সোশ্যাল মিডিয়া ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০৩:৫১

দেশের ৯০ শতাংশ ব্যবসা এখনও বিএনপি জামায়াতের হাতে

ডেস্ক রিপোর্ট।।

বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল হাসান জুয়েল বিএনপি জামায়াতের আমলে তৎকালীন সন্ত্রাসদ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এবং শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে ছিলেন রাজপথে সোচ্চার। তৎকালীন সময়ে তিনি বহুবার হয়রানির শিকার হয়েছিলেন।

সম্প্রতি কয়েকটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যম উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে কিছু সংবাদ প্রকাশ করে, তার ফলে তিনি আবেগতারিত হয়ে গতকাল ১১:৫৯ মিনিটে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি বলেন, ''৯০ শতাংশ ব্যবসা এখনও বিএনপি জামায়াতের সক্ষম লাইসেন্সধারীরাই করে যাচ্ছে...! এরা মাঝে মধ্যে কিছু উচ্ছিষ্ট দিয়ে আওয়ামীলীগ এর উপর ভর করে, মূল ব্যবসা এখনো তাঁরাই করে''। 

আমাদের কাগজ পাঠকদের উদ্দেশে তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা এবং ছাত্র রাজনীতির পাঠ শেষ করে রাজনীতির পাশাপাশি জীবন জীবিকার তাগিদে দ্বারে দ্বারে ঘুরে শতভাগ নিয়ম নীতি মেনে ছোট ছোট কাজ দিয়ে আমি ব্যবসা শুরু করি।
আমি মনেকরি শুধুমাত্র রাজনীতি জীবন জীবিকার জন্য কোন পেশা হতে পারেনা;
বাস্তবতা এবং আমার মনের বিশ্বাস ধারন করতে আমার মত মানুষের সংসার এবং জীবিকা নির্বাহে কাজের বিকল্প কিছু নেই।আর রাজনীতির কোন অভিধানে লেখা নেই যে নিয়ম মেনে সৎ ভাবে ব্যবসা করা যাবেনা। যদি থাকতো তাহলেও হয়তো কিছু করার ছিলনা, কারন হাত পেতে লিল্লায় তো আর জীবন ধারণ করা সম্ভব হবেনা তাছাড়া যখন ছাত্ররাজনীতি ছেড়েছি তখন সরকারী চাকুরীর বয়সও ছিলনা তাই ব্যবসা করাটাই বাধ্যতামূলক ছিল।

