অর্থ ও বাণিজ্য ২৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০৩:৪৪

চট্টগ্রাম বন্দরে পেঁয়াজের স্রোত

রিপোর্ট ডেস্ক ।। 
চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে প্রায় দুই হাজার টন পেঁয়াজ। মঙ্গলবার রাতে পেঁয়াজ পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় খালাসের কাজ। বুধবার ও বৃহস্পতিবার থেকেই বাজারে পাওয়া যাবে এ পেঁয়াজ।

জানা যায়, সমুদ্রপথ দিয়ে ঢাকার মেঘনা গ্রুপ ও চট্টগ্রামের বিএসএম গ্রুপের আমদানি করা পেঁয়াজের প্রথম চালান বন্দরে পৌঁছেছে। বিএসএম গ্রুপ তিন জাহাজে ৩৯ কনটেইনার পেঁয়াজ আমদানি করেছে। অন্যদিকে মেঘনা গ্রুপ এক জাহাজে এনেছে ৩০ কনটেইনার পেঁয়াজ। এই দুই প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা পেঁয়াজের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার টন।

মেঘনা গ্রুপের পেঁয়াজবাহী ‘ওইএল স্ট্রেট’ জাহাজটি মঙ্গলবার রাতে তুরস্ক থেকে বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছায়। জাহাজটিতে ৩০ কনটেইনারে প্রায় সাড়ে ৮০০ টন পেঁয়াজ রয়েছে। এই গ্রুপ প্রথমবার সমুদ্রপথে পেঁয়াজ আমদানি করেছে। এর আগে আজ ও গত রোববার দুই দিনে আকাশপথে গ্রুপটি ২০ টন পেঁয়াজ আমদানি করে টিসিবিকে দিয়েছে।

মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল গণমাধ্যমকে জানান, বাণিজ্যমন্ত্রীর অনুরোধে প্রথমবার পেঁয়াজ আমদানি করেছি। এই পেঁয়াজ সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবিকে আমদানিমূল্যে হস্তান্তর করব। তিনি আরো বলেন, পেঁয়াজের ব্যবসা নেই আমাদের। এরপরও বাজার যাতে স্থিতিশীল থাকে, সে জন্য আমদানি করেছি।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চীন থেকে বিএসএম গ্রুপের আমদানি করা পেঁয়াজের একটি চালান এসেছে ‘এমসিসি টাইপে’ জাহাজে। কনটেইনারবাহী জাহাজটি সোমবার বন্দর জেটিতে ভিড়েছে। এই জাহাজে থাকা ২০ কনটেইনার পেঁয়াজ খালাসও শুরু হয়েছে। এ ছাড়া বহির্নোঙরে থাকা এমভি টিজনি ও এমভি এলা জাহাজে রয়েছে আরো ১৯ কনটেইনার পেঁয়াজ। এই দুই জাহাজের চালান এসেছে মিসর থেকে। সব মিলিয়ে গ্রুপটি ১ হাজার ১০০ টন পেঁয়াজ আমদানি করেছে। ভোগ্যপণ্য আমদানির শীর্ষ ক্রমতালিকায় পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে গ্রুপটি।

বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী জানান, এর আগে কখনো পেঁয়াজ আমদানি করিনি। সরকারের অনুরোধে বাজারে সরবরাহ বাড়াতে প্রথমবার পেঁয়াজ আমদানি করেছি। ছোট-বড় সব ব্যবসায়ী যদি আমদানিতে উৎসাহী হয়, তাহলে বাজার স্থিতিশীল হতে বাধ্য।

বন্দর সূত্র জানায়, বন্দরে এখন প্রতিদিনই পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। এই দুই গ্রুপ ছাড়াও ছোট ব্যবসায়ীদের ৩৫ কনটেইনার পেঁয়াজ রয়েছে পাঁচটি জাহাজে। এগুলো পালাক্রমে বন্দর জেটিতে ভিড়ানো হবে। কয়েক দিনের মধ্যে এসব জাহাজে আসা পেঁয়াজের চালান খালাস হবে। সব মিলিয়ে ১০৪টি কনটেইনারে প্রায় ৩ হাজার টনের মতো পেঁয়াজ খালাস হবে কয়েক দিনের মধ্যে।

গত অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন গড়ে পেঁয়াজের সরবরাহ ছিল ৭ হাজার ৮৯২ টন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, প্রতিদিন চাহিদা ৬ হাজার টনের মতো। তবে বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ায় চাহিদা কমেছে। এরপরও দিনে ৩ হাজার টনের মতো চাহিদা রয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার টন পেঁয়াজ সরবরাহ হলে বাজার স্থিতিশীল হবে।