সন্ধ্যায় উৎপাদনের অপেক্ষায় রামপাল
আমাদের কাগজ রিপোর্ট: কয়েক দিন ধরে রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্টার্টআপ অর্থাৎ ফুল লোড প্রক্রিয়া চলছে। এ প্রক্রিয়া শেষে বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে আসার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে তা অনিশ্চিত বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।
রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, বন্ধের পর পুনরায় উৎপাদনে যাওয়ার জন্য গত দুই-তিন দিন ধরে স্টার্টআপ/ফুল লোড প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখানে নানা টেকনিক্যাল প্রসেস রয়েছে। এ সব প্রক্রিয়া শেষে বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ পুনরায় পুরোপুরি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে তা সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এটি সম্ভাব্য সময়, এ সময় কমতে ও বাড়তে পারে। আর মূলত উৎপাদনের বিষয়টি নির্ভর করছে বিদ্যুতের চাহিদার ওপর। চাহিদার ভিত্তিতেই লোড প্রক্রিয়া চালানো হবে।
তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে আমদানি করা কয়লা সংরক্ষণে চার শেডের সক্ষমতা রয়েছে ১০ লাখ মেট্রিক টন। তবে বর্তমানে দুটি শেড প্রস্তুত রয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত এ কেন্দ্রের শেডে ৩০/৩৩ হাজার মেট্রিক টন কয়লা মজুত রয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ফুল লোডে প্রতিদিন কয়লার চাহিদা রয়েছে সাড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার মেট্রিক টন। আগামী ১৬ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৫০/৫১ হাজার মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে একটি বিদেশি জাহাজ মোংলা বন্দরের ফেয়ারওয়েতে আসার শিডিউল রয়েছে।
উল্লেখ্য, কয়লা সংকটে গত ১৪ জানুয়ারি বন্ধ হয়ে যায় রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। এরপর গত ৮ ফেব্রুয়ারি ইন্দোনেশিয়া থেকে বিদেশি জাহাজ এম,ভি স্পাইনেলে ৩৩ হাজার মেট্রিক টন কয়লা আসার পর সেই জ্বালানি সংকটের কিছুটা নিরসন হয়।
মূলত রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১৩২০ মেগাওয়াটের মধ্যে ৬৬০ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিট পরীক্ষামূলক চালু হয় গত বছরের আগস্টে। এরপর ডিসেম্বর পুরোপুরি চালু হলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয় জাতীয় গ্রিডে। আর বাকি ৬৬০ মেগাওয়াটের দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে আগামী জুন-জুলাইতে।
আমাদের কাগজ/টিআর