আমি সারা জীবন একটা আদর্শ এবং সততা নিয়ে চলার চেষ্টা করেছি;
এখনো যখন কর্মক্ষেত্রে যাই তখন নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের পোশাকটা খুলে যাই।
দরকার হলে পিয়ন-দাড়োয়ান দেরও স্যার বলতে কুণ্ঠাবোধ করিনা,
অফিসার ইন্জিনিয়ার তো আছেই;
এসব নিয়ে হেজিটেশন করলে তো আর কাজ করা যাবেনা।
এভাবে একজন প্রকৃত ব্যবসায়ী হিসেবে ব্যবসা করি প্রায় এক দশক হলো,
এই লম্বা সময়ে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত এবং চ্যালেন্জের মুখোমুখি হয়ে কাজ শিখতে হয়েছে;
ছাত্র রাজনীতি ছাড়ার পরে বাস্তব জীবনটা অনেক কঠিন-দুর্বিষহ হয়েপরে; সেই বাস্তবতায় পা দিয়ে ব্যবসা বুঝে উঠতে কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প কিছু নেই।
এক কথায় শ্রমজিবী মানুষ হয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কাজ করতে হয়।
দিন-রাতে ৪ ঘন্টা বিশ্রামের বাইরে কাজ ব্যাতিত একটি মিনিটও কবে অযথা ব্যয় করেছি সেটা মনে করতে পারিনা;
যারা আমাকে কাছে থেকে দেখে তারা অবাক হয়ে আমাকে বলে
এতো পরিশ্রম একটা মানুষ কিভাবে করে ?
কাজের বাইরের দুনিয়ায় আমার বিরুদ্ধে সংসারে স্ত্রী-সন্তান, স্বজনদেরও একই অভিযোগ; কাউকেই তার প্রাপ্য সময়টুকু আমি দিতে পারিনা।
আমি ভাবি পরিশ্রম তো আর সারা জীবন করা যাবেনা।সুস্থতা আল্লাহর সবচেয়ে বড় নিয়ামত; যতদিন পারাযায় এই নিয়ামতের মধ্যে থেকেই হাড়-ভাঙ্গা পরিশ্রম করতে হবে।
কারন আমি জানি আল্লাহ ছাড়া আমাদের ভাগ্য উন্নয়নে আর কেউ সহায়তা করবেনা।;
আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমত এবং মা- বাবা’র দোয়া সাথে নিয়েই সৎ ভাবে দিবানিশি কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি
আর দশজন সাধারন ব্যবসায়ী যেই নিয়মে ব্যবসা করে আমিও সেই নিয়ম মেনেই ব্যবসা করি,
কারন রাজনৈতিক মুল্যায়নে আমাদের দেশ এবং দলে জীবিকা নির্বাহে কেউ সহযোগীতা করেনা; তার শত শত বাস্তব উদাহরণ আমাদের সামনে রয়েছে;
আমাদের লাইসেন্সের সক্ষমতা এখনো তেমন হয়ে ওঠেনি, ব্যাংক গুলো টাকা ওয়ালা এবং ঋণ খেলাপিদের আরো টাকা দিতে বেশী স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে;
তাছাড়া পিপিআর এর কর্তারাও বড় লাইসেন্সধারী মিয়া’দের আরো বড় হওয়ার জন্য নীতিমালা তৈরী করে রেখেছে।
এজন্য ৯০ শতাংশ ব্যবসা এখনও বিএনপি জামায়াতের সক্ষম লাইসেন্সধারীরাই করে যাচ্ছে...!
এরা মাঝে মধ্যে কিছু উচ্ছিষ্ট দিয়ে আওয়ামীলীগ এর উপর ভর করে,
মূল ব্যবসা এখনো তাঁরাই করে,
অফিসার এবং কর্তাব্যক্তিরাও তাদের সাথে কাজ করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে,
আমি শুরু থেকেই এসবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শিক্ষানবিস হিসেবে নিজের লাইসেন্সে ছোট ছোট কাজ থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। প্রয়োজনে আমার এক অভিভাবক-তুল্য বড় ভাই এর সহযোগীতা নিয়ে তার সাথে জয়েন্ট-ভেন্চার করে কাজ করেছি;
কারন ক্লাস ওয়ান থেকে তো একসাথে আর মেট্রিক পাশ করা যায়না ।
সব কিছুই সময়ের সাথে ধাপে ধাপে করতে হয়। গত পাঁচ বছরে সিটি কর্পোরেশনের কাজে শতভাগ ইজিপি টেন্ডার সিষ্টেম চালু আছে; এই সিষ্টেমে কোথাও টেন্ডার জমাদিতে বাধা প্রাপ্ত হওয়ার কোন সুযোগ নেই; কারন সব কার্যক্রম অনলাইনেই করা যায় এজন্য উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে বিশ্বের যেকোন স্থান থেকে যে কেউ কাজে অংশগ্রহন করতে পারে আর দরপত্র মুল্যায়নের শতভাগ এখতিয়ার ডিপার্টমেন্টের মুল্যায়ন কমিটির হাতেই থাকে এখানে টেন্ডারবাজীর কোন সুযোগ নেই, আমরা নিরাপদে ব্যবসা করতে পারি, এমনই ইজিপি’তে উন্মুক্ত দরপত্র এখন প্রায় সব ডিপার্টমেন্টেই চালু আছে;
টেন্ডারবাজী শব্দটি এখন ডিজিটাল বাংলাদেশে অমূলক বিষয় হয়ে গেছে; কাজ দেওয়া না দেয়ার সম্পুর্ণ এখতিয়ার দরপত্র আহ্বানকারী কতৃপক্ষের হাতে; একটি কাজে অংশগ্রহনের কিছু পূর্বশর্ত থাকে তা হলো এই কাজ করতে লাইসেন্সের বিগত পাঁচ বছরে একটি বড় টার্নওভার থাকতে হবে, ৬০- ৮০% সমমুল্যের কার্যাদেশ থাকতে হবে,
অনলাইনে ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হবে,
ব্যাকের লিকুইড সার্টিফিকেট অর্থাৎ কাজটি ফেইল করলে ব্যাংক’কে এর দায় নিতে হবে মর্মে সার্টিফিকেট দিতে হবে এবং একাধিক দরদাতা থাকলে মেট্রিক্স পদ্ধতিতে তার মুল্যায়ন করে কাজ সিদ্ধান্ত নিতে হয়;
কাজ দেয়া না দেয়ার সম্পূর্ন এখতিয়ার এখন সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্ট এবং ইন্জিনিয়ারদের হাতে;
কাজ সমাপ্তির পরে যথাযথ মুল্যায়ন শেষে ঠিকাদারী কাজে বিল হওয়ার আগেই সরকারী কোষাগারে ১৫% আয়কর এবং ভ্যাট কেটে অর্থাৎ ১০০ টাকার কাজের বিপরীতে ৮৫ টাকা বিল পরিশোধিত হয়।
এখানে কেউ প্রকৃত ব্যবসায়ী না হলে নিজের নামে কাজ করার কোন সুযোগ নেই; কারো কথায় কেউ কাজ দেয়না।
কোন ইন্জিনিয়ারও অনিয়ম করলে সিপিটিইউ এর আইন অনুযায়ী তাকেও জবাবদিহি করতে হবে।
তাই রাস্তা থেকে ডেকে এনে অথবা সক্ষমতাহীন লাইসেন্সে কাজ দেয়ার কোন সুযোগ এখন কারো নেই।
কেউ অনিয়ম করলে এটা তার জবাবদিহিতার বিষয়;
এখানে ঠিকাদারের হাতে কিছুই নেই।
নিয়ম অনুযায়ী কাজে অংশগ্রহন করে ডিপার্টমেন্টের সাথে এগ্রিমেন্ট সম্পন্ন করে সময় এবং নিয়ম অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করাই শুধু ঠিকাদারের হাতে থাকে; এর বাইরে টেন্ডার প্রক্রিয়া ঠিকাদারের কোন ভূমিকা নেই।
এখানে কে কতটাকার কাজ করবে সেটা নির্ভর করবে তার সক্ষমতার উপর।
একটা কাজ উন্মুক্ত পদ্ধতিতে অংশগ্রহনের আহবান করা মানেই হলো সক্ষমতা অনুযায়ী যে কোন স্থান থেকে যে কেউ অংশ গ্রহন করতে পারবে;
এই নীতিমালা পিপিআর এর
নির্ধারনী কর্তা ব্যক্তিরা গবেষনা করেই করেছে,
এখানে দল বা ব্যক্তি পরিচয় কোন মূখ্য বিষয় নয়।
কোথাও লেখা থাকেনা যে দল করলে নিয়ম মেনে ব্যবসা করা যাবেন অথবা বেশী কাজ করা যাবেনা।
তাহলে বড় বড় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বড় প্রকল্পের ঠিকাদারী করতে পারতো না, আর সরকারেরও এত উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব হতোনা।
যারা বড় ঠিকাদার তারাও কিন্তু একদিনে সক্ষমতা অর্জন করেনি; ধীরে ধীরে কাজের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে ক্লাস ওয়ান থেকে পর্যায়ক্রমে এমএ পাশ করে আজকের অবস্থানে এসেছে।
রাজনীতি করা লোকেরা ব্যবসা করতে পারবেনা এমন নিতিমালা থাকলে আমি হয়তো নিজের ব্যাক্তি জীবনে পথচলার সিদ্ধান্ত’টা শুরুতেই বেছে নিতাম।

