সোশ্যাল মিডিয়া ১ অক্টোবর, ২০১৯ ১০:১১

ছাত্রলীগের দুঃসময়ের সারথী নাজমুলের বিরুদ্ধে চক্রান্ত!

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

সিদ্দিকি নাজমুল আলম, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক। এর আগেও রয়েছে নাজমুলের সংগ্রামী রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নের শুরুতেই ছাত্রলীগের মিছিলে অংশ নেওয়া নাজমুলকে প্রতি পদে পদে আঘাত সহ্য করতে হয়েছে। বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় থাকার সময় মাস্টার দা সুর্যসেন হলে ছাত্রদলের টর্চার সেলে বারবার নির্যাতনের শিকার হতে হয় নাজমুলকে। হলে যখন ছাত্রদলের জয়জয়কার তখন হলের ভেতরে নিরবে কাজ করেছেন ছাত্রলীগের জন্যে, সর্বোপরি আওয়ামীলীগ নেত্রী শেখ হাসিনার জন্যে। প্রতি রাতে নাজমুলকে রুম থেকে ধরে নিয়ে নির্যাতন চালানো হতো। বেশীরভাগ সময় সিদ্দিকি নাজমুলকে কাটাতে হতো বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে। কোন সময়েই হল কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এগিয়ে আসেনি ছাত্রলীগ কর্মীদের পাশে । আওয়ামী লীগ যখন বিরোধী দলে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যখন অস্ত্রধারী ছাত্রদল নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রনে। কিন্তু ক্যাম্পাসে ছাত্রদের সমর্থন না পাওয়ায় কথায় কথায় যারা বহিরাগতদের নিয়ে আসতো। যখন ক্যাম্পাস ছিলো ত্রাস ও আতঙ্কের স্থান। তখনও নিরবে চুপিসারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ে ছাত্রলীগের সমর্থক ছাত্রদের সাহস জুগিয়ে যেতেন এই নাজমুল।কথা গুলো বলছিলেন, নাজমুলের হল জীবনের খুব কাছ থেকে দেখা এক সতীর্থ। বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোতে অভাব অনটন ছিলো তার নিত্য সঙ্গী। কিন্তু ব্যাক্তিগত জীবনের এই পাওয়া না পাওয়ার সদা অনিশ্চয়তা ও দোদূল্যমান পরিস্থিতিতেও থেমে থাকে নি নাজমুলের মানবিকতা। নেত্রী যখন আটক হলেন , নেত্রীর মুক্তির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বের হওয়া প্রথম প্রতিবাদী মিছিলের শ্লোগানদাতা ছিলেন এই নাজমুল। মিছিল জুড়ে ছাত্রলীগের কর্মী ছিল মাত্র ১০ থেকে ১৫ জন। কিন্তু প্রতিবাদের ভাষা যখন বজ্রকন্ঠ, অসম সাহসী নাজমুলের জন্য এই তো যথেষ্ট। 

ছাত্রলীগের ঢাকা  বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ সাধারন সম্পাদক থেকে ধীরে ধীরে সিদ্দিকি নাজমুল ইসলাম সারা দেশের ছাত্রলীগ কর্মীর প্রত্যক্ষ ভোটে সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। নেতৃত্বে থাকাকালীন সারা দেশের সব জেলা , বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি উপজেলা পর্যায়ে নির্দিষ্ট সময়ে ত্যাগী নেতাদের সমন্বয় কমিটি গঠন করেন। যারা বিতর্কিত কর্মকান্ড করেছেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যাবস্থা নেওয়া থেকে শুরু করে, যেসব ত্যাগী নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল, আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতা  এমনকি প্রশাসনের বড় বড় আমলা, সেইসব ছাত্রলীগ নেতাদের পাশে থেকেছিলেন জামালপুরের ছেলে নাজমুল।

