????????? ৩০ নভেম্বর, ২০১৯ ০৪:৪২

স্বাপ্নিক আনিসকে ভুলবে না ঢাকা

পিতৃ পুরুষের ব্যবসা নয়। সফল হয়েছিলেন নিজের তিল তিল পরিশ্রমে গড়ে তোলা বাণিজ্যে। এরপর নানা বণিক সংগঠনের নেতৃত্বে। কিন্তু একটা অতৃপ্তি যেন তার মধ্যে ছিল। চাচ্ছিলেন আরও বড় কোনো দায়িত্ব সামলাতে। 

দেশ বিদেশে বহু জায়গায় ঘুরেছেন। কিন্তু নিজের শহরের দীনতা তিনি মানতে পারেননি। তাই ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১৫ সালে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ডিএনসিসির মেয়র নির্বাচিত হন আনিসুল হক। 

নির্বাচনের সময় তিনি বলেছিলেন, সমস্যা সনাক্ত। এবার সমাধান যাত্রা। দায়িত্ব পেয়ে এর প্রমাণও রেখেছেন। গুলশানের বাস সার্ভিস, তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড উচ্ছেদ, শহরে সবুজায়ন, জলাশয় রক্ষা, ইউ লুপের ধারণা বাস্তবায়ন এমন অগণিত কাজের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন। 

অফিসে নয় নগরবাসিকে সেবা দিতেন তাদের পাড়া মহল্লায় আর বাসায় গিয়ে। করিৎকর্মা বলে বাংলা ভাষায় যে শব্দটি আছে সেটি যেন আনিসুল হকের জন্যই প্রযোজ্য। অল্প সময়েই শহরবাসির মন জয় করেছিলেন এই এক কালের জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক। দূর্দশাগ্রস্থ শহরে তিনি ছিলেন ত্রাণকর্তা। 

২০১৭ সালের ২৯ জুলাই ব্যক্তিগত সফরে সপরিবারে লন্ডনে যান তিনি। সেখানেই সেরিব্রাল ভাসকুলাইটিসে (মস্তিষ্কের রক্তনালির প্রদাহ) আক্রান্ত হন। 

এরপর ১৩ আগস্ট তাকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মেয়র আনিসুল হক।

এরপর আনিসুল হকের মরদেহ ঢাকায় আসে। নগর পিতার জানাজায় নামে ঢল। কেউ মেনে মেনে নিতে পারেননি এমন চলে যাওয়া। 

বসবাসের অযোগ্য শহরে যেকোনো অপ্রাপ্তিতে মানুষ এখন আনিসুল হককেই খোঁজে। তার বিকল্প নেই। তার স্বপ্ন বাস্তবায়নেই মিলবে ঢাকাবাসির মুক্তি। তিনি হয়ে আছে মৃত্যুঞ্জয়ী। তাকে মনে পড়ে ক্ষণে ক্ষণে এই নষ্ট শহরে।