???? ৯ নভেম্বর, ২০২২ ০৮:৩৭

শফিকুলের কৃষি বিপ্লব

নিজস্ব প্রতিবেদক: বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪২৬-এ পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ব্যবহার বিভাগে স্বর্ণপদক পেলেন রাজশাহীর পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম।

করোনাকালে জনজীবন যখন স্থবির, নিজের তৎকালীন কর্মস্থল রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে নিরাপদ সবজি গ্রাম গড়ে পুষ্টির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখেন কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম। করোনার প্রকোপে মানুষ ঘর ছেড়ে বের হতে ভয় পেলে বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষে গৃহিণীদের উদ্বুদ্ধ ও সহায়তা করেন তিনি।

প্রথমে গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের কালীদীঘি গ্রামকে বেছে নিলেও পরে আরও দুটি গ্রামে তার প্রচেষ্টা ও সহযোগিতায় বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি চাষে বিপ্লব ঘটে। কৃষি ক্ষেত্রে এসব অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার-১৪২৬-এ পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ব্যবহার বিভাগে স্বর্ণপদক পেয়েছেন এই কৃষি কর্মকর্তা। বর্তমানে রাজশাহীর পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।


যেসব অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বর্ণপদক

কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাওয়া তৎকালীন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম মুজিববর্ষে ব্যতিক্রমী কিছু করার চিন্তা করেন। যেই চিন্তা সেই কাজ।

করোনাকালে ঘরবন্দি গোদাগাড়ীর কালীদীঘি গ্রামের ৫০টি পরিবারের মধ্যে বিনামূল্যে পালংশাক, লালশাক, বেগুন, মরিচ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পটোল, টমেটো, বেগুন, তরমুজসহ কয়েকটি সবজির বীজ বিতরণ করেন। এগুলো বাড়ির আনাচে-কানাচে বপন করে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার ছাড়াই চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করেন।

পোকা দমনে শুধু জৈব বালাইনাশক, সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ও হলুদ স্টিকি ফাঁদ ব্যবহার করা হয়। কীটনাশক ব্যবহার ছাড়াই ফলন ভালো হওয়ায় পুরো গ্রামেই নিরাপদ এই পদ্ধতিতে সবজি চাষ শুরু হয়। এতে কালীদীঘি গ্রামটি নিরাপদ সবজি গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পায়।

এই গ্রামের সবজি বিপ্লবের খবর ছড়িয়ে পড়লে পাশের চব্বিশনগর ও দেওপাড়া গ্রামেও শুরু হয় সবজি চাষ। সেখানেও সরকারি তহবিল থেকে একটি টাকাও খরচ না করে নিজ খরচে বাড়িতে বাড়িতে নিরাপদ সবজি চাষে সহায়তা ও উদ্বুদ্ধ করেন কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম। এখন অন্য গ্রামের কৃষকরাও এটা অনুসরণ করছেন।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিরাপদ সবজি গ্রাম প্রতিষ্ঠায় ধাপে ধাপে ১০ হাজার কৃষককে প্রশিক্ষিত করেছেন শফিকুল ইসলাম। এ ক্ষেত্রে তিনি অসংখ্য উঠান বৈঠক, অনুপ্রেরণামূলক আলোচনা ও প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।

এর কোনোটাই পুরস্কারের আশায় নয়, বরং দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই করেন বলে জানিয়েছেন শফিকুল ইসলাম। কৃষিতে বিপ্লব ও কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে ২০১৫ সাল থেকেই বিভিন্ন কাজ শুরু করেন বলে জানালেন। বলেন, নিরাপদ সবজি গ্রাম প্রতিষ্ঠার আগে ২০১৫ সালে নিজের তৎকালীন কর্মস্থল তানোরে অফিস শেষ করে বিকেল ৫টার পর তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে কৃষকদের সমস্যা চিহ্নিত করে সহায়তা করতেন।

 

আমাদের কাগজ/ এএইচ