জাতীয় ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৯:১১

গুলশানের বাসায় পৌঁছালেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে অবশেষে গুলশানের বাসভবনে পৌঁছেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তিনি গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসায় পৌঁছান। এ সময় রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মী ‘স্বাগতম তারেক রহমান’ স্লোগানে এলাকা মুখরিত করে তোলেন।

এর আগে সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে অসুস্থ মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ ও সময় কাটানো শেষে গুলশানের বাসার উদ্দেশ্যে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

এদিন সন্ধ্যা ৫টা ৫২ মিনিটের দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান তারেক রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের শীর্ষ নেতারা। তারেক রহমান হাসপাতালে আসার কিছুক্ষণ আগে সেখানে পৌঁছান তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান।

বিকেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ৩০০ ফিট সংলগ্ন গণসংবর্ধনা মঞ্চে উপস্থিত হন তিনি। সেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের উদ্দেশে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। জনসমুদ্রে দেওয়া সেই ভাষণে তিনি দেশের গণতন্ত্র রক্ষা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আগামী দিনের বাংলাদেশ নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে তিনি সরাসরি তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন।দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একজন বাংলাদেশি নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতার নিজ ভূমিতে ফেরার এই অধিকারটি পুনরুদ্ধার হওয়া আমাদের গণতান্ত্রিক লড়াইয়েরই একটি ইতিবাচক প্রতিফলন। 

‘তারেক রহমান এবং তার পরিবার রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এবং তাকে দীর্ঘ সময় নির্বাসিত থাকতে হয়েছে। হাজারো শহীদের রক্তদানের মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের ফলে এমন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে যেখানে তিনি ও তার পরিবার দেশে ফিরে আসতে পেরেছেন।’

তিনি আরও লেখেন, আমরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী বাংলাদেশ রাষ্ট্র চাই, যেখানে ভবিষ্যতে ভিন্নমতের কারণে কোনো রাজনৈতিক নেতাদের রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে যেতে হবে না।

​বিগত দেড় দশকের অবরুদ্ধ রাজনৈতিক পরিবেশ ভেঙে আমরা আজ যে মুক্ত বাংলাদেশের পথে হাঁটছি, সেখানে প্রতিটি নাগরিকের আইনের শাসন ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চাকে আরও সুসংহত করবে জানিয়ে তিনি বলেন, ​নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সহাবস্থান এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এখন আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। তারেক রহমানকে স্বদেশে স্বাগত জানাই। দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে তার এই অংশগ্রহণ ফলপ্রসূ হোক।