অর্থ ও বাণিজ্য ২৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০১:৪৯

আবার বাড়ছে বিদ্যুতের দাম

ডেস্ক রিপোর্ট ।।

আবারো বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কথা ভাবছে বিদ্যুৎ বোর্ড। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি বর্তমান দর ৪.৭৭ টাকা থেকে ১.১১ টাকা বাড়িয়ে ৫.৮৮ করার প্রস্তাব করেছে। 

এ ইস্যুতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) আয়োজিত গণশুনানিতে পিডিবি এ প্রস্তাব দেয়। 

তবে বিআরইসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি মনে করছে, পাইকারি বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ বাড়ানো প্রয়োজন।

রাজধানীর ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) অডিটোরিয়ামে বৃহস্পতিবার পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সংক্রান্ত পিডিবির প্রস্তাবের ওপর এই শুনানি শুরু হয়।

দিনের প্রথম ধাপে পাইকারি দর বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর শুনানি হয়। বিকেলে হবে সঞ্চালন খরচের প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি। শুক্র ও শনি সাপ্তাহিক ছুটির পর রবিবার থেকে টানা তিন দিন চলবে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি। এসব শুনানিতে অংশ নিয়ে যে কারো মতামত বা আপত্তি দেয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সকালে হাজির হয়ে নাম লিপিবদ্ধ করা যায়।

পিডিবির পক্ষ থেকে বিদ্যুতের দাম প্রস্তাব উপস্থাপন করেন পিডিবির জেনারেল ম্যানেজার কাউসার আমীর আলী। অন্যদিকে মূল্যায়ন কমিটির পক্ষে প্রস্তাব উপস্থাপন করেন কমিশনের উপপরিচালক (ট্যারিফ) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। 

শুনানিতে কমিশনের চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম, কমিশনের সদস্য মিজানুর রহমান, সদস্য আব্দুল আজিজ, সদস্য রহমান মুরশেদ, সদস্য মাহমুদউল হক ভূঁইয়া অংশ নেন।

এতে অংশ নিয়েছেন বিএনপি ও বেশ কয়েকটি বাম সংগঠনের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি উপস্থিত আছেন কয়েকটি ব্যবসায়ী সংগঠন ও কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিনিধিরা।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) প্রস্তাবে উল্লেখ করেছে, এলএনজি আমদানির কারণে গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ খাতে মোট ব্যয় বাড়বে দুই হাজার কোটি টাকা। এছাড়া কয়লার ওপর ভ্যাট আরোপ করায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের ব্যয়ও বেড়ে যাবে। সব মিলিয়ে আসছে ২০২০ সালে বর্তমান দর অনুযায়ী পাইকারি বিদ্যুৎ বিক্রি করলে ৯ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা লোকসান হবে। যে কারণে বিদ্যুতের পাইকারি দর ৫.৮৮ টাকা করা প্রয়োজন। 

এতে আরো বলা হয়েছে, পাইকারি বিদ্যুতের দর ২০১৭ সালের নভেম্বর ৮ পয়সা কমিয়ে ৪.৮৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তখন গড় ব্যয় ছিল ৫ টাকা ৪৪ পয়সার মতো। বিইআরসি ৬০ পয়সা হারে ভর্তুকি দেয়ার আদেশ দিয়েছিল। নতুন প্রস্তাবে ভর্তুকির বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি। সরকারি পুরো টাকা তুলে নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে এমন প্রস্তাবের পাশাপাশি বিকল্প সংস্থান হিসেবে ভর্তুতির প্রস্তাব রাখা হতো।

বিপিডিবি তার প্রস্তাবে আরো উল্লেখ করেছে, বিতরণ কোম্পানিগুলোর গড় রেট বিবেচনা করে দেখা গেছে, ডিপিডিসি ইউনিট প্রতি ৭.৬৭ টাকা, ডেসকো ৭.৮০ টাকা, বিপিডিবি ৬.৯৪ টাকা, ওজোপাডিকো ৬.৮৯ টাকা, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ৬.৩৪ টাকা ও নেসকো ৬.৬০ টাকা হারে দর আদায় করছে। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন।

গণশুনানিতে ডেসকো ৫.০৬ শতাংশ হারে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। অন্যদিকে ডিপিডিসি প্রস্তাবে বলেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে নিট রাজস্ব প্রয়োজন ১৪৮ কোটি টাকা। অপরেশন অ্যান্ড ব্যবস্থাপনা খরচ ৮০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে এ টাকা সমন্বয় করা প্রয়োজন। নতুন করে সঞ্চালন ও পাইকারি দাম বাড়ানো হলে সমন্বয় করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড তাদের প্রস্তাবে বলেছে, বিগত অর্থ বছরে ব্রেক-ইভেন ছিল। চলতি অর্থ বছরেও ব্রেক-ইভেন থাকবে। নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। তবে পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে দাম সমন্বয় প্রয়োজন পড়বে।