অপরাধ ও দুর্নীতি ১৪ মার্চ, ২০২৩ ০৪:৩৮

রফতানির আড়ালে ৩৮০ কোটি টাকা পাচার

আমাদের কাগজ রিপোর্ট: রফতানির আড়ালে জাল নথি তৈরি করে চার প্রতিষ্ঠানের ৩৮০ কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ পেয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। ১৭৮০টি চালানের বিপরীতে এসব টাকা পাচার করা হয়।

মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।

অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-এশিয়া ট্রেডিং করপোরেশন, সাবিহা সাইকি ফ্যাশন, ইমু ট্রেডিং করপোরেশন ও ইলহাম। এই প্রতিষ্ঠানগুলো জাল নথি তৈরি করে এক হাজার ৭৮০টি চালানের বিপরীতে ৩৮২ কোটি টাকা পাচার করে। এরমধ্যে এশিয়া ট্রেডিং করপোরেশন পাচার করেছে ২৮২ কোটি টাকা, ইমু ট্রেডিং করপোরেশন ৬২ কোটি টাকা, ইলহাম ১৭ কোটি টাকা এবং ২১ কোটি টাকা পাচার করেছে সাবিহা সাইকি ফ্যাশন।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরে মহাপরিচালক জানান, দক্ষিণখান এলাকার সাবিহা সাইকি ফ্যাশন হাউজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান রফতানি দলিলাদি জালিয়াতির মাধ্যমে বিদেশে পণ্য রফতানি করছে।  এমন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয় এবং অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরিচালিত অভিযানে রফতানি জালিয়াতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। সেই প্রেক্ষিতে ৭টি ৪০ ফিট কন্টেইনারে রক্ষিত ৯টি পণ্যচালান কায়িক পরীক্ষা করা হয়। পণ্যচালানসমূহ কায়িক পরীক্ষা করা হলে ঘোষণা বহির্ভূত একাধিক পণ্য পাওয়া যায়। রফতানিকারকের ঘোষণা মোতাবেক টি শার্ট এবং লেডিস ড্রেস রফতানির কথা থাকলেও কায়িক পরীক্ষায় বেবি ড্রেস, জিন্স প্যান্ট, লেগিন্স, শার্ট ও শালসহ ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য পাওয়া যায়।

পরবর্তীতে সার্বিক অনিয়মের বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের আঞ্চলিক কার্যালয় চট্টগ্রামের যুগ্ম পরিচালককে আহ্বায়ক করে ৮ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।


তদন্তে দেখা যায় সাবিহা সাইকি ফ্যাশন বিগত সময়ে ৮৬টি পণ্যচালান রফতানি করেছেন। রফতানিকৃত পণ্য চালানগুলোতে সাবিহা সাইকি ফ্যাশন ৯৯৭ মেট্রিক টন মেনস ট্রাউজার, টি শার্ট, বেবি সেট, ব্যাগ, পোলো শার্ট, জ্যাকেট, প্যান্ট ও হুডি রফতানি করেছে। যার মূল্য ১৮ লাখ ৪৫ হাজার ৭২৭ মার্কিন ডলার (১৮ কোটি ঢাকা প্রায়)। পণ্যচালানসমূহ সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব ও নাইজেরিয়াতে রফতানি করা হয়েছে।

কাস্টমসের গোয়েন্দারা জানান, এস্যাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের ইএক্সপি যাচাই এবং অগ্রণী ও ব্র্যাক ব্যাংক থেকে তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, বর্ণিত ৮৬টি বিল অব এক্সপোর্টে থাকা ইএক্সপিগুলো ভিন্ন ভিন্ন রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ইস্যু করা। যেহেতু একটি ইএক্সপি একাধিক বিল অব এক্সপোর্টে ব্যবহারের সুযোগ নেই, সেহেতু ৮৬টি বিল অব এক্সপোর্টে ভিন্ন ভিন্ন রফতানিকারকের ইএক্সপি ব্যবহার করা হলেও, বিল অব এক্সপোর্টের ফিল্ড ২৪ এ কোড ২০ ব্যবহার করার কারণে ইএক্সপি এবং সংশ্লিষ্ট বিল অব এক্সপোর্টের রফতানিকারকের বিন অটো ম্যাচ হয়নি। এক্ষেত্রে ইএক্সপির কার্যকারিতা নেই। ফলে বৈধপন্থায় ২১ কোটি টাকা দেশে প্রত্যাবাসিত হওয়ার সুযোগ নেই।

একইভাবে বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো অন্য রফতানিকারকের ইএক্সপি ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে পণ্য রফতানি করেছে। এ কারণে এই চালানগুলোর বিপরীতে কোনো বৈদেশিক মুদ্রা বৈধপন্থায় দেশে প্রত্যাবাসিত হওয়ার সুযোগ না থাকায় মানিলন্ডারিং হয়েছে।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় জানায়, এক হাজার ৭৮০টি চালানের বিপরীতে পণ্যের পরিমাণ ১৮ হাজার ২৬৫ মেট্রিক টন, যার ঘোষিত মূল্য ৩৮২ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ফখরুল আলম বলেন, রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মনোনীত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘লিমাক্স শিপার্স লিমিটেডে’র সহযোগিতায় জালিয়াতির মাধ্যমে রফতানি কার্যক্রম করে। অন্য প্রতিষ্ঠানের ইএক্সপি ব্যবহার করায় এ জাতীয় ইএক্সপির কোনো প্রকার কার্যকারিতা না থাকায় বৈধপন্থায় বৈদেশিক মুদ্রা দেশে প্রত্যাবাসিত হওয়ার সুযোগ নেই, অর্থাৎ এক্ষেত্রে মানিলন্ডারিং হয়েছে। ওই চার প্রতিষ্ঠান ছাড়াও অন্য আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে এমন কার্যক্রমের অভিযোগ রয়েছে।

 

 

 

আমাদের কাগজ/টিআর