তখন হয়তো আমাদের সন্তান’দের কাছে তাদের স্কুলে-সমাজে অন্য মানুষের সন্তানরা আলাপচারিতায় যদি জানতে চায় যে তোমার বাবা কি করে ?
আমাদের সন্তান’রা হয়তো উত্তরে বলত আমার বাবা রাজনীতি করে।
তোমাদের সংসার কেমনে চলে এমন প্রশ্নের জবাবে হয়তো বলতো বাবা ধান্দাবাজী-তদবির-দালালী অথবা চিটারি করে আমাদের সংসার চালায়!
হয়তো এভাবেই সমাজে কুকুর বিড়ালের মতো পরিচয় দিয়ে বড় হতে হতো আমাদের সন্তান’দের! প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম..!
এটাতে নিশ্চয়ই তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করত না;
আমি জানিনা যেসকল রাজনীতিবিদের ট্রেড লাইসেন্সও নেই অথচ বিলাসবহুল জীবন যাপন করে;
তাদের সন্তান’রা সমাজে বাবা’র এই পরিচয় দিয়ে কতটুকু স্বাচ্ছন্দবোধ করে..!
জানলে হয়তো সব কিছু বিচার বিবেচনা করেই চলার পথ বেছে নিতাম এবং দিনরাত পরিশ্রম না করে
অথর্ব পরশ্রীকাতর মানুষের গাল ভরা গল্পের মধ্যমনিতে পরিণত হতাম।
এরমধ্যে অবশ্য যারা সরকার থেকে বেতন পায় এবং এই বেতনের টাকা দিয়ে সংসার চালায় তাদের কথা ভিন্ন;
আমি মনেকরি কোন ব্যবসায়ীকে টেন্ডারবাজ বানানোর চেষ্টা পরশ্রীকাতর মানুষের ঘোলাপানিতে মাছ স্বীকারের চেষ্টা ছাড়া আর কিছুইনা.
কাউকে নিয়ে সংবাদ প্রচারের কিছু নিয়ম নীতি থাকা উচিত;
কারো দ্বারা প্ররোচিত হয়ে প্রমান ছাড়া আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছাড়া একপেশে মনগড়া সংবাদ পরিবেশন কোন সাংবাদিকতার শিষ্টাচার হতে পারেনা।

