??????? ১১ আগস্ট, ২০১৯ ০১:১৩

লেখক মোস্তাফা জব্বার

মোস্তাফা জব্বার। বাংলাদেশের প্রযুক্তি জগতে শুধু একটি নাম নয়। যেন একটি বিশাল বটবৃক্ষ। যত দূর চোখ যায়, যেন তার ছায়া শেষ হয় না। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী। কিন্তু মোস্তফা জব্বারের মত ব্যাক্তির কি একটি পরিচয়ই থাকে?

তিনি তার কর্মজীবনে বেসিসের সভাপতি হিসেবে, বেশ কয়েকবার বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি হিসেবে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের সদস্য ছাড়াও অনেক গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব তিনি পালন করেছেন।

তবে বাংলা ভাষাকে প্রযুক্তি জগতে প্রতিষ্ঠিত করার কাজটি তিনিই শুরু করেছিলেন। প্রযুক্তি জগতে তার আবিষ্কৃত বিজয় বাংলা কীবোর্ড যেই বিপ্লবের সূচনা করেছিলো, তার বদৌলতেই এখন প্রযুক্তির সকল ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যাবহার হয়েছে প্রাণবন্ত ও সহজ। নিজের ভাবকে নিজের মত করে প্রকাশ করে আমার মত তরূন মনের মাধুরী মিশিয়ে অন্তর্জালে ঘোরা ফেরা করতে পারে নিজ ভাষায়। যে ভাষায় আমরা কথা বলি। যে ভাষার জন্য আমরা জীবন দিয়েছি। যে ভাষা আমার মায়ের ভাষা।

প্রযুক্তি জগতে মোস্তাফা জব্বারের অবদান লিখে শেষ করা যাবে না। সে দৃষ্টতাও আমার নেই। সব কিছু ছাপিয়ে এ গুনী মানুষটির আরো একটি পরিচয় আছে। তিনি একজন লেখক।

জীবনের দীর্ঘ সময়ে সাংবাদিকতায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের ফলে তিনি যাই লেখেন তা যেন সুখপাঠ্য হয়ে উঠে। যখন তার বিষয়বস্তু হয় প্রযুক্তি সংক্রান্ত। তখন সেই লেখা পড়লে মনে হয়, এর থেকে সহজ ভাবে প্রযুক্তি বাংলা ভাষায় আর কেউ কি বোঝাতে পারবে? যখন তার উপন্যাস পড়ি, তখনও মানব জীবনের গতি প্রকৃতি ও সুরের যে মূর্ছনা তা যেন কানে বাজে নিদারূন। আর সমসাময়িক বাংলাদেশ নিয়ে লেখা বই যেন পাঠককে স্বপ্ন দেখায়, আশাবাদি করে। ওই দূরের, হয়তো বা অন্য কোন ছায়াপথের নক্ষত্র যেন পাঠক চাইলেই স্পর্শ করতে পারবে।

তাই তার বইয়ের গুনমুগ্ধ পাঠক হিসেবে দায়িত্বই অনুভব করলাম, তার বই সম্পর্কে অন্যদের জানাতে। যদিও এ দৃষ্টতাও আমার দেখানো ঠিক নয়। কারন কে না চেনে তাকে?

তিনি যেহেতু একজন প্রযুক্তিবিদ। তাই তার লেখার মূল বিষয়বস্তুও হলো প্রযুক্তির জগত। কম্পিউটার নিয়ে তিনি লিখেছেন অনেক বই, বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রযুক্তি নিয়ে  লেখা প্রবন্ধের সংখ্যা তো অসংখ্য। নবম ও দশম শ্রেনীর প্রযুক্তি বিষয়ক পাঠ্যপুস্তক “মাধ্যমিক কম্পিউটার শিক্ষা” বইয়ের লেখক তিনি। এছাড়া তার লেখা আরো দুটি বই “কম্পিউটার ও ইনফরমেশন টেকনোলজি” এবং “একাউন্টিং ইনফরমেশন সিস্টেম” স্নাতক পর্যায়ের পাঠ্য।

এছাড়াও উচ্চমাধ্যমিক কম্পিউটার শিক্ষা, দুই খন্ডের প্রাথমিক কম্পিউটার শিক্ষা, কম্পিউটারে প্রকাশনা, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, মাইক্রোসফট এক্সেল ও তার সম্পাদিত কম্পিউটার অভিধান হলো ব্যাপকভাবে প্রচলিত কম্পিউটার শিক্ষা বিষয়ক বই।

শুধু প্রযুক্তিই নয়। তার প্রথম উপন্যাস নক্ষত্রের অঙ্গার প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালে। যা ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা পাওয়ার পর সম্প্রতি তিনি লিখে শেষ করেছেন সুবর্ণে শেকড় নামের আরো একটি উপন্যাস।

শুধুমাত্র বাংলাদেশকে নিয়েই তিনি লিখেছেন ডিজিটাল বাংলা, একুশ শতকের বাংলা, বাঙ্গালী ও বাংলাদেশ, ডিজিটাল বাংলাদেশের মত বিষয়ভিত্তিক বই।

তিনি ছিলেন রণাঙ্গনের একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তর ও আমার যুদ্ধ শিরোনামে লিখেছেন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই। যা একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে রয়ে যাবে বহমান বাংলার সাথে।

একজন প্রযুক্তিবিদ, একজন সফল ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী, একজন রণাঙ্গনের সাহসী মুক্তিযোদ্ধার পাশাপাশি তিনি একজন লেখক। এতো বৈচিত্রপূর্ন যার জীবন। তার লেখা আমাদের জন্য বিশেষ প্রাপ্তি। আমাদের কামনা, ব্যাস্ততার মাঝেও তিনি যেন আমাদের মত পাঠকদের কথা মাথায় রেখে সবসময় লেখালিখির মাঝেই থাকেন।

 

 

 

 

লেখক- মোঃ ইমরানুর রহমান

রিপোর্টার, দৈনিক আমাদের কাগজ