উন্নয়ন সংবাদ ২১ অক্টোবর, ২০২০ ০৮:১৬

নভেম্বরের মধ্যে পাওনা বুঝে পাবেন মিল শ্রমিকরা: পাটমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে বিজেএমসি’র সকল মিলের শ্রমিকদের পাওনা সম্পূর্ণরুপে পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।

আজ বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে বিজেএমসি’র বন্ধ ঘোষিত মিলসসমূহের অবসরপ্রাপ্ত ও অবসানকৃত শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

মন্ত্রী বলেন “বিজেএমসি’র বন্ধ ঘোষিত মিলসসমূহের অবসরপ্রাপ্ত ও অবসানকৃত শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে এ পর্যন্ত ৮টি মিলের শ্রমিকদের পাওনা বাবদ মোট ১,৭৯০.৫২ কোটি টাকা অর্থ বিভাগ থেকে পাওয়া গিয়েছে, যা শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর এবং সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে পরিশোধ করা হচ্ছে। আগামী ২৫.১০.২০২০ তারিখে আরও ২টি মিলের (চট্টগ্রামের হাফিজ জুট মিল ও খুলনার ইস্টার্ণ জুট মিল) শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের কার্যক্রম শুরু হবে। আশা করা যাচ্ছে যে এ প্রক্রিয়ায় আগামী মাসের মধ্যে সকল মিলের শ্রমিকদের পাওনা সম্পূর্ণরুপে পরিশোধ করা সম্ভব হবে ।” 

তিনি আরও বলেন, পৃথিবী জুড়ে পাটের কদর ও চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় পাটচাষীরা ও কাঁচা পাটের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন। চলতি পাট মৌসুমে কাঁচা পাটের গড়দর ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫০% বেশি। এর ফলে পাটচাষীরা ভবিষ্যতে অধিক পরিমাণে পাট চাষে আগ্রহী হবে। এতে করে দেশের অর্থনীতিতে পাটখাতের অবদান আরো সুসংহত হবে বলে আশা করা যায়। মন্ত্রী বলেন, বন্ধ ঘোষিত পাটকলসমূহের শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের পাশাপাশি সার্বিকভাবে পাটখাতকে পুনরুজ্জীবিত এবং মিলগুলোকে উপযুক্ত মডেলে আধুনিকায়ন ও পুনঃচালু করার লক্ষ্যে মিল ও বিজেএমসি’র অন্যান্য সম্পত্তির যথাযথ ব্যবহার বিষয়ে অনুসরণীয় কর্মপন্থা ও কর্মকৌশল নির্ধারণ এবং বিজেএমসি’র সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনসহ প্রয়োজনীয় জনবলের যৌক্তিকীকরণ বিষয়ে সুপারিশ প্রদানকল্পে সরকার কর্তৃক উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ২টি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আশা করা যায় যে বর্ণিত কমিটি দু’টির সুপারিশের আলোকে বন্ধ ঘোষিত মিলগুলো নতুন আঙ্গিকে পুনরায় চালু হবে এবং এভাবে পুনঃচালুকৃত মিলে পূর্বের অভিজ্ঞ শ্রমিকগণ পুনঃকর্মসংস্হানের সুযোগ পাবেন। 

প্রসংগত উল্লেখ করা যেতে পারে যে পলিথিন ও প্লাস্টিকের অপরিণামদর্শী ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট পরিবেশ বিপর্যয়ের বিষয়ে বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান সচেতনতার দরুন প্রাকৃতিক তন্তু হিসেবে পাটের কদর ও চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।