন, ঠিক ততদিন গাড়িটি ব্যবহার করবেন এবং সেটির জন্য কিন্তু এক্সট্রা খরচও লাগবে না। সংসদ সদস্যদের ৭০ হাজার টাকা গাড়ি মেইনটেনেন্স করার জন্য দেওয়া হলেও আমার গাড়ি নেই। সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় টেবিল চাপড়ে সংসদ সদস্যরা তাকে সমর্থন জানান।

পাহাড়ে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ চান সংসদ সদস্য
পাহাড়ের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁঞা বলেন, আমি পাহাড়ের জনগণকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। পাহাড়ের জনগণ পাহাড়ি বাঙালি সবাই আমাকে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত করেছে। সেই পাহাড়ের গণমানুষের জন্য, পাহাড়ের শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। কৃষি নির্ভর অঞ্চল সেখানে কৃষকদের প্রাণের দাবি কৃষককে টেকসই এবং আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য ওখানকার মানুষকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অত্যন্ত জরুরি। পার্বত্য জেলার মানুষের চিকিৎসায় কষ্ট দিতে অসহায় লাগে। টারশিয়ারি লেভেলের বিশেষায়িত হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করার জন্য আমি আবেদন জানাচ্ছি।

ডিসেম্বরের মধ্যে পায়রা বন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর প্রত্যাশা
নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যেই পায়রা বন্দরকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে সরকার ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং মূল কার্যক্রমগুলো ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। মন্ত্রী জানান, ২০১৫ সালে যুক্তরাজ্যভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এইচআর ওয়ালিংফোর্ড পায়রা বন্দর স্থাপনের জন্য টেকনো-ইকোনমিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করে, যা স্বাধীনতার পর দেশে সমুদ্রবন্দর নির্মাণের প্রথম উদ্যোগ হিসেবে চিহ্নিত। ২০১৬ সালে ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৯ সালে দুটি বড় দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প—বন্দরের প্রথম টার্মিনাল নির্মাণ এবং সড়ক ও সেতু সংযোগ উন্নয়ন—হাতে নেওয়া হয়। ‘প্রকল্পগুলো যথাক্রমে জুলাই ও ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা,’ তিনি জানান।

‘চট্টগ্রাম বন্দর’ বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেয়ার পরিকল্পনা নেই
নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর’ কোনো বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের নেই। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ) অথবা সরকার কর্তৃক জারিকৃত অথবা অনুমোদনকৃত ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বন্দরের ‘টার্মিনাল’ পরিচালনার লক্ষ্যে অপারেটর নিয়োগ করা হয়। এক্ষেত্রে দেশি এবং বিদেশি উভয় ধরনের অপারেটর বিবেচনা যোগ্য।

তিনি বলেন, বর্তমানে বন্দরের আধুনিকায়ন এবং দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের অব্যাহত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশি বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল পরিচালনা করা হচ্ছে। যেমন বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) এ বিদেশি অপারেটর দ্বারা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন।