নিজস্ব প্রতিবেদক
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রভাব শুরু হয়েছে পরিবহন খাতে। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পণ্য পরিবহনের জন্য ট্রাক ভাড়া বাড়ানো হয়েছে এক লাফে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এর ফলে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাবে। পণ্য কেনায় সাধারণ মানুষের খরচও বেড়ে যাবে অনেক বেশি। যদিও কত টাকা বাড়বে, সে সিদ্ধান্ত এখনও দেয়নি সরকার। তার আগেই ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাক মালিকরা।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বাস ও ট্রাকের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বুধবার জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে সচিবালয়ে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘নতুন ভাড়ার বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০ থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১১৬ থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন দাম গত রবিবার থেকে কার্যকর হয়েছে। এর পরদিনই বেড়েছে ট্রাক ভাড়া।
চট্টগ্রামে বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত
চট্টগ্রামের ভোগ্যপণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। কোনও কোনও ক্ষেত্রে পণ্য পরিবহনে ভাড়া বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাড়তি ভাড়ার কারণে পণ্যের দাম বৃদ্ধিসহ সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী নুরুল আমিন বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার আশুগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় চাল পরিবহনে ট্রাক ভাড়া ছিল ১২-১৩ হাজার টাকা। এই ভাড়া এখন লাগছে ২০-২২ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি ট্রিপে আট হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া বেড়ে গেছে।’
চাকতাই-খাতুনগঞ্জ হামিদুল্লাহ মিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস বলেন, ‘আগে পাবনা থেকে ট্রাকে পণ্য নিয়ে চট্টগ্রামে আসতো ৩০-৩২ হাজার টাকায়। বর্তমানে ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। আগে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পণ্য নিয়ে যেতো ২৭-২৮ হাজার টাকায়। বর্তমানে ৩৫-৪০ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। তেলের সংকট শুরুর পর থেকে বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে। তেলের দাম বাড়ার পর ১০-১২ টাকা বেশি নিচ্ছে। আমরা নিরুপায়। ব্যবসা যেহেতু করছি পণ্য আনতে হবে।’
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে সাড়ে ৮ শতাংশ ফুয়েল সারচার্জ আরোপ করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের বেসরকারি কনটেইনার ডিপোর মালিকদের সংগঠন-বিকডা। রবিবার (১৯ এপ্রিল) রাত থেকে এ চার্জ কার্যকর হলেও সোমবার সকালে স্টেকহোল্ডারদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে রবিবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে নতুন নির্ধারিত মাশুল কার্যকরের কথা জানানো হয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা।
ডিপো মালিকদের সংগঠনের (বিকডা) মহাসচিব রুহুল আমিন শিকদার বলেন, ‘অফডক পরিচালনায় যেসব মেশিনারিজ চলে, তার সবগুলোই জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীল। ডিপো থেকে বন্দরে কনটেইনার জাহাজিকরণ করা হয় লরি দিয়ে। সেগুলোও ডিজেলে চলে। বিশেষ করে, কনটেইনার পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইম মুভার (লরি, লং ভেহিক্যাল) থেকে আইসিডির হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি সবই ডিজেলনির্ভর। সরকার ডিজেলের মূল্য ১৫ শতাংশ (লিটার প্রতি ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা) বাড়ানোর কারণে আইসিডির ডিজেল-নির্ভর খাতগুলোতে সারচার্জ হিসেবে সাড়ে ৮ শতাংশ আরোপ করা হয়েছে। তেলের দাম কমলে আবার এ সারচার্জ কমানো হবে।’
চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, ‘বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলো বন্দরের একটি বর্ধিত অংশ। এনবিআরের নিয়ম আর বন্দর আইনেই এটি পরিচালিত হয়। এখানে এক পয়সা ভাড়া বাড়াতে হলেও বেশকিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। কিন্তু অফডক কর্তৃপক্ষ সাড়ে ৮ শতাংশ সারচার্জ বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনও নিয়ম মানেনি। অন্ততপক্ষে ডিপো ব্যবহারকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় যৌক্তিকভাবে সারচার্জ বাড়ালে বিষয়টি ভালো হতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ট্রাক-কাভার্ডভ্যানগুলোও ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে অতিরিক্ত হারে। এতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।’
