????????? ১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৭:২৬

বিজয়ের ৪৯ বছরে কোথায় বাংলাদেশ?

হাসান শাওন ।।
শুরু হয়ে গেল ডিসেম্বর। বাঙালির বিজয়ের মাস। ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যা শুরুর পর পাল্টা আঘাত হানে মুক্তিবাহিনী। ভারতীয় মিত্র বাহিনীর সহযোগিতায় গেরিলা যুদ্ধে কাবু হয়ে পড়ে পাক সেনাবাহিনী। ডিসেম্বরের শুরু থেকেই একে একে মুক্ত হতে শুরু করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। মুক্তিযোদ্ধারা এগুতে থাকে ঢাকার দিকে। এরপর আসে ১৬ ডিসেম্বর। পাকিস্তান বাহিনী আত্মসমর্পনে বাধ্য হয়। একটি জাতি রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জন্ম হয়। 

স্বাধীনতার এই প্রায় অর্ধ শতক পর বাংলাদেশ এখন উন্নতির রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশের জিডিপি বেড়েছে। মাথা পিছু আয় ও গড় আয়ু ক্রমশ বেড়েছে। শিশু মৃত্যু, মাতৃ মৃত্যু কমেছে।  নারীরা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। শিক্ষার হার বেড়েছে। প্রবাসীরা বাংলাদেশকে গর্বিত করছেন নানা উপলক্ষে। এই সবই ইতিবাচকতা। 

কিন্তু মানতে হবে অনেক প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সুফল সবার ঘরে পৌছায়নি। এখনও আইনের শাসন পুরোপরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি দেশে। সামাজিক ন্যায় বিচার অর্থে সমাজতন্ত্র থেকে দেশ এখনও বহু দূরে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈরাজ্য মন খারাপ করে দেয়। নারীর উপর সংহিষতা বন্ধ হয়নি পুরোপরি। ধনীরা আরও ধনী হচ্ছেন। গরীবরা তলানিতে পড়ে আছেন। পাহাড় ও সমতলে নৃগোষ্ঠীদের ওপর নিপীড়ন চলে। তাই স্বাধীনতা সবার কাছে অর্থবহ হয়নি আজও। 

তাই নাগরিকরা বিজয়ের এই মাসে প্রত্যাশা করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো যেন কার্যকর থাকে। এখন ভিন দেশীরা নেই। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যেন নিজ দেশের জনগণের সেবায় আরও সক্রিয় থাকে এই প্রত্যাশা সবার। এগুলো হলেই বিজয় উদযাপন করা হবে সম্মিলিতভাবে। আমরা সেদিনেরই অপেক্ষায়।