???? ৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৪:৩৪

চায়ের কেজি ৫০ হাজার রুপি!

আগরতলা প্রতিনিধি

ত্রিপুরায় পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদিত হলো অত্যন্ত দামি ও ওষুধিগুণ সম্পন্ন হোয়াইট টি বা সাদা চা। এই চা উৎপাদনের প্রক্রিয়া অনেক জটিল ও উৎপাদন খরচ বেশি হবার কারণে এর দাম বেশি।

এই চা পাতা দেখতে পুরোপুরি কালো নয়, ধূসর কালো রঙের। চা পাতার আকার অনেকটা লম্বা ও কাঠির মতো। আগরতলার পার্শ্ববর্তী দুর্গাবাড়ি এলাকার চা চাষি গোপাল চক্রবর্তী সম্প্রতি পরীক্ষামূলকভাবে সামান্য পরিমাণ হোয়াইট টি উৎপাদন করেছেন।

তিনি বলেন, হোয়াইট টির জন্য চা পাতার একেবারে কুঁড়ির অংশ সংগ্রহ করা হয়। পাতার কুঁড়িগুলি মেলে পাতার আকৃতি নেওয়ার আগেই সংগ্রহ করতে হয়। কাঁচা পাতাগুলি সম্পূর্ণ সবুজ হয় না। তাই এগুলো প্রক্রিয়াজাত করা হলে লম্বা আকারের এবং ধূসর রঙের হয়। চায়ের রং হালকা সবুজাভ হয়। তেমন রং হয় না। তাই হোয়াইট টি বলা হয়। পাতা পুরোপুরি সবুজ হবার আগেই গাছ থেকে সংগ্রহ করার ফলে এই চায়ের রং পরিবর্তন হয় না।

তিনি বলেন, যে কেউ হোয়াইট টির জন্য পাতা সংগ্রহ করতে পারে না। এই পাতা সংগ্রহ করার জন্য জন্য অভিজ্ঞ আহরণকারী প্রয়োজন হয়। স্বাদে গ্রিন টির চেয়েও হালকা হয়। আর এই চা পান করলে ঘুম খুব ভালো হয়।

এক হেক্টর চা বাগান থেকে সপ্তাহে সর্বোচ্চ পাঁচ কেজি কাঁচা পাতা সংগ্রহ করা সম্ভব যা দিয়ে এক কেজি শুকনো হোয়াইট টি পাতা তৈরি হয়। হাতে তৈরি হয় বলে এটা সম্পূর্ণ অর্গ্যানিক।

সাধারণ চা তৈরির জন্য এক হেক্টর জায়গা থেকে এক সপ্তাহে ৩৭৫ কেজি কাঁচা পাতা সংগ্রহ করা সম্ভব এবং এই কাঁচা পাতা প্রক্রিয়াকরণ করলে ৮০ কেজি শুকনো চা পাতা তৈরি হয়। এই পরিমাণ পাতার পাইকারি বিক্রিমূল্য ১৫ হাজার রুপির কাছাকাছি।

অপরদিকে এক কেজি হোয়াইট টি ৪০ থেকে ৫০ হাজার রুপিতে বিক্রি হয়। এই ধরনের দামি চা মূলত হাতে তৈরি করা হয়। যা অত্যন্ত কঠিন কাজ। পাতা তোলা থেকে শুরু করে চা প্রক্রিয়াকরণ এবং শুকানো পর্যন্ত সামান্য এদিক সেদিক হলে রং এবং স্বাদ কোনোটাই হবে না। এজন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ নেওয়ার প্রয়োজন হয়।