আজ যখন দলের সুসময়, তখন এক দল সুবিধাভোগী নাজমুলকে বিপদে ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ক্ষমতায় থাকাকালীন কমিটি বিক্রির নামে শিরোনাম হননি, হননি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে টেন্ডার ভাগাভাগি করতে গিয়ে পত্রিকার শিরোনাম। কখনো তার বিরুদ্ধে অযাচিত প্রভাব খাটানোরও অভিযোগ যেখানে তার বিরুদ্ধে নেই। সেখানে অপপ্রচারকারীদের ষড়যন্ত্র তো দিবালোকের মত স্পষ্ট হয়ে যায়। 

পদ থেকে বিদায় নেবার পর নিয়মিত রাজনৈতিক সভা সমাবেশে অংশ নেন নাজমুল। উচ্চ শিক্ষা নেবার জন্যে অনেক ছাত্রের মত নাজমুলও পাড়ি জমিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যে। পরীক্ষার ফাকে সময় পেলেই চলে আসেন স্বদেশে, অংশ নেন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে। বিদেশে থাকলেও অনলাইনে বিএনপি-জামাত সমর্থকদের বিরুদ্ধে বরাবরই শক্ত অবস্থানে থাকেন এই নাজমুল। আজ সেই নাজমুলের নামে অপপ্রচারে বিষ্মিত সাবেক এক ঝাক তরুন ছাত্রলীগ নেতা –কর্মী। কিন্তু তাদের সেই সদা হাস্যজ্বল পরিচিত মুখ থেকে এবার বেরিয়ে এসেছে প্রতিবাদের স্ফূলিঙ্গ ও একই সাথে ক্ষমা করার মত হৃদয়। তার বিরুদ্ধে এতো বড় অপপ্রচারের পরও তিনি শুধু সত্যটি তুলে ধরেছেন। একই সাথে জানিয়েছেন যে সেই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়ার অনীহা। কারন তার ক্ষতি করা লোকটিরও তিনি ক্ষতি করতে চান না।  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার দেওয়া স্ট্যাটাসটি আমাদের কাগজ পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে দেওয়া হলো-


"তামাশা ????????
লন্ডনে একটা কোম্পানি খুলতে খরচ হয় ১২ পাউন্ড
৪ টি কোম্পানি খুলতে খরচ হয়েছে ৪৮ পাউন্ড বাংলা টাকায় প্রায় ৪৯০০ টাকা যা সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স খুলার চাইতেও কম । আর অপরিশোধিত মূলধন হিসেবে চাইলে আপনি যা ইচ্ছা দেখাতে পারবেন তারপরও আমার কোন কোম্পানির অপরিশোধিত মূলধনের পরিমান ৫/৭ হাজার পাউন্ডের বেশী নয় অথচ কি কাল্পনিক নিউজ ?
আর কোম্পানী যুক্তরাজ্যে চাইলে যে কেউ খুলতে পারে জাস্ট ২০ মিনিট সময় লাগে অনলাইনে ।
আমার কোম্পানিগুলোর নাম তো সবাই পেলেন এখন
Companyhouse.gov.uk এখানে গিয়ে দেখলেই বুঝবেন সংবাদের সত্যতা কতটুকু।
আরেকটা কথা যুক্তরাজ্যে চাইলেই কেউ কোটি কোটি পাউন্ড ইনভেস্ট করতে পারে না ।
আর যে কোম্পানির কথা বলছেন ১০ কোটি টাকার সেটা এক্ষন ঐ সাংবাদিকের কাছে বিক্রি করতে চাই বিনামূল্যে
যদি কোন মায়ের বুকের দুধ খেয়ে থাকেন চ্যালেন্জ গ্রহন করুন আমি বললাম তো ঐ কোম্পানীতে এক টাকাও বিনয়োগ করা হয়নি শুধু নাম দিয়ে কোম্পানী খুলে রেখেছি ।
মামলা করলে এদেশে কি পরিনতি হয় তা তো জানেন পন্ডিত সাহেব ?
দিলামনা আপনার পেটে লাথ্থি কারন হয়তোবা এস্যাইলাম মেরে থাকতেছেন এই দেশে হাজার মাইল দুরে রেখে আসা পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে ।
আমি চাইলেই পন্ডিত মহাশয়কে আইনের মাধ্যমে শায়েস্তা করতে পারি আবারও মাফ করে দিলাম কারন অভ্যাস হয়ে গেছে ।
লায়ার!
লল !!!!!!!!!!!!"

