অর্থ ও বাণিজ্য ২৬ মার্চ, ২০২১ ১১:৪১

তামাকের ওপর সুনির্দিষ্ট কর আরোপের আহ্বান

ডেস্ক রিপোর্ট

বাংলাদেশ পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি তামাক ব্যবহারকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং এ দেশে সিগারেটের মূল্য অত্যন্ত কম, বিড়ি আরো সস্তা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০১৫-১৬ সালের তুলনায় ২০১৭-১৮ সালে মাথাপিছু জাতীয় আয় (নমিন্যাল) বেড়েছে ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ। অথচ এ সময়ে বেশীরভাগ সিগারেটের দাম প্রায় অপরিবর্তিত থেকেছে। অবশ্য কিছুক্ষেত্রে সামান্য বেড়েছে। এর ফলে বর্তমানে সিগারেট অধিক সহজলভ্য। কর বৃদ্ধির মাধ্যমে তামাক পণ্যটির দাম বাড়ানো জরুরি।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের প্রধান কার্যালয়ে তামাকের ট্যাক্স বৃদ্ধি বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন ক্যাম্পেইন ফর টোবাকো ফ্রি কিডস বাংলাদেশের সাবেক প্রধান পরামর্শক ড. শরিফুল আলম।

মূল প্রবন্ধে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে সিগারেটের ক্ষেত্রে প্রস্তাব হিসেবে বলা হয়, সকল ব্রান্ডে অভিন্ন করভারসহ (সম্পূরক শুল্ক চূড়ান্ত খুচরা মূল্যের ৬৫%) মূল্যস্তরভিত্তিক সুনির্দিষ্ট এক্সাইজ (সম্পূরক) শুল্ক প্রচলন, নিম্নস্তরে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করে ৩২.৫০ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ, মধ্যমস্তরে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ৭০ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫.৫০ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ, উচ্চস্তরে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ১১০ টাকা নির্ধারণ করে ৭১.৫০ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক এবং প্রিমিয়াম স্তরে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ১৪০ টাকা খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে ৯১ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা। এ ছাড়া ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সিগারেটের ব্রান্ডসমূহের মধ্যে দাম ও করহারের ব্যবধান কমিয়ে মূল্যস্তরের সংখ্যা ৪টি থেকে ২টিতে নামিয়ে আনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর প্রধান আটটি কারণের ছয়টিই তামাক সংশ্লিষ্ট। বাংলাদেশে প্রতি বছর ১ লক্ষ ৬১ হাজারের বেশি মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার জনিত রোগে প্রাণ হারান।

ক্যাম্পেইন ফর টোবাকো ফ্রি কিডস বাংলাদেশের কমিউনিকেশনস অফিসার সরকার শামস বিন শরীফ বলেন, ২০২১-২২ অর্থবছরে সুপারিশ অনুযায়ী বিদ্যমান কর ব্যবস্থা সংস্কার করলে ব্যবহার কমবে। পাশাপাশি জীবন বাঁচবে এবং রাজস্ব আয়ও বাড়বে। এ ছাড়া সিগারেটের ব্যবহার প্রতি বছর ১% হারে কমবে এবং প্রায় ১১ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ী ধূমপান ছেড়ে দিতে উৎসাহিত হবে। ৮ লক্ষাধিক তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে, দীর্ঘমেয়াদে ৩ লক্ষ ৯০ হাজার বর্তমান ধূমপায়ী এবং ৪ লাখ তরুণের অকাল মৃত্যুরোধ করা সম্ভব হবে। ২০২০-২১ অর্থবছরের চেয়ে সম্পূরক শুল্ক, স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ এবং ভ্যাট বাবদ ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় অর্জিত হবে।

‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ-২০৪০ গঠনে গণমাধ্যমের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক এই মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ক্যাম্পেইন ফর টোবাকো ফ্রি কিডস বাংলাদেশের গ্র্যান্টস ম্যানেজার আবদুস সালাম মিয়া এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের মিডিয়া ম্যানেজার রেজাউর রহমান রিজভীর সঞ্চালনায় ‘তামাক-মুক্ত বাংলাদেশ ২০৪০ গঠনে করণীয় : প্রসঙ্গ তামাক কর’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী মোঃ শরিফুল ইসলাম।