জাতীয় ৭ অক্টোবর, ২০২২ ০৩:৩৩

‘সম্মান না দেখানোয় কুপিয়ে হত্যা করা হয় রাকিবকে’

র‌্যাব-৪ এর সিও ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক

র‌্যাব-৪ এর সিও ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পল্লবীর সি-ব্লকে ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী রাকিবের (১৬) ওপর কিশোর গ্যাং ‘জুনিয়র গ্রুপের’প্রধান রমজান ও আল-আমিনসহ অন্যান্য সহযোগীরা হামলা করে। হামলাকারীরা পেছন থেকে ভুক্তভোগীর পিঠে চাকু দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে মোবাইল ও মানিব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। এমন ঘটনায় ৫ জনকে আটক করেছে র‌্যাব।  

রাজধানীর পল্লবীর চাঞ্চল্যকর এসএসসি পরীক্ষার্থী রাকিবের ওপর সশস্ত্র হামলা করে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি চিহ্নিত কিশোর গ্যাং নেতা রমজান ও আল আমিনসহ ৫ জনকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৪)।

শুক্রবার (৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানান র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক।

বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, ঢাকার আশুলিয়া, যশোর এবং ঝালকাঠিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত কিশোর গ্যাং জুনিয়র গ্রুপের প্রধানসহ ৫ আসামিকে আটক করা হয়। আটক আসামিরা হলো- মো. রমজান (২০), আল আমিন (২০), ইসমাইল হোসেন ওরফে পপকন (১৮), বিজয় (১৭) ও মো. ইয়াসিন আরাফাত ওরফে সাইমন (১৭)।  

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪ এর সিও ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক বলেন, আটককের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ভুক্তভোগী রাকিব ও আটক আসামিরা মিরপুর-১২ এলাকার বাসিন্দা। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং মাদকের অপব্যবহারসহ গ্যাং কালচারের প্রবণতা আছে। সেখানে ‘সিনিয়র গ্রুপ’ ও ‘জুনিয়র গ্রুপ’ নামে দুটি পৃথক কিশোর গ্যাং রয়েছে। যারা এলাকায় ইভটিজিং, ছোটখাট ছিনতাইসহ মাদক সেবন ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে লিপ্ত থাকে। দুইটি গ্রুপ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সার্বক্ষণিক দাঙ্গা-হাঙ্গামা করতো।  

ভুক্তভোগী রাকিবের সিনিয়র গ্রুপের সঙ্গে চলাফেরা ছিল এবং আটক আসামিরা জুনিয়র গ্রুপের সদস্য। ঘটনার কয়েকদিন আগে জুনিয়র গ্রুপের সদস্য আসামি রমজান, আল আমিন, বিজয়, ইয়াসিনসহ আরও ৫/৬ জন মিলে মিরপুর-১২, ডি ব্লকে ধুমপান করছিল। তাদের পাশ দিয়ে সিনিয়র গ্রুপের কয়েকজন সদস্য গেলে আসামিরা তাদের ‘সম্মান’ দেখায়নি। তখন সিনিয়র গ্রুপের সদস্যরা তাদের হুমকি-ধমকি দেওয়াসহ চর-থাপ্পর মারে। তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তিও হয়।  

তিনি বলেন, পরে এই ঘটনার রেশ ধরে গত ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পল্লবী এলাকার কাটা গলিতে জুনিয়র গ্রুপের ১২/১৫ জন সদস্য দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র (ছুরি, সুইস গিয়ার, হকি স্টিক, এসএস পাইপ, লোহার রড) নিয়ে ভুক্তভোগী রাকিবকে একা পেয়ে পথরোধ করে। আসামি রমজান হত্যার উদ্দেশ্যে রাকিবকে পেছন থেকে পিঠে উপূর্যপুরি চাকু দিয়ে আঘাত করে। আল আমিন, বিজয়, ইয়াসিনসহ অন্যান্য আসামিরা তাকে চর, কিল-থাপ্পরসহ উপূর্যপুরি আঘাত করে গুরুতরভাবে জখম করে পালিয়ে যায়।  

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, আটক প্রধান আসামি রমজান, রাজধানীর পল্লবী থানাধীন সেকশন ১২ এর ৩ নম্বর রোডে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করে। তার বাবা এলাকায় ফেরি করে মুরগি বিক্রি করে। আসামি রমজান ৭ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করে এখন জুনিয়র কিশোর গ্যাং গ্রুপের প্রধান হিসেবে প্রকাশ্যে ইভটিজিং, ছিনতাই, মাদক সেবনসহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে মারামারিসহ অন্যান্য অপরাধে জড়িত। মাদকসেবী হওয়ায় মূলত মাদকের অর্থ যোগানের জন্য নানাবিধ অপকর্মে চালায় সে।

আটক আসামি আল আমিন স্থানীয় একটি স্কুল থেকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। বর্তমানে জুনিয়র কিশোর গ্যাং গ্রুপের নেতৃত্বস্থানীয় সদস্য হিসেবে প্রকাশ্যে ইভটিজিং, ছিনতাই এবং মাদক কারবারির সঙ্গে জড়িত আছে বলে জানা যায়। সে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সেবন করে থাকে। আটক হওয়া ইসমাইল হোসেন ওরফে পপকন স্থানীয় একটি স্কুলের ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। এলাকায় সে জুনিয়র কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্য হিসেবে ইভটিজিংসহ অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত আছে বলে জানা যায়।  

সিও ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, আটক আসামিদের প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য পল্লবী থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়াও এই হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের আটকরের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আমাদের কাগজ//জেডআই