চট্টগ্রাম মহানগর ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আমির পারভেজ জনি বলেন, ‘তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ট্রাক ভাড়া বেড়েছে। আগে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পণ্য পরিবহনে ভাড়া ২৭-২৮ হাজার ছিল, তা এখন ৩২-৩৫ হাজার টাকা হয়েছে। তবে যেদিন চাহিদা বেশি থাকে সেদিন ভাড়া ৪০ হাজার পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। আবার ভাড়ার চাপ যেদিন কম থাকে সেদিন গাড়ি ভাড়া কমে যায়।’
রাজশাহীতে বেড়েছে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত
রাজশাহী থেকে ঢাকায় সবজি নিয়ে যেতে ট্রাক ভাড়া বেড়েছে পাঁচ হাজার টাকা। আর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেট পর্যন্ত বেড়েছে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। এতে বড় সংকটে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
একাধিক ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্প্রতি লিটার প্রতি ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বেড়েছে। এতে পরিবহন ভাড়াও বেড়েছে। তেলের দাম বাড়ার আগে রাজশাহী থেকে ঢাকায় ট্রাকের ভাড়া লাগতো ২০ থেকে ২১ হাজার টাকা। তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকায়। একইভাবে চট্টগ্রাম, সিলেট ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা ভাড়া ছিল। এখান ভাড়া দিতে হচ্ছে ৪০-৪২ হাজার টাকা।
সবজি ব্যবসায়ী রিপন বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ায় গাড়িওয়ালারা ভাড়া বাড়িয়েছেন। আগে এক বস্তা পণ্য ঢাকায় পাঠাতে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা লাগতো। এখন সেটা ২৫০ টাকা। ভাড়া বেশি হওয়ায় অনেক জায়গায় পণ্য পাঠানো যাচ্ছে না। ফলে বাজারে কাঁচামালের দামও কমে যাচ্ছে।’
পঞ্চগড় থেকে ডুমুর বালু রাজশাহীতে পরিবহন করেন জয় নামের এক ট্রাকচালক। তিনি বলেন, ‘১০ চাকার ট্রাকে ২০০ লিটার তেল লাগে। ছয় চাকার ট্রাকে ১৬০ থেকে ১৮০ লিটার তেল লাগে। প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বেড়েছে। সেই হিসাবে ভাড়া বাড়বে। তেলের দাম বাড়ার আগে ৩৫-৪০ হাজার টাকা ভাড়া ছিল। এখনে সাত থেকে আট হাজার টাকা বাড়তি নিচ্ছি আমরা।’
ট্রাকচালক মিঠুন বলেন, ‘আগে একবার ট্রাকের তেলের ট্যাংকি ভরতে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা লাগতো। এখন ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকা লাগছে। তারপরও সবসময় ট্যাংকিভর্তি তেলও পাওয়া যায় না। এতে মাঝপথে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকছে। ফলে সাত থেকে আট হাজার টাকা বাড়তি ভাড়া নিতে হচ্ছে।’
ট্রাকমালিক আলী সরদার বলেন, ‘তেল না পাওয়া গেলেও এতদিন পরিবহন খরচ বাড়ছিল না। একটি ট্রাক ঢাকায় যেতে-আসতে প্রায় ১৫০ লিটার ডিজেল লাগে। কিন্তু এক লিটার ডিজেলে বেড়েছে ১৫ টাকা। আগে ঢাকার ভাড়া ছিল ২০ থেকে ২১ হাজার টাকা। এখন ২৪ থেকে ২৫ হাজার নিতে হচ্ছে। আমাদের কিছু করার নেই।’
ট্রাকের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে রাজশাহী জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাইনুল হক মনা বলেন, ‘বাসের মতো ট্রাকের কোনও নির্দিষ্ট ভাড়ার তালিকা নেই। বরং তেলের অতিরিক্ত খরচের ওপর ভিত্তি করে মালিকরা ভাড়া সমন্বয় করেন। দূরত্ব ও তেলের ব্যবহার অনুযায়ী গন্তব্য ভেদে ট্রাকের ভাড়া সাধারণত ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে বাসের তুলনায় ট্রাক ভাড়ার এই হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম।’
সিলেটে ট্রাকের ভাড়া বেড়েছে ১৫-২০ শতাংশ
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সিলেটে ট্রাকের ভাড়া ১৫-২০ শতাংশ হারে বেড়েছে। ঠিকাদার সাজ্জাদুর রহমান দুদু জানান, ঠিকাদারি কাজে তাকে প্রায় ট্রাক ভাড়া নিতে হয়। ইট-বালু-পাথর পরিবহনের জন্য আগে সিলেট-শেরপুর পর্যন্ত যে ট্রাকের ভাড়া ছিল ভাড়া পাঁচ হাজার টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত হাজার টাকা। অর্থাৎ ট্রাক ভাড়া বেড়েছে ১৫-২০ শতাংশ হারে। এ নিয়ে ট্রাক চালকদের সঙ্গে তাদের প্রায় বাগবিতণ্ডা হয়। কিন্তু তারাও নিরুপায়। তেলের দাম বাড়ায় প্রভাব পড়ছে সবকিছুতে।’
