জাতীয় ৮ আগস্ট, ২০২৪ ০২:২১

শিক্ষার্থীরা এ দেশকে নতুনভাবে পুর্নজন্ম দিয়েছে: ড. মুহাম্মদ ইউনুস

নিজস্ব প্রতিবেদক
ড. মুহাম্মদ ইউনুস বলেছেন, আজকে আমাদের গৌরবের দিন। যে বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশ আজকে নতুন বিজয় দিবস সৃষ্টি করলো। সেটাকে সামনে রেখে আরো মজবুত করে আমাদেরকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।  যে তরুণ সমাজ এটা সম্ভব করেছে তাদের প্রতি আমার সমস্ত প্রশংসা এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।  এরা এই দেশকে রক্ষা করেছে। এ দেশকে নতুনভাবে পুর্নজন্ম দিয়েছে। এই পুর্নজন্মে যে বাংলাদেশ পেলাম, সে বাংলাদেশ জন্য অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলতে পারে, এটি হলো আমাদের শপথ। এটা আমারও রক্ষা করতে চাই। এগিয়ে যেতে চাই। 

আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টা ১০ মিনিটে তাকে বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইনসের বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে  অবতরণ করে। বিমানবন্দরের এসেই সাংবাদিকদের সঙ্গে তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়া তিনি এসব কথা বলেন।  

ড. মুহাম্মদ ইউনুস  বলেন, আজকে আবু সাঈদের কথা মনে পড়ছে আমাদের। যে আবু সাঈদের ছবি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের মনে ঘেতে আছে। কি অবিশ্বাস্য একটি সাহসী যুবক। বন্ধুকে সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আর পর থেকে কোন যুবক যুবতী আর হার মানে নাই। সামনে এগিয়ে গেছে।  বলেছে যতগুলি মারুক আমরা আছি। যার কারনে সারা বাংলাদেশ জুড়ে এই আন্দোলন ছড়িয়ে গেছে। যার কারণে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীনতা অর্জন করল।  

তিনি আরো বলেন, এই স্বাধীনতা আমাদেরকে রক্ষা করতে হবে। শুধু রক্ষা করা নয়, এই স্বাধীনতার সুফল প্রতিটি মানুষের ঘরে দেওয়া, তা না হলে এই স্বাধীনতার কোন দাম নাই।  এই স্বাধীনতার সুফল ঘরে পৌঁছে দেওয়াই হলো আমাদের শপথ আমাদের প্রতিজ্ঞা। মানুষ যেন জানে যে, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার অর্থ হলো তার নিজের পরিবর্তন। ব্যক্তির পরিবর্তন, সুযোগের পরিবর্তন, তার ছেলে মেয়ের ভবিষ্যতের পরিবর্তন,এটা যেন প্রত্যেককে বুঝে নেয়। আজ দেশ তরুণ সমাজের হাতে। তোমাদের দেশ তোমরা মনের মত করে গড়ে তুলবে। তোমরা যেহেতু স্বাধীন করতে পেরেছ, তোমারও মনের মত করে গড়ে তুলতে পারবে। তোমাদের দেখে সারা দুনিয়া শিখবে, কিভাবে একটা ড্যাস একটা তরুণ সমাজ ঘর গড়ে তুলতে পারে।


ড. মুহাম্মদ ইউনুস বলেন, আমাদের কাজ হলো তারা যে অর্জন করে নিয়ে আসে সেটাকে তাদোকে দিয়েই গড়িয়ে দেওয়া। আমাদের সমস্ত কাঠামোগুলো পরিষ্কার করে দেওয়া। সরকার বলেছে একটা জিনিস আছে, যা মানুষের কোন আস্থা নেই। মানুষ মনে করে সরকার একটা দমনপীরণের যন্ত্র। যেখানে সুযোগ পায় সেখানে মানুষকে কষ্ট দেয়। এটা সরকার হতে পারে না। সরকারকে দেখলে মানুষের বুক ফুলে উঠবে। যে আমাদের সাহায্য করবে, যে আমাদের রক্ষা করবে। এই সরকার হবে যে সরকার মানুষকে রক্ষা করে। আস্থাভাজন হবে।  মানুষ যেন বিশ্বাস করে যে সরকার আমার লোক, সেই আস্থাটা ফিরিয়ে আনতে হবে। 

তিনি আরো বলেন, সারা বাংলাদেশ একটা বড় পরিবার। এই পরিবারে আমরা একসঙ্গে চলতে চাই। আমাদের সঙ্গে দ্বিধাদ্বন্দ্ব যা আছে সরিয়ে ফেলতে চাই। যারা বিপথে গেছে তাদেরকে পথে আনতে চাই। যাতে করে একসঙ্গে কাজ করতে পারি। শুনে আসলাম যে আইন-শৃঙ্খলা ব্যাঘাত ঘটছে। মানুষকে আক্রমণ করতে। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে। অফিস-আদালত আক্রমণ করছে। সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ করছে। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান সবার উপর আক্রমণ করছে। এগুলো হলো ষড়যন্ত্রের অংশ। এগুলো আমাদের বিষয় না। আমাদের কাজ হলো সবাইকে রক্ষা করা। প্রতিটি মানুষকে রক্ষা করা, প্রতিটি মানুষ আমাদের ভাই। একটা শৃঙ্খলা ফিরে আসে।  

নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বিশৃঙ্খলা এবং সহিংসতা এগুলো হলো অগ্রগতির বড় শত্রু। আমাদের যে যাত্রা শুরু হলো সেই যাত্রার শত্রু।  এই শত্রুকে যাতে রোধ করা যায়।  তাদেরকে বুঝিয়ে শুনিয়ে হোক, আইন-শৃঙ্খলার হাতে দিয়ে হোক, তাদেরকে মেরে বুঝাতে হবে এটা ঠিক না। বিশৃঙ্খলা নিজের হাতে ঠিক না। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এমন তবে যে তাদের হাতে সৌপদ করলে একটা বিহিত হবে। এমন না যে, তাদের হাতে দিয়ে দিলাম তারা দু-চার টাকা খেয়ে ছেড়ে দিল। এটা যেন আবার না হয়৷ এই আস্থাটা আমাদের আনতে হবে।  আইন শৃঙ্খলা ঠিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অগ্রগতি পদক্ষেপ পারবো না। 

‘আপনারা আমার উপর আস্থা রেখে ছাত্ররা আমাকে আহ্বান করেছে, আমি সাড়া দিয়েছি। দেশবাসীর কাছে আমার আবেদন, আপনারা যদি আমার উপর বিশ্বাস রাখেন,তাহলে নিশ্চিত করেন, দেশের কোন জায়গা কারো উপর হামলা হবে না। এটা আমাদের প্রথম দায়িত্ব। আমার কথা না শুনলে আমার প্রয়োজন এখানে নাই। আমাকে বিদায় দেন, আমি আমার কাজ নিয়ে থাকি, কাজে ব্যস্ত থাকি। যদি আমাকে প্রয়োজন মনে করেন তাহলে আমাকে দেখাতে হবে যে আমার কথা আপনারা শুনেন। প্রয়োজন নাই। আমার প্রথম কথা হল আপনারা বিশৃঙ্খলা থেকে দেশকে রক্ষা করুন।