রাজনীতি অঙ্গনে এবং ব্যবসায়ী অঙ্গনে আমাকে ঘিরে একটি মহল সবসময়ই ষড়যন্ত্র করে আসছে আর সম্মেলন বা প্রতিযোগিতামূলক কিছু সামনে থাকলে তো কথাই নেই...
এই সময়ে ঐসব পরশ্রীকাতর দাঁতে বিষ ওয়ালা পিচাষ‘দের মাথা নষ্ট হয়ে যায়। অথচ আমার জীবনে আমি কারো ক্ষতির কারন হইনি;
এমনকি যারা প্রকাশ্যে অনবরত আমার ক্ষতি করে; গিঁট ওয়ালা বাঁশ দিয়ে আসছে তাদেরওনা; মনের কষ্ট গুলোর বিচারের ভার আমি আল্লাহর উপর দিয়ে রাখি।
আল্লাহ নিশ্চই প্রতিটি পাপ পূন্যের হিসেব নেবেন।
পরশ্রীকাতরতা নয়; আমি আমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করি। মানুষ যখন অন্যের সমালচনায় মক্ত থাকে আমি তখন শ্রমিকের ন্যায় দিন-রাত নিজের কাজে ব্যস্ত থাকি; অন্যের টাকার হিসেব করে আমি নিজের ক্যালকুলেটর ভাঙ্গিনা।
যেটা আমার ট্রপিক্স না আমি সেটা নিয়ে সময়ও নষ্ট করিনা।
আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি এবং পরশ্রীকাতর এইসব দাঁতে বিষওয়ালা অপকর্মের হোতা’দেরও জানা উচিত যে

“নেতৃত্ব, নেক হায়াত এবং নেক রিযিক আল্লাহর দান।”

