জাতীয় ৩ অক্টোবর, ২০২৩ ০১:৪৪

রাজধানীতে

পুরুষের তুলোনায় নারীরা কেন বেশি ঝুঁকছে তালাকে?

আমাদের কাগজ ডেস্ক : শিরিন আক্তার, পাঁচ বছর আগে বিয়ে করেন। সংসার ও চাকরি একসঙ্গে বেশ চলছিল। একসময় স্ত্রীর চাকরিটা মেনে নিতে পারছিলেন না স্বামী। তিনি চাচ্ছিলেন, শিরিন চাকরিটা ছেড়ে দিয়ে সংসারে মনোযোগী হোক। শুরু হয় সংসারে অশান্তি। 

সবশেষ চলতি বছরের শুরুর দিকে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় তাদের। এখন ৩ ছেলেসহ একাই থাকে শিরিন। তবে, চালিয়ে যাচ্ছেন চাকরিটা।

দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির মতোই বাড়ছে তালাক হওয়া মানুষের সংখ্যা। যা একটু ঘুরে তাকালে রাজধানীতে এ সংখ্যা বেশি। 

দেশে দিনদিন তালাক হওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। রাজধানীতে এ সংখ্যা বেশি। গেল বছর ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে তালাকের আবেদন আসে ১৩ হাজার ২৮৮টি। এর মধ্যে উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় পাঁচ হাজার ৫৯০টি, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সাত হাজার ৬৯৮টি।

ব্যক্তিগত সমস্যা হোক কিংবা পারিবারিক ছোট-বড় নানা কারণে রাজধানীতে তালাকের সংখ্যা বাড়ছে। সংসার থেকে স্বামী-স্ত্রী আলাদা হচ্ছেন। 

তালাকের কিছু কারণ তুলে ধরা হলো:  সংসারে উদাসীনতা,পুরুষত্বহীনতা, শারীরিক চাহিদায় অপূর্ণতা,পরকীয়া, মাদকাসক্ত, চাকরি বা অন্য কিছুর সঙ্গে জড়িত হওয়া, সময় না দেওয়া, নির্যাতন, যৌতুক, মানসিক পীড়ন, বেপরোয়া জীবন, বদমেজাজ ও সন্তান না হওয়া প্রভৃতি

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে প্রতিনিয়ত তালাকের সংখ্যা বাড়ছে। যার সবচেয়ে বেশি প্রবণতা দেখা গিয়েছে রাজধানীতে। 

রাজধানীর দক্ষিণ রায়ের বাজারে বসবাসরত রেশমা। স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়েছে বেশ কয়েক বছর। একটি ছেলে সন্তানও আছে। 

সেই সন্তানসহ রেশমা রাজধানীতে একাই থাকে। পেশায় একজন গার্মেন্টস শ্রমিক হিসেবে কর্মরত আছেন তিনি। তিনি আমাদের কাগজকে বলেন, 
‘বলা যায়, পরিবারের অমতেই আমাদের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর বুঝতে পারি আমার স্বামী অন্য নারীতে আসক্ত। রাতভর মোবাইলে কথা বলে, চ্যাট করে। এমনকি ভিডিও কলে কথা বলে। আমি বুঝতে পারলেও সে কিছু মনে করে না।’

‘এ ছাড়া, সংসারে সেভাবে কোনো টাকা দিত না সে। এসব নিয়ে অশান্তি শুরু হলে একপর্যায়ে আমরা আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেই। আমি এখন একটা ছোট চাকরি করি। আমার ছেলেটাকে মানুষ করছি। বাবা-মায়ের সঙ্গে আছি। মনে হচ্ছে, আগের সংসার জীবনের চেয়ে এখন ভালোই আছি। নিজের শখ-আহ্লাদ মিটিয়ে কেটে যাচ্ছে দিন।’

২০২২ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মোট তালাকের সংখ্যা সাত হাজার ৬৯৮টি। এর মধ্যে স্ত্রীর মাধ্যমে তালাক হয়েছে পাঁচ হাজার ৩৮৩টি। স্বামীর মাধ্যমে তালাকের সংখ্যা দুই হাজার ৩১৫টি।২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকা ‍দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মোট তালাক হয়েছে ৬৫০টি। এর মধ্যে স্ত্রীর মাধ্যমে তালাকের ঘটনা ৪৫০টি আর  স্বামীর মাধ্যমে ২০০টি

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর গত জুন মাসে প্রকাশ করা জরিপের ফল অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে তালাকের সংখ্যা বেড়েছে। গত এক বছরে তালাকের হার বেড়েছে ১.৪ শতাংশ। যা আগে ছিল ০.৭ শতাংশ। এ সময় ঢাকায় গড়ে ৪০ মিনিটের ব্যবধানে একটি করে তালাকের ঘটনা ঘটেছে
পরিসংখ্যান কী বলছে

গত বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মোট তালাকের সংখ্যা সাত হাজার ৬৯৮টি। এর মধ্যে স্ত্রীর মাধ্যমে তালাক হয়েছে পাঁচ হাজার ৩৮৩টি। স্বামীর মাধ্যমে তালাকের সংখ্যা দুই হাজার ৩১৫টি। অর্থাৎ পুরুষের চেয়ে নারীরা তালাক বেশি দিয়েছেন।

২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকা ‍দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মোট তালাক হয়েছে ৬৫০টি। এর মধ্যে স্ত্রীর মাধ্যমে তালাকের ঘটনা ৪৫০টি আর স্বামীর মাধ্যমে ২০০টি। অন্যদিকে, পূর্ণ তালিকা প্রস্তুত শেষ না হলেও খসড়া হিসাবে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রতি মাসে ৪০০ থেকে ৭০০টি করে তালাকের ঘটনা ঘটেছে। এখানেও তালাক প্রদানে এগিয়ে নারীরা।

আমাদেরকাগজ/এমটি