??????? ২৮ জুলাই, ২০১৯ ১২:৪৯

৪শ মণ ধান উৎপাদন করেও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন চাষি!

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কপালিয়া গ্রামের কৃষক হাদিউজ্জামান। এবার উৎপাদন করেছেন ৪শ মণ ধান। তবু পালিয়ে বেড়াচ্ছেন এ চাষি। শ্রমিকের মজুরি বাকি, সার ওষুধের দাম ও জমি দাতার টাকা দিতে না পারায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে দৈনিক অধিকারকে জানিয়েছেন তিনি।

চাষি হাদিউজ্জামান জানান, তার ৪শ মণ ধান উৎপাদন হয়েছে। ৭০০ টাকা দরে মণ ছাড়া ধান বিক্রি করতে পারছেন না তিনি। আড়তে ৭০০ টাকা দরে ধান বিক্রি করলেও টাকা পাবেন ৬ মাস পর। আর ১ হাজার ৪০ টাকা দরে সরকারিভাবে মাত্র ৫ মণ ধান বিক্রি করেছেন। সে টাকা পেতেও বেগ পেতে হয়েছে অনেক। যার ফলে সার ওষুধের দাম ও শ্রমিকের মজুরিসহ অন্যান্য টাকা দিতে পারছেন না। তাই বাধ্য হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে আগামীতে আর বোরো ধান চাষ করবেন না বলেও জানিয়েছেন এ চাষি।  

বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরা এলাকার কৃষক মনিরুজ্জাম জানান, ‘এবার উৎপাদিত ধানের মধ্যে তিনি সরকারি গুদামে বিক্রি করতে পেরেছেন মাত্র ২৫ মণ ধান। কিছু ধান ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায় আড়তদারদের কাছে বিক্রি করেছেন। এই দামে বিক্রি করে খরচের টাকাই উঠছে না।’ 

একই উপজেলার নিত্যানন্দপুর এলাকার আব্দুস সবুর বলেন, ‘সরকারি লিস্টে নাম না থাকায় সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারছি না। তাছাড়া সরকারি গুদামও এলাকা থেকে বেশ দূরে। বহন করে নিয়ে যাওয়া আরেক ঝামেলা। সে কারণে ৭০০ টাকা দরে আড়তদারদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।’

শার্শার কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, আড়তের মালিকদের সঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে। যখন কৃষকরা আর ধান বিক্রি করতে চাইবে না। তখন সরকারি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের জন্য ওইসব আড়ত থেকে ধান ক্রয় করে সরকারি গুদাম ঘর ভরে ফেলবে। ফলে তদারকি না থাকায় সরকারিভাবে ধান ক্রয়ে কৃষকদের কোনো উপকার আসছে না।

ধান বিক্রি করতে কৃষকের অপেক্ষা (ছবি- দৈনিক অধিকার)

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এমদাদ হোসেন শেখ জানান, এ জেলায় বোরো মৌসুমে উৎপাদন হয়েছে ১০ লাখ ৬৪ হাজার ৭২৮ টন ধান। যশোর জেলা থেকে প্রায় ১৩ হাজার টন ধান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে লক্ষ্যে কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা পর্যায়ে কমিটি দিয়ে অনুমতি নিয়ে কৃষকদের তালিকা সংশ্লিষ্ট খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। প্রায় ৫ লাখ কৃষকের মধ্যে থেকে কৃষকদের নির্বাচন করা হয়েছে। 

যশোর জেলার ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা লিয়াকত আলী জানান, ‘সরকারিভাবে গত ২৫ এপ্রিল থেকে বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছে খাদ্য বিভাগ। চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। গত তিন মাস ১৩৫ টন ধান ক্রয় করা হয়েছে। জেলার কৃষকদের তালিকা সংগ্রহ, কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, পর্যাপ্ত গুদাম ঘর না থাকায় ধান কেনায় গতি পাচ্ছে না। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এখনো লক্ষ্যমাত্রার ২৫ শতাংশ বোরো ধান কেনা সম্ভব হয়নি বলে খাদ্য অফিস থেকে জানানো হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৫ এপ্রিল থেকে যশোরে সরকারিভাবে ধান ক্রয় শুরু হয়েছে। চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। যশোরে বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদন হয়েছে ১০ লাখ ৬৪ হাজার ৭২৮ মেট্রিকটন। আর এ জেলায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ১২ হাজার ৭১২ মেট্রিক টন। গত তিন মাসে সরকারিভাবে ধান ক্রয় হয়েছে ১৩৫ মেট্রিক টন।