উল্লেখ্য, প্রকাশিত ষড়যন্ত্রমূলক প্রতিবেদনে বলা হয় যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম যুক্তরাজ্যের লন্ডনে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তার নামে ব্রিটেনের কোম্পানি হাউজে আবাসন, গাড়ির অ্যাক্সিডেন্ট ক্লেইম ম্যানেজমেন্ট, পণ্যের পাইকারি বিক্রেতা, বিজ্ঞাপন, চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান, সেবা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ধরনের ছয়টি কোম্পানির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি কোম্পানির পরিচালক পদে তার নাম নেই। বাকি চারটি কোম্পানির মধ্যে একটির একক পরিচালক এবং আরও তিনটি যৌথ পরিচালক হিসেবে তিনি রয়েছেন। এছাড়াও সে সংবাদে দাবি করা হয় যে ইংল্যান্ডে কোম্পানী খুলতে ২ লক্ষ পাউন্ড অর্থ্যাৎ প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টাকার বিনিয়োগের দরকার হয়। তবে আমাদের কাগজের অনুসন্ধানী দল বিষয়টি খতিয়ে দেখলে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সত্যতা পায় নি। ইংল্যান্ডের কোম্পানী ওপেনের ক্ষেত্রে নতুন কোম্পানী খোলা সংক্রান্ত ব্রিটিশ সরকারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট companyhouse.gov.il এ দেখা যায় যে মাত্র ৪ ঘন্টায় ইংল্যান্ডে একটি কোম্পানী খোলা যায়। এমন কি শর্ত হিসেবে রয়েছে অন্তত পক্ষে একজন ব্যাক্তির তথ্য, কোম্পানীর নাম ও খুবই স্বল্প পরিমান অর্থের প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে ২ লক্ষ্ পাউন্ড বিনিয়োগের বিষয়টি কোন ভাবেই সঠিক নয়। এরপরে সেই প্রকাশিত খবরে কোম্পানীর যে নাম গুলো দেওয়া হয়েছে তাও অনুসন্ধান করে সেই খববের সত্যতা পাওয়া যায় নি।  এলিট সিটি লিমিটেড নামের একটি কোম্পানী যা খোলাই হয়েছে সম্প্রতি এবং এই কোম্পানীর অর্থ সংক্রান্ত যেই তথ্য দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে, তাও সঠিক নয়। তার অন্য কোম্পানী কার মিউজিয়াম লিমিটেড ২০১৬ সালে খোলা হলেও এইখানেও কোন বড় প্রকারের বিনিয়োগ হয় নি। একোম্পানীর শেয়ার সংখ্যা মাত্র ১০০ টি এবং প্রত্যেকটি শেয়ারের মূল্য ১ পাউন্ড। এছাড়াও অন্য প্রতিটি কোম্পানীর ক্ষেত্রেও প্রতিবেদনে প্রকাশিত কোন তথ্যই সঠিক নয় বলে আমাদের কাগজের কাছে প্রতিয়মান হয়েছে। 

এছাড়াও আমাদের কাগজের সাথে আলাপকালে , সিদ্দিক নাজমুল জানান, কারও বিরুদ্ধে নাজমুলের অভিযোগ নেই। সারা দেশের ছাত্র সমাজ জানে। তিনি কি করতে পারেন। তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত যত আক্রমন এবং ষড়যন্ত্রই হোক না কেন, সবাইকে দেশরত্নের চলমান দূর্নীতির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধে সহযোগিতা করার জন্যে আহ্বান জানান তিনি।