সোশ্যাল মিডিয়া ৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০৯:৪৭

'দুর্নীতিবাজ অসৎ যেই হোক, তাকে বয়কট ও ঘৃনা করবো'

ডেস্ক রিপোর্ট ।। 

দেশের বর্তমান অবস্থা ও দুর্নীতি পরিস্থিতি, ক্যাসিনো ব্যবসা নিয়ে বিশিষ্ট কলামনিস্ট পীর হাবিবুর রহমান তার ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস শেয়ার করেন। পাঠকদের সুবিধার জন্য তার স্ট্যাটাসটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো- 

"মানুষের ছোট্ট জীবন। তবু কেনো অনেকের রাতারাতি অবৈধভাবে অর্থ বিত্ত সম্পদের ভয়াবহ নেশা বুঝিনা! পৃথিবীর কোন দেশেই সবার অনেক টাকা হয়না!সবাইকেই ধনাঢ্য হতে হবে কেনো যেনতেনভাবে?

আমাদের পূর্বসুরীরাতো সাদামাটা সরল নিরাভরন জীবন যাপন করে গেছেন। সাধারন বাড়িঘর সহজ সরল জীবন,সাদা মাটা পোষাক আষাক,তবু তাদের কতো আভিজাত্য সম্মান আর টানাপোড়েন থাকলেও খাই খাই না থাকা সংসার জীবন ছিলো সুখের। সমাজ জীবনেও মূল্যবোধ আদব কায়দা ভদ্রতা নম্রতা কি অপূর্ব ছিলো।মনে হয় এইতো সেদিন!

রক্ষনশীল সমাজে বই পড়ার নেশা ছিলো বাড়ি বাড়ি।বই উপহার ছিলো সামাজিক লৌকিকতার অঙ্গ। গানের আসর,লেখালেখি,বিতর্ক ইনডোর আউটডোর খেলাধুলা ছিলো।

পারিবারিক সামাজিক বন্ধন ছিলো চোখে পড়বার মতো। সাম্প্রদায়িকতার বিষ কোথাও ছিলোনা,অথচ ধর্মচর্চা ও তার অনুশাসন ছিলো, ছিলোনা তার উগ্র রুপ। আহারে এইতো সেদিন সাদাকালো যুগ আমাদের কি খেলার মাঠ, ঘনবসতিহীন সাজানো প্রান্তিক শহর,ছবির মতোন ভাসে সব।নদী হাওর বৃষ্টি বর্ষা,খাল বিল নদী জলে ভরা।

বাড়ি বাড়ি পুকুর,ফল ফুল ভরা। শৈশব হাসে খেলাধুলায় ধুলোমাটি কাদায়, কৈশোর দূরন্ত হয় মাঠে মাঠে গড়ায়। দলাদলি গলাগলি, সাহিত্য সংস্কৃতি লিটল ম্যাগ! মাঠে মাঠে খেলাধুলো ঘুড়ি কাটাকাটির সেকি তুমুল উত্তেজনা উৎসব।

ছাত্রজীবন থেকে আদর্শিক রাজনীতির পাঠ,সৃজনশীলতা অনবদ্য এক সৃষ্টিশীল মানুষের কর্মশালা। গনরাজনীতি সে কি গৌরব সম্মানের! এখন সততা আর কোন দলের বৃত্তে নেই,মর্যাদা, সম্মান, আদর্শ ব্যক্তির বৃত্তে বন্দী। শিক্ষকতা থেকে কোন পেশাই আর মানুষের কাছে সম্মান ও শ্রদ্ধার আসনে নেই,সবগুলিতেই পচন।ব্যক্তিরাই কেবল আকড়ে আছেন।

হঠাৎ যেনো রাতারাতি যেনতেন উপায়ে অঢেল অর্থবিত্ত ভোগ বিলাস বেয়াদবি মিথ্যা দম্ভ অবক্ষয়ের চরিত্রহীনতা, সস্তা সমাজে মিথ্যাচার, যৌনবিকৃতি, বেশ্যার দালালি করেই হোক, শুয়েই হোক, বা কমিশন ঘুষ নিয়োগ, দালালি, দখল করেই হোক, অবৈধ বেআইনি পথেই হোক রাতারাতি কাড়ি কাড়ি টাকা, দামি দামি মডেলের গাড়ি, আলিশান বাড়ি ফ্লাট,  বিদেশে অর্থ পাচার ফ্যাশনে দাঁড়িয়েছে। সেকালের সম্রাটরা যেমন মরনে একটি মোহর নিয়ে যেতে পারেননি, একালের ধনাঢ্যরা একটি ডলার মরনে নেবার সূযোগ পাননা! তবু লোভের অবৈধ ফনা লকলক করে,শোঅফের নেশায় ডুবে দিকে দিকে চোর।

সমাজে ভদ্র সৎ নির্লোভ আদর্শিক মানুষেরা বিদ্রুপ উপহাসের পাত্র আর বেহায়া লোভী নির্লজ্জ সস্তা দুর্নীতিবাজরা দাপুটে হয়ে গেলো। সমাজ ভিতরে ঘেন্না করলেও হঠাৎ টাকা হওয়া হনুমানদের লাফালাফিতে ক্ষমতার করুনাশ্রিত জীবনে সবাইকেই তাদের সমীহ করতে হবে। তাদের উগ্র শোঅফ সবাইকে উপভোগ করতে হবে। মনে হয় আচমকা সর্বগ্রাসী দানব আমাদের সব সুখ কেড়ে নিলো। সব পেশার একদল নষ্ট দুর্নীতিবাজদের উন্মত্ততা গ্রাস করলো সমাজে। সবাই নামলো নষ্ট হয়ে ভোগ করার আজব এক প্রতিযোগিতায়।

শেখ হাসিনার দুর্নীতি ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ মাত্র আঘাত করেছে। ঘুম ভেঙ্গেছে। যুদ্ধ আরো সাঁড়াশি অভিযান নেবে,এর অনিবার্যতা ছিলো। নষ্টরা পরাজিত হলে, আদর্শ নীতিবোধ সততা আদব কায়দা ফিরে এলে, ফের আমাদের গৌরবের জীবন ফিরবে। আইন বিধিমোতাবেক দুর্নীতি রোধে যার যতটুকু ততটুকুই অর্জন করে আদর্শিক সমাজে ফিরে আসতে হবে। আসুননা আমরা আমাদের ধর্মের নামে, পবিত্র সন্তান, মা বাবার নামে ও মহান নেতা ও লাখো শহীদের নামে আজ এই সকালে শপথ নেই,আমরা দুর্নীতি লোভ থেকে নিরাপদ রাখবো। দুর্নীতিবাজ অসৎ যেই হোক, তাকে বয়কট ও ঘৃনা করবো।"