????????? ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০৩:২৮

মাইনুদ্দিন হাসান চৌধুরী - অজানা কথা

আমাদের প্রানপ্রিয় জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একটি ক্রান্তিলগ্নে আমার ভাই মাইনুদ্দিন হাসান চৌধুরীকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভাপতি করেছিলেন সরাসরি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়ে এসে। সৌদিআরবের মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবে এপয়েন্টমেন্ট লেটার তখন তাঁর হাতে। কিন্তু ছাত্রলীগের মতো গৌরবোজ্জ্বল একটি সংগঠনের নেতৃত্ব গ্রহণ করাটাই তিনি সমীচীন মনে করেছিলেন এবং দায়িত্ব পাওয়ার পর হতেই অত্যন্ত সততা , ন্যায় নিষ্ঠা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা দিয়ে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে একটি ভিন্নমাত্রিক আবহ সৃষ্টি করেছিলেন।

তার সমসাময়িক কেন্দ্রীয়, বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেলে যারা রাজনীতি করতেন তাদের সবার কাছেই মাইনু ভাই অত্যন্ত একজন পরিমার্জিত এবং গ্রহণযোগ্য রাজনীতিবিদ হিসেবে হৃদয়ে আজো স্থান করে আছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক আড্ডায় আজো মাইনুভাইয়ের নাম অত্যন্ত শ্রদ্ধা, সম্মান আর ভালোবাসার সাথে আলোচনা হয়। সবাই আফসোস করেন তাঁদের সেই প্রিয় মানুষটি আজ কোন রাজনৈতিক পদে নেই।

তিনি ১৯৯২ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ার পর সাতকানিয়ার মতো জামাত অধ্যূষিত এলাকায় তার প্রখর সাংগঠনিক দক্ষতা আর অসাধারণ বাগ্মিতায় সাতকানিয়া লোহাগাড়ার একটি বিশাল ছাত্রসমাজ ছাত্রলীগে যোগ দেন এবং তার নিরলস পরিশ্রমে এবং পরিচর্যায় বেড়ে উঠে অসংখ্য নেতা কর্মী যাদের অনেকেই আজ কেন্দ্রীয় , জেলা ও উপজেলা আওমিয়ামীলীগ নেতা। অনেকে আবার হয়েছেন জনপ্রতিনিধিও।

মাইনুদ্দিন হাসান চৌধুরীর সততা , রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতার প্রতিদান স্বরূপ জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে ১৯৯৬ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ থেকে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন দেন। ১/১১ এর সময় সাতকানিয়ায় একমাত্র আমাদের বাড়ীতে আমার বড় ভাইকে গ্রেফতার করার জন্য তিন তিনবার যৌথবাহিনী অভিযান পরিচালনা করে। বড়ো ভাইকে না পেয়ে আমার বৃদ্ধ বাবা-মাকে অপমান করে এবং আমার বাড়িতে অবস্থানরত ভাই বোরহানকে থানায় নিয়ে যায়। ওই সময়ের প্রতিটা দিন আমরা আতঙ্কে থাকতাম আজ রাতেও মনে হয় আর্মি আসবে এই ভেবে!

সাতকানিয়া লোহাগাড়া একসময় মৃত্যু উপত্যকা সাতকানিয়া নামে পরিচিত ছিল সেই সময় এক মাইনু ভাই পুরা সংগঠনকে সুসংগঠিত করে বিরোধীদলের আগ্রাসন মোকাবেলা করেছেন। ঐ সময়কার সাতকানিয়ার সাধারন মানুষও এসবের সাক্ষী। কিন্তু মাইনুদ্দিন হাসান চৌধুরীর প্রতি শেখ হাসিনার আস্থা এবং বিশ্বাস তাঁর সমসাময়িক অনেক রাজনীতিবিদরা মেনে নিতে পারেনি এবং হিংসার আগুনে পুড়ে তখন থেকেই শুরু হয় ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার। একটা সিন্ডিকেট তৈরী হয় ঐ সময় কিভাবে মাইনুকে কাবু করে কেন্দ্রীয় রাজনীতি থেকে বিতাড়িত করে নিজেদের পথ সুগম করা যায়। নেত্রীর কাছে কারণে অকারণে ইনিয়ে বিনিয়ে বিভিন্ন রকম বানোয়াট গল্প বলে ধীরে ধীরে নেত্রীকে বিরাগভাজন করে তুলেন এবং ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হলেন।

এই মানুষটিকে নিজের ভাই হিসেবে বিবেচনা না করে যদি শুধু একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে বিবেচনা করি এবং তার কর্মযজ্ঞকে আলোচনা করি তাহলে দেখতে পাই তিনি একজন সম্পূর্ণ নির্লোভ এবং নিরহংকার একজন মানুষ। ক্ষমতার মোহ উনাকে কখনো আবিষ্ট করতে পারেনি। বরাবরের মতো নীতি আর সততার পথে অটল থেকেছেন তিনি । বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ টানা ৩ বার ক্ষমতায় থাকার পরও তাঁর কোনো বিত্ত বৈভব গড়ে উঠেনি। বিগত ২২ বছর ধরেই ঢাকার ছোট একটি ২২০০০ টাকা দামের ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে বাস করেন। ঢাকায় তাঁর নেই কোন নিজের জায়গা , বাড়ি বা ফ্ল্যাট। ব্যক্তি জীবনে তাঁর চারিত্রিক কোন স্থলন নেই , নেই কোনো প্রকার অবৈধ হারাম ব্যবসা বা উপার্জন।

জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান দূর্নীতিবিরোধী অভিযানের কারণে মাইনুদ্দিন হাসান চৌধুরীর মতো নেতারা আবার আশায় বুক বেঁধেছেন। যারা কেসিনো , জুয়া , মদ , অর্থপাচারের মতো অভিযোগে অভিযুক্ত তাদেরকে তিনি রাজনৈতিক পদ থেকে বিতরণ করে সৎ ও ত্যাগী নেতাদেরকে নিয়ে আসছেন। সারাদেশে মাইনু ভাইয়ের একটি ক্লিন ইমেজ রয়েছে। সেই অপশক্তিও আজো সবল আছে এবং ক্রমাগত ষড়যন্ত্র করেই যাচ্ছে কারণ সামনে সম্মেলন। সব নেতার আমলনামা এখন শেখ হাসিনার হাতে। প্রিয়নেত্রীর কাছে এখন আর সেই অপশক্তি সুবিধা করতে পারছেনা। ষড়যন্ত্রকারীদের নিজেদের অস্ত্বিত্বও আজ হুমকির সম্মুখীন। রাজনীতির শুরু থেকে আজ অবধি মাইনু ভাই সারা বাংলাদেশে একজন ক্লিন ইমেজের সৎ এবং সুদক্ষ সংগঠক হিসেবে সুপরিচিত।

আগামী সম্মেলনে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আমাদের প্রানপ্রিয় নেত্রী আবার মাইনু ভাইকে তার কাঙ্খিত জায়গায় বসাবেন ইনশাআল্লাহ। জয় বাংলা , জয় বঙ্গবন্ধু।

 

ফরহাদ উদ্দিন চৌধুরী মারুফ 

চিকিৎসক ও সাবেক সভাপতি, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