???? ১৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০৯:২৯

ক্যাপসিকামে আশার আলো দেখছে ভোলার চাষিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সল্প খরচে অধিক লাভের আশায় দিন দিন বাড়ছে ভোলার চরাঞ্চলে বিদেশি সবজি ক্যাপসিকাম চাষ। সরকারি সহায়তা পেলে এ সবজি চাষ করে ভাগ্য বদল করা সম্ভব বলে জানায় চাষিরা।

দৌলতখান উপজেলার চর মদনপুরে প্রায় ৭ থেকে ৮ বছর আগে মনির পাঠান নামে এক কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে বিদেশি সবজি ক্যাপসিকাম চাষ শুরু করে।

প্রথম বছর সফলতা পেয়ে পরবর্তী বছর বাণিজ্যিকভাবে বিদেশি এ সবজির চাষ শুরু করেন। কম খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় গত ৩ বছরে এ সবজির চাষ ও চাষির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৪ গুণ। বর্তমানে ভোলার সদরের মাঝের চর ও দৌলতখানের চর মদনপুরে প্রায় ১৫০ একর জমিতে প্রায় ৩০০ জন চাষি ক্যাপসিকাম চাষ করছেন।

ক্যাপসিকাম চাষি মো. তছির ফরাজী জানান, গত ৫ বছর ধরে এ চরে তিনি ক্যাপসিকাম চাষ করছেন। এবছরও তিনি ১ একর জমিতে চাষ করেন। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা। খেতে প্রচুর ফলন হয়েছে।

যা গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ ফলন হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার ক্যাপসিকাম বিক্রি করেছেন আর খেতে যে পরিমাণ ফলন আছে তাকে আরো ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন। তিনি আরো জানান, গত বছর খেতে কিছুটা পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থাকলেও এবছর সময় মত কিটনাশক ব্যবহার করায় পোকার আক্রমণ নেই।

আরেক ক্যাপসিকাম চাষি মো. শেখ ফরিদ জানান, আমার এক বন্ধুর ক্যাপসিকাম চাষ করে অধিকলাভবান হয়েছে। এটা দেখে আমি তার সাথে আলাপ করে গত ৩ বছর ধরে ক্যাপসিকাম চাষ শুরু করি। ক্যাপসিকাম চাষ করে আমিও লাভবান হয়েছি।

ww

তিনি আরো জানান, এ চরে আমরা আগে ২০থেকে ৩০ জন চাষি ক্যাপসিকাম চাষ করতাম। অধিক লাভজনক হওয়ায় দিন দিনই চাষির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্যাপসিকাম চাষে কোন লোকসান নেই।

চাষি আব্দুল রব জানান, খেত থেকে আমরা ক্যাপসিকাম তুলে প্যাকেট করি। এরপর লঞ্চে করে ঢাকায় নিয়ে পাইকারী আড়তে বিক্রি করি। যদি ভোলার বাজারে ক্যাপসিকাম বিক্রি করা যেতো তাহলে আমাদের কষ্ট কম হতো ও আরো অধিক লাভ করতে পারতাম।

এ বিষয়ে ১নং চর মদনপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. আলাউদ্দিন জানান, চর মদনপুর ও কাচিয়ার মাঝের চরে বর্তমানে ১০০ কানি (১৬০ একর) জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ হচ্ছে। কিন্তু সরকারিভাবে কোনো প্রশিক্ষণ বা সহায়তা পাই না। যদি সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পাই তাহলে আগামীতে আমরা দুই চরে ৫০০ কানি (৮০০ একর) জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ করব। ভোলার চরাঞ্চলে ক্যাপসিকামের বিপ্লব ঘটনাতে পারবো।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবু মো. এনায়েত উল্লাহ জানান, ভোলা জেলায় গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ১৫ হেক্টর, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৩৭ হেক্টর এবং ২০২০-২১ অর্থ বছরে অনেক বেড়ে হয়েছে ৭০ হেক্টর। অথাৎ গত তিন বছরের পরিসংখানে বোঝা যায় লাভজনক এ সবজি চাষ ভোলায় দিন দিনই বাড়ছে।

তিনি আরো জানান, ক্যাপসিকাম বীজ বপনের তিন মাসের মধ্যে বিক্রির উপযোগী হয়। আমরা আগামীতে ভোলা জেলায় ক্যাপসিকাম চাষ বাড়াতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন ধরণের সহায়তা প্রদান করব। আশা করছি আগামী বছর ক্যাপসিকাম চাষ ৪ গুণ বাড়বে।

এছাড়াও কৃষকরা ভোলার বাজারে ক্যাপসিকাম বিক্রি করলে ভালো দাম পাবে না। কারণ ঢাকায় অনেক পাইকারি আড়ৎ রয়েছে সেখানে বিক্রি করে কৃষকরা অধিক টাকা আয় করতে পারছে।