???? ৩১ জানুয়ারি, ২০২১ ০৬:০৪

আশার আলো জাগাচ্ছে বরেন্দ্রর টমেটো

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় এ বছর ৫০ বিঘা জমিতে টমেটোর চাষ করে এলাকায় বেশ আলোড়ন তৈরি করেছেন ছয় চাষি। মাচা পদ্ধতিতে চাষ করে বিঘা প্রতি ২০০ মণের বেশি টমেটোর ফলন পাচ্ছেন তারা।

টমেটো চাষি ইফতেখার আহম্মেদ বলেন, মাচা পদ্ধতিতে টমেটো চাষে ফলন ৫০ মণ থেকে বেড়ে চারগুণ হয়েছে। পাশাপাশি বরেন্দ্র এলাকায় টমেটো প্রক্রিয়াজাতকরণের কারখানা চালু হওয়ায় এখন আর টমেটো ফেলে দিতে হবে না। দাম না থাকলেও উৎপাদন খরচ অন্তত উঠবে। তাই ফসলে আশার আলো দেখা যাচ্ছে।

আরেক টমেটো চাষি বকুল মিয়া বলেন, আশ্বিনে উন্নতজাতের এসব টমেটো লাগিয়েছি। এরপর শুরুতে দাম পেয়েছি মনপ্রতি এক হাজার ৬০০ থেকে দুই হাজার টাকা। এখন দাম কমে হয়েছে ৪০০ টাকা। তারপরও ফলন খুব ভালো হওয়ায় লাভ থাকছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) এক গবেষণায় জানা যায়, বাংলাদেশে যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধার অভাবে বছরে ৩৫ শতাংশ ফল ও সবজি নষ্ট হয়। এই তালিকার অন্যতম টমেটো।

যার জন্য রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান প্রাণ গ্রুপ টমেটো, আম ও পেয়ারা কারখানা স্থাপন করেছে। এর নাম বরেন্দ্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক-বিআইপি। এছাড়া প্রাণ গ্রুপ-এর নাটোরের কারখানায়ও প্রতিবছরের মতো চলতি বছর টমেটো সংগ্রহ ও পাল্পিং শুরু হয়েছে।

ww

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইপির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দ মো. সারোয়ার হোসেন বলেন, আমরা এখন এ এলাকায় প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ টন টমেটো কিনছি। এ বছর বিআইপি ১৫ হাজার টন টমেটো কিনবে।

তিনি বলেন, প্রাণ গ্রুপ সবসময় পণ্যের গুণগত মানের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করে। আর পণ্যের গুণগত মান অনেকাংশে নির্ভর করে মানসম্মত কাঁচামালের ওপর। এ বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখে ২০১০ সালে প্রাণ গ্রুপ টমেটোর চুক্তিভিত্তিক চাষ শুরু করে। এখন প্রাণ গ্রুপের প্রায় এক লাখ চুক্তিভিত্তিক কৃষক রয়েছে। যাদের কাছ থেকে টমেটো, আম, বাদাম, দুধ, ডাল, কাসাভাসহ বিভিন্ন কাঁচামাল সংগ্রহ করে প্রাণ।

জানা গেছে, বরেন্দ্র এলাকায় প্রায় ১০ হাজার চুক্তিভিত্তিক কৃষক ৮৬৭ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছেন, যা বিআইপির চাহিদার থেকেও কম।

এর আগে ২০১৯-২০ সালে প্রাণ গ্রুপ-এর আট হাজার ৪০০ চুক্তিভিত্তিক কৃষক প্রায় ৮০০ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছিলেন। তখন টমেটো সংগ্রহের পরিমাণ ছিল সাত হাজার টন। এর আগে ২০১৮-১৯ সালে ৭৫০ বিঘা জমি থেকে প্রাণ গ্রুপ-এর সাড়ে সাত হাজার চুক্তিভিত্তিক চাষির কাছ থেকে টমেটো সংগ্রহের পরিমাণ ছিল প্রায় ছয় হাজার টন। ফলে একদিকে প্রতিবছর প্রাণ-এর চুক্তিভিত্তিক টমেটো চাষে যেমন কৃষক আগ্রহ দেখাচ্ছেন, তেমনি চাষিরা প্রতিবছর বিঘা প্রতি ভালো ফলনও পাচ্ছেন।

ওই এলাকার আরও কয়েকজন চাষি জানান, বীজ ও প্রযুক্তি সহায়তা পেয়ে তারা চারগুণ টমেটো বেশি পাচ্ছেন। তাতে তাদের বিঘাপ্রতি মুনাফা আসে অন্তত ৫০ হাজার টাকা।

দেশে সবচেয়ে বেশি টমেটো উৎপাদন হয় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায়। এছাড়া রাজশাহী সদর ও পদ্মার চরেও টমেটো চাষ বেশি হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, শুধু রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে প্রতিবছর গড়ে দুই হাজার ৫০০ হেক্টরের বেশি জমিতে টমেটোর চাষ হচ্ছে। এক্ষেত্রে আম চাষের পরপরই ওই এলাকায় এখন বেশি হচ্ছে টমেটোর চাষ।

এদিকে খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টমেটো থেকে উৎপাদিত সস, কেচাপ দেশীয় বাজার ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। দেশে বর্তমানে সস, কেচাপ এবং টমেটো পেস্টের বাজার বার্ষিক ২৫০ কোটি টাকা। এই বাজার বছরে ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে। আর এই পণ্যের বাজারে নেতৃত্ব দিচ্ছে প্রাণ। বছরে ১৮ হাজার টন টমেটো সস উৎপাদন করার সক্ষমতা রয়েছে প্রাণ-এর।