??????? ১১ নভেম্বর, ২০২০ ০৩:৩৯

“সাইক্লোন ভোলায়” প্রাণ হারায় ১০ লাখ

স্বাধীনতা পূর্বের প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝরের ৫০ বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায় প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় “সাইক্লোন ভোলা”। সেদিন প্রাণ হারায় লাখ লাখ মানুষ। বিরান ভূমিতে রূপ নেয় অসংখ্য জনপদ।

উপমহাদেশের স্মরণকালের প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে ৭০ এর ঘূর্ণিঝড়ে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ওই ঝড়ে প্রায় ১০ লাখ মানুষ প্রাণ হারায়। লাশের ভাগারের রূপ নেয় মেঘনা নদী আর তার শাখা-প্রশাখাগুলো। ঝড়ের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়েছিলো পুরো ভোলাসহ উপকুল অনেক অঞ্চল।

                                                                              zhor1

জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউ এম ও) ২০১৭ সালের ১৮ মে বিশ্বের ৫ ধরণের ভয়াবহ প্রাণঘাতি আবহাওয়ার ঘটনায় শীর্ষ তালিকা প্রকাশ করে। ওই তালিকায় বাংলাদেশের উপকূলের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড়টি কে পৃথিবীর সর্বকালের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর প্রাণঘাতি ঝড় হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

উকিপিডিয়ার সূত্র বলেছে, এ পর্যন্ত রেকর্ডকৃত ঘূণিঝড় সমূহের মধ্যে এটি সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়। সর্বকালের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক দূর্যোগ হিসেবেও এটিকে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এটির নাম ছিল ভোলা সাইক্লোন। এটি সিম্পসন বেঙ্গল ক্যাটাগরি ৩ মাত্রার ঘূর্ণিঝড় ছিল। ১৯৭০ সালের ওই ঘূর্ণিঝড়টি ৮ নভেম্বর বঙ্গপোসাগরে সৃষ্টি হয়।

১৯৭০ সালের ১১ নভেম্বর বুধবার সকাল থেকে চলছিলো গুড়িগুড়ি বৃষ্টি। ১২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার আবহাওয়া আরো খারাপ হতে লাগল এবং মধ্যরাত থেকেই ফুঁসে উঠতে শুরু করে সমুদ্র। তীব্র বেগে লোকালয়ের দিকে ধেয়ে আসল পাহাড় সমান উঁচু ঢেউ। ৩০/৪০ ফুট উঁচু সেই ঢেউ আছড়ে পড়ল লোকালয়ের উপর। আর মুহূর্তেই ভাসিয়ে নিয়ে গেলো মানুষ, গবাদি পশু, বাড়ি-ঘর এবং ক্ষেতের সোনালী ফসল। পথে প্রান্তরে উন্মুক্ত আকাশের নীচে পড়েছিলো কেবল লাশ আর লাশ। মরনপুরীতে রূপ নেয় ভোলাসহ গোটা অঞ্চল।

                                                                                ttt

সে সময়ের ভোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম হাবিবুর রহমান বলেন, বন্যার পরে দেখেছি সাপ আর মানুষ দৌলতখানের চৌকিঘাটে জড়িয়ে পড়ে আছে। মা তার শিশুকে কোলে নিয়ে মেঘনার পাড়ে মৃত অবস্থায়। সোনাপুরের একটি বাগানে গাছের ডালে এক মহিলার লাশ ঝুলছে। এমনিভাবে মনপুরা, চরফ্যাশন, লালমোহন, তজুমুদ্দিন ও দৌলতখানসহ সমগ্র জেলায় মানুষ আর গবাদি পশু সেদিন বঙ্গোপসাগরের উত্তাল জলে ভেসে গেছে। জন-মানুষ শূন্য হয়ে পড়েছিলো দ্বীপজেলা ভোলা।

                                                                                kk

হাবিবুর রহমান আরো বলেন, পূর্বদেশ পত্রিকায় ‘বাংলার মানুষ কাঁদো, গাছে গাছে ঝুলছে লাশ’ শিরোনামে সংবাদ পাঠান তিন দিন পর। পত্রিকা অফিসে ছবি পাঠান একটি ট্রলারে করে। ঘটনার ৪দিন পরে পত্রিকায় সংবাদ ছাপা হলে পুরো দেশে এ নিয়ে আলোড়িত হয়। বিভিন্ন স্থান থেকে ত্রাণ আসতে শুরু করে। ১৮ বা ১৯ তারিখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ করে এক জাহাজ ত্রাণ নিয়ে আসেন ভোলায়। সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল মনপুরা। মনপুরার ২৬ হাজার মানুষের মধ্যে সাগরের জলে ভেসে যায় প্রায় ১৭ হাজার মানুষ।‘

                                                                               zhor4