উন্নয়ন সংবাদ ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৩:৪৮

মৎস্য খাতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতীক কুমিল্লা

মাছ চাষের জন্য প্রাকৃতিকভাবেই কুমিল্লার মাটি ও পানি বেশ উপযোগী। এখানে নদ-নদী, পুকুর, দিঘী, জলাশয় ও প্লাবন ভূমিতে জেলার চাহিদার দ্বিগুণের বেশি মাছ উৎপাদন হয়। মাছ উৎপাদনে কুমিল্লা বাংলাদেশে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

কুমিল্লায়  ব্যক্তি উদ্যোগে পুকুর দিঘীতে মাছ চাষে ব্যাপক সাফল্য আসছে। গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন ও তরুণ-যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কুমিল্লায় প্লাবন ভূমিতে মাছ চাষ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য মতে, কুমিল্লার ১৬ উপজেলার ৮৪ হাজার ৪২৪টি পুকুরে প্রতি মৌসুমে ১ লাখ ৫ হাজার ৭৩৮ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয়ে থাকে। এছাড়াও প্লাবন ভূমি, খামার, বিল ইত্যাদিতে লক্ষাধিক মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয়ে থাকে।

কুমিল্লার উত্তরাঞ্চলের দাউদকান্দি, মুরাদনগর, মেঘনা, হোমনা, তিতাস, চান্দিনা উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার হেক্টরের ৭০টি প্লাবন ভূমিতে প্রতি মৌসুমে উৎপাদন হয় প্রায় ৯০ হাজার মেট্রিক টন মাছ। জেলেদের পাশাপাশি ফসলি জমির কৃষকরাও প্লাবন ভূমির মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

রুই,সরপুঁটি, তেলাপিয়া, মৃগেল,কাতল, সিলভারকার্প, পাঙ্গাশ, ঘাসকার্পসহ বেশ কয়েক প্রজাতির মাছ চাষ হয়ে থাকে এলাকাগুলোতে।  কুমিল্লা জেলায় বছরে মাছের চাহিদা রয়েছে সাড়ে ৯৯ হাজার মেট্রিক টন। আর উৎপাদন হচ্ছে ২ লাখ ১০ হাজার ৬৪২ মেট্রিক টন মাছ। চাহিদার বিপরীতে অতিরিক্ত সোয়া লাখ মেট্রিক টন মাছ বেশি উৎপাদিত হয়ে এখানকার প্রায় ৬০ লাখ জনগোষ্ঠীর আমিষ পূরণ করে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থায় বাকি সিংহভাগ চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

স্থানীয় মৎস্য চাষি ফজলু মিয়া  বলেন, প্লাবন ভূমিতে মাছ চাষের ফলে দাউদকান্দি ও আশপাশের জলাঞ্চলের মানুষের অভাব ঘুচেছে। হাসি ফুটেছে তাদের মুখে। তাঁর মতে, শিক্ষিত তরুণরাই এখন এ পেশায় বেশি ঝুঁকছে। ফলে কমেছে বেকারত্বও। তাদের দেখাদেখি আশপাশের এলাকার মানুষও এখন প্লাবন ভূমিতে মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন বাসসকে বলেন, শুধু কুমিল্লার দাউদকান্দিতে তিন হাজার হেক্টর প্লাবন ভূমিতে মাছ চাষ হয়। এ উপজেলার শিক্ষিত তরুণরা মাছ চাষে সম্পৃক্ত হওয়ায় বেকারত্ব দূর হয়েছে। সেই সঙ্গে মাছের উৎপাদনও বাড়ছে। তাছাড়া জেলায় মাছের চাষ ও রোগ প্রতিরোধে মৎস্য বিভাগ চাষিদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।