সিলেট জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাছুম লস্কর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ট্রাক ভাড়া মূলত অনির্ধারিত। কারণ ট্রাকের কোনও নির্ধারিত ভাড়া নেই। চালক-ভোক্তা আলোচনা করে ভাড়া নির্ধারণ করেন। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে ভাড়া আগের চেয়ে ১৫-২০ শতাংশ হারে বেড়েছে।’
ময়মনসিংহে ভাড়া বেড়েছে পাঁচ হাজার টাকা
ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়া বেড়েছে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত। ফলে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। ভোক্তারা পড়েছেন বিপাকে।
ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় পণ্যবাহী ট্রাকের চালক কামরুজ্জামান বলেন, ‘ডিজেলের দাম বাড়ায় ট্রাক ভাড়াও বেড়ে গেছে। আগে ময়মনসিংহ থেকে মালামাল নিয়ে ঢাকায় গেলে ১৬-১৭ হাজার টাকা লাগতো। এখন মালামাল নিয়ে ঢাকায় গেলে ২২ হাজার টাকা পর্যন্ত লাগতেছে। জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাক যাতায়াতের ট্রিপ সংখ্যাও কমে গেছে। এটি আসলে আমাদের জন্যও ভোগান্তির কারণ।’
নগরীর মেছুয়া বাজারের ব্যবসায়ী কাঞ্চন পাল বলেন, ‘আগে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহে সয়াবিন তেলের ড্রাম আনতে ট্রাক ভাড়া দিতে হতো ১৭-১৮ হাজার টাকা। তেলের দাম বাড়ার পর ২১ থেকে ২২ হাজার টাকা দিতে হয়। তবে পরিবহন ভাড়া বাড়লেও সয়াবিন তেলের দাম কিন্তু বাড়েনি। আগের দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। এভাবে হলে আমরা কীভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করবো।’
তেলের দাম ও পরিবহন ভাড়া বাড়ায় সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে গেছে ইতিমধ্যে। এতে সাধারণ মানুষজন পড়েছেন বিপাকে। নগরীর চরপাড়ার বাসিন্দা সোহেল মিয়া বলেন, ‘আগে থেকেই সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়তি। তেলের দাম বাড়ায় আরেক ধাপ পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। গত রমজানে সবজির যে দাম ছিল, বর্তমানে তা দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে আমাদের। এরকম সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে।’
বরিশালে বেড়েছে চার-পাঁচ হাজার টাকা
বরিশাল থেকে ঢাকায় পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়া বেড়েছে চার-পাঁচ হাজার টাকা। নগরীর একাধিক ট্রাকচালক ও শ্রমিক জানিয়েছেন, আগে বরিশাল থেকে ঢাকায় ট্রাকের ভাড়া ছিল ১৭-১৮ হাজার টাকা। এখন নেওয়া হচ্ছে ২১-২২ হাজার টাকা পর্যন্ত। এক্ষেত্রে ঢাকার পর কিলোমিটার যত বাড়বে ওই হিসাবে ভাড়াও বাড়ছে।
জাকির হোসেনসহ নগরীর একাধিক ট্রাক মালিক জানিয়েছেন, তেলের দাম বাড়ায় ট্রাকের অন্যান্য খরচও বেড়েছে। সড়ক থেকে শুরু করে ট্রাকে থাকা শ্রমিক এবং ট্রাকের যন্ত্রাংশ মেরামতের খরচ বেড়েছে। যার ফলে ভাড়াও চার-পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
ট্রাক মালিকদের ভাড়া বাড়ানোর সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন বরিশাল ট্রাক মালিক সমিতির সহসভাপতি গোলাম রাব্বানী লাবু। তিনি বলেন, ‘আমাদের সংগঠনের মধ্যে যতগুলো ট্রাক রয়েছে, সেগুলোর ভাড়া বাড়ানো হয়নি। আগের ভাড়ায় পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে। তবে সরকারের সঙ্গে ট্রাক মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের বৈঠকের কথা আছে। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে কিলোমিটার প্রতি কত টাকা ভাড়া বাড়বে। সরকারের দেওয়া সিদ্ধান্তের পর পণ্য পরিবহনে ভাড়া বাড়ানো হবে। তবে কিছু ট্রাক আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। এ কারণে তারা সরকারি সিদ্ধান্তের আগে ভাড়া বাড়ালেও কিছু বলতে পারছি না। তবে সরকারি সিদ্ধান্তের আগে ভাড়া বাড়ানো ঠিক হয়নি তাদের। সরকারি সিদ্ধান্তের পরই ভাড়া বাড়ানোর কথা ছিল।’
কুড়িগ্রামেও বেড়েছে
কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী সহিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ায় ট্রাক ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। আগে বন্দর থেকে কুড়িগ্রামে পাথর নিয়ে যেতে সিএফটি প্রতি যে ভাড়া দিতে হতো এখন বেশি না দিলে ট্রাক পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতি ট্রাকে অন্তত ৫০০ টাকা বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে।’
জেলা চেম্বার অব কমার্স এবং ট্রাক-ট্যাংক-লরি-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমরা এখনও ভাড়া বাড়াইনি। তবে তেলের দাম দীর্ঘ মেয়াদে বাড়তি থাকলে ভাড়া বাড়ানো ছাড়া উপায় থাকবে না আমাদের।’


















