??????? ?????? ৩০ জুলাই, ২০১৯ ০৬:২৭

ডেঙ্গু ভীতিঃ হারপিক-ব্লিচিং পাউডার নিয়ে নতুন গুজব

ডেঙ্গু ভীতিকে কাজে লাগিয়ে নতুন করে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব শুরু হয়েছে। কিছু অসাধু ও কুচক্র নামধারী ব্যবসায়ীরা ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপস ও মেসেঞ্জারে এ গুজবটি ছড়াচ্ছে।

গত রোববার থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সবার কাছে এটি পৌঁছিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, "ঢাকায় বসবাসকারী সকলে যদি আগামী ০২/০৮/২০১৯ ইং রোজ শুক্রবার জুমার পরে প্রত্যেকের বেসিন-এ "500 ml" এর একটা টয়লেট ক্লিনার বা 500 gm ব্লিচ পাউডার একযোগে ঢেলে পানি দিয়ে দেয়! তাহলে ঢাকা শহরের ৭০% ড্রেন, ডুবা-নালা সহ সংযুক্ত সকল মশার ডিম পাড়ার পানির উৎসে থাকা মশা এবং এর লার্ভা ধ্বংস হয়ে যাবে।"

জনস্বার্থে বিষয়টি প্রচারের জন্য শেয়ার করার অনুরোধ জানানো হয় এ মেসেজে।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাহ আলী ফরহাদ বলেন, "আমি দুইজন পাবলিক হেলথ বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি এ ধরণের কাজে কোন উপকার ত হবেই না, বরং ক্ষতির পরিমাণ হবে দ্বিগুণ। এডিস মশা শুধুমাত্র পরিষ্কার ও জমা পানিতেই বংশ বিস্তার করে। তাই ড্রেনে ব্লিচিং পাউডার ও হারপিক ঢেলে এডিস মশা থেকে বাঁচা যাবে না। বরং একযোগে হারপিক ও ব্লিচ ঢালা মানে হচ্ছে আমাদের সুয়ারেজ ব্যাবস্থায় অতিমাত্রায় ক্ষতিকর পদার্থ ঢুকিয়ে দেয়ার মাধ্যমে নতুন বিপদ ডেকে আনা। এই গুজবে কান দিবেন না, যারা এই গুজব ছড়াবে তাদের চ্যালেঞ্জ করুন।"

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ড. উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। যাদের বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা নেই তারা এটি সহজে বিশ্বাস করতে পারে। কিন্তু সবার জানা উচিত, সোয়ারেজ লাইনে কোন এডিস মশা থাকে না। সেখানে থাকে কিউলেট মশা। আর এই মশা আমাদের কোন বড় ক্ষতি বা মহামারি ছড়াচ্ছে না।

ঢাকার সকল বাসিন্দা একসাথে নর্দমায় হারপিক বা ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করলে তার ফল কি হতে পারে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি খুব সামান্য মনে হলেও এর ফল হবে খুব ভয়ানক। সামান্য হারপিক বা ব্লিচিং পাউডার হাতে লাগলেই আমাদের চামড়া খুলে আসতে থাকে। সেখানে কোটি কোটি ব্লিচিং পাউডারের প্যাকেট এবং হারপিকের কথা বলা হচ্ছে। এটি নর্দমায় ফেলা হলে তার রাসায়নিক ক্ষতি পরিবেশে কতটা মারাত্মক হতে পারে তা কল্পনাতীত। একজন বক্ষ বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমি জানি দীর্ঘ সময় হারপিক বা ব্লিচিং পাউডারে থাকা ক্যামিকেলের গন্ধ নিলে তা মানুষের ফুসফুসের প্রচণ্ড ক্ষতি করে। সেই সাথে মানুষের ডাইজেস্ট ব্যবস্থাপনারও ক্ষতি করে এই গন্ধ। সব মিলিয়ে বড় ধরণের পরিবেশ বিপর্যয় হতে পারে যদি আসলের ঢাকার সকল মানুষ একযোগে হারপিক বা ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করে।

এ সময় ডেঙ্গু মশাকে এলিট বা ভদ্র মশা হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। ডেঙ্গুর আবাসস্থল ও বংশবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডেঙ্গু মশার বংশবৃদ্ধির ক্ষেত্রে চারটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম হলো এরা ভদ্র পরিবেশে থাকতে চায় যেখানে স্বচ্ছ পানি ও কোন স্রোত নেই। অতিরিক্ত বাতাস এসে ঢেউ তৈরি করতে পারে এমন স্থানেও তারা থাকে না। সরাসরি সূর্যের আলো যেখানে পরে সেখানেও তারা থাকতে পারেনা। কিন্তু বংশবৃদ্ধির জন্য তাদের প্রয়োজন ৩০/৩৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা। সুতরাং তাদের বংশ বিস্তারের ব্যবস্থা মানুষই তৈরি করে দেয়।'

মশা যেন বংশ বৃদ্ধি করতে না পারে সে জন্য তিনি পরামর্শ প্রদান করে বলেন, স্বচ্ছ পানি যেন ৩ দিনের বেশি কোথাও আটকে না থাকে। আর আটকে রাখতে বাধ্য হলে তাতে যেন কেরোসিন ঢেলে দেয়া হয়। এতে মশার বংশ বিস্তার বাঁধাগ্রস্ত হবে। এটি ভদ্র মশা, যে সবচাইতে অভদ্র কাজগুলো করে।