জাতীয় ১৯ জুন, ২০২৩ ০৪:২৫

ডা. সংযুক্তা সাহার কারণেই আজ এই অবস্থা: সেন্ট্রাল হাসপাতাল

আমাদের কাগজ রিপোর্ট: নবজাতকসহ না ফেরার দেশে পাড়ি জমানো মাহবুবা রহমান আঁখির চিকিৎসায় নিজেদের গাফিলতির কথা স্বীকার করেছে সেন্ট্রাল হসপিটাল কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে আঁখির মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশও করেছে হাসপাতালটি। প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর ডা. এ টি এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘গাফিলতির প্রথমেই আছেন হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সংযুক্তা সাহা। তার কারণেই আজকের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সোমবার (১৯ জুন) দুপুরে সেন্ট্রাল হাসপাতালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। 


নজরুল ইসলাম জানান, ‘আঁখির চিকিৎসায় অবশ্যই গাফিলতি ছিল। গাফিলতি ছিল প্রথমত ডা. সংযুক্তা সাহার, তারপর ওটির চিকিৎসকদের, কারণ সে সময় তারা সিনিয়র ডাক্তারদের ডাকেননি। যদিও তারা বলছে যে ফোনে পাওয়া যায়নি, দেরি করে এসেছেন।’ 


নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। সাত কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন আসার কথা। ইতোমধ্যে পাঁচ দিন চলে গেছে, আর বাকি আছে দুই দিন। আশা করছি, এই সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা সম্ভব হবে।’

হাসপাতালের পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের তদন্ত কার্যক্রম তো এখনও শেষ হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদনের রিপোর্ট এলেই আমরা একটা অ্যাকশনে যাবো।’


তিনি বলেন, ‘একটি বিষয় পরিষ্কার যে, সংযুক্তা সাহার কারণেই আজ এই ঘটনা ঘটলো। উনি একসঙ্গে এত বেশি রোগী দেখেন...। শুরু থেকে যদি ক্লিয়ার করে দেওয়া হতো, তাহলে হয়তো রোগী তার অধীনে ভর্তি হতো না। আমাদের আরও কনসালটেন্ট ছিল, অথবা অন্য কোথাও যেতো। ফল্ট তা তো তার কারণেই হয়েছে।’ 

ডা. সংযুক্তা সাহা ওইদিন হাসপাতালে থাকবেন না, সেটি তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানাননি বলে দাবি করেন ডা. এ টি এম নজরুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি জানতাম তিনি কর্মস্থলে নেই, তাহলে তার রোগীদের জন্য আমরা বিকল্প চিকিৎসকের ব্যবস্থা রাখতাম। কিন্তু তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই দেশের বাইরে চলে গিয়েছিলেন। সুতরাং এ ঘটনাটি আমরা মনে করি, তার জন্যই হয়েছে। এমনকি যারা রোগীদের ইনফরমেশন দিয়েছেন, তারা হাসপাতালের স্টাফ নন। তারা সংযুক্তি সাহার পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট, সুতরাং এর দায় সম্পূর্ণ সংযুক্তা সাহার।’

একজন চিকিৎসকের পক্ষে প্রতিদিন দেড়শো থেকে দুইশো রোগী দেখা আসলে কতটা সম্ভব— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আসলে মানসম্পন্ন সেবা দিতে গেলে একজন চিকিৎসকের দৈনিক এত রোগী দেখা সম্ভব নয়। কিন্তু সংযুক্তা সাহা দেখতেন, কী বলবো আর এটি নিয়ে।’

হাসপাতাল প্রশাসন কি তাহলে এ বিষয়গুলো এতদিন জানতো না—  এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার জানা নেই। ডাক্তারের কাছে এলে চিকিৎসা তো মূলত তারাই দেয়। তারপর কোনও একটা ইনসিডেন্ট ঘটলেই সেটা আমাদের কাছে আসে। বাইরে বিষয়গুলোতে আমাদের অবগত করা হয় না। এজন্যই আমরা এই বিষয়গুলো জানতে পারিনি।’

 

 

আমাদের কাগজ/টিআর