“যদি থাকে নসিবে আপনা আপনিই আসিবে”
আমি এই নিতিতে বিশ্বাসি,

কপালে থাকলে পয়সা খরচ করে আমার বিরুদ্ধে নিউজ করিয়ে সেটা ঠেকানো যাবে না।

পিপিআর অনুযায়ী ঠিকাদারী ব্যবসা এবং ইজিপির টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জ্ঞান না থাকার কারনেই তারা অবলিলায় যে যা না তাকে তাই বানিয়ে মানুষের চরিত্র হননের অপচেষ্টা লিপ্ত হচ্ছে,
কাঁদা ছড়াছড়ির চেয়ে এখন গু ছোড়া-ছোড়ি চলছে।
বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি আমি জীবনে নিজের কষ্টার্জিত টাকা ছাড়া কোন অসৎ পথে অর্জিত টাকা, টেন্ডারের ভাগের টাকা, তদবিরের টাকা কিছুই কোনদিন নেই না।
ইজিমানি রোজগারে আমি বিশ্বাসি নই;
শতভাগ নিয়ম মেনেই আমি ব্যবসা করি এবং কঠোর পরিশ্রমের এই অর্জন আমার জীবনের পরম পাওয়া।
আমি সব সময় মহান রাব্বুল আল-আমিনের প্রতি সিমাহীন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি,
সমাজে কিছু চরিত্রহীন অমানুষ থাকে যাদের কাজই নিজের সিমাহীন পাপকাজ ঢাকতে অন্যের বিরুদ্ধ কুৎসা রটিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ স্বীকার করা।
সাংবাদিক ভাইদের বলবো কোন কিছু লেখার আগে সত্যতা যাচাই করুন শতভাগ পেশাদারিত্বের পরিচয় দিন।
কেউ আমার সম্পর্কে কানে কানে বললো আর আপনি ঝাপিয়ে পড়লেন এই অভ্যাস পরিত্যাগ করুন।
প্রয়োজনে আমার কাছে জানতে চান,
একতরফা অভিযোগে তো কোন নিউজ হতে পারে না।
আমি আগেই বলেছি কাউকে কাজ পাইয়ে দেয়ার সুযোগ আমার তো দূরের কথা আমার বাবা’রও নেই;
আমি তো দালালী করতে আসিনাই; আমি নিজেই অন্যের থেকে কাজ কিনে করি,
কাজ পাওয়ার সুযোগ থাকলে তো আমি নিজেই সক্ষম,
অন্য মানুষ কে আমার ডাকতে হবে কেন..?
নীতি-আদর্শ বিসর্জন দিয়ে আমি জীবনে কোন কাজ করিনি জীবন থাকতে কোনদিন করবওনা।
কাজ দেয়া নেয়ার এখতিয়ার শুধুই দরপত্র আহবানকারীর;
ডিপার্টমেন্টের কর্তা ব্যক্তি তো আমার আত্মীয় লাগেনা যে আমার কথায় অন্যকে কাজ দেবে !
আর যেখানে আমি নিজেই কাজ খুঁজি সেখানে অনের জন্য সুপারিশ করে নিজের কোটা শেষ করার মতো বোকা আমি নই; নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী বছরে যে কয়টা কাজে অংশগ্রহন করি তা নিজের জন্যেই করি; আমার নিজের কাজের বাইরে অন্য কারো কাজ নিয়ে মাথা ঘামানো আমার কাজ না।আমার সম্পর্কে হয়তো আপনি জানেন না তাই কান কথা শুনেই লিখে দিলেন;
এটা হলফ করে বলতে পারি আদর্শচ্যুত কোন কাজের সুযোগ থাকলেও জীবনে আমি এই সুযোগ গ্রহন করিনি।
ইনশাআল্লাহ জীবনে করবোও না।
নিজের কষ্টার্জিত উপার্জনের বাইরে অন্যের টাকার লোভ আমার কোনদিনই নেই।
তবুও আমাকে আপনার প্রমান দিতে হবে; আমি কাকে কাজ পাইয়ে দিতে সুপারিশ করেছি?
যদি প্রমাণ করতে পারেন তাহলে ব্যবসা ছেড়ে আপনার গোলামী খাটবো আর যদি প্রমাণ করতে না পারেন তাহলে
এই সংবাদে আমাকে যতটুকু হেয়প্রতিপন্ন করেছেন একদিন আপনাকেও নিজের স্ত্রী- সন্তান এবং পরিবারের সামনে হেয় প্রতিপন্ন হতে হবে।
আল্লাহর কাছে আমার এই আবেদন থাকলো।
বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করে আমার দীর্ঘদিনের রাজনীতির সুনাম নষ্ট করতে যারা সক্রিয় তাদের বিচারও একদিন হবেই হবে।
আমি আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাসী ধর্ম-কর্ম পালন করা
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ রোজা করা মানুষ;
আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে তিনবার পবিত্র হজ্ব পালন করতে পেরেছি অসংখ্যবার আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করার সুযোগ পেয়েছি, জীবনে কোনদিন মদ/বিয়ার তো দূরের কথা কোন নেশাই করিনি, কোন খারাপ কাজ করিনি এমনকি একটি সিগারেটও খাইনি,
আমি কতটুকু কি করতে পারি আমার নিজের প্রতি সেই বিশ্বাস আছে; নিজের জীবন নিয়ে আমি হতাশ নই,
আমি একজন কনফিডেন্ট মানুষ;
আল্লাহর প্রতি আমার সন্তুষ্টির কোন শেষ নেই,
আমি এও জানি আল্লাহর হুকুম ছাড়া কাউকে কিছু দেয়া নেয়ার সাধ্য এই পৃথিবীরতে কারো নেই,
আমি অন্যায় করলে আমি কেন কেউই পার পাবেনা।

আমি জানি আজকের বাংলাদেশে আমাদের কোন মুল্যায়ন হবে না কারন এখন ১৭ কোটি জনগনের মধ্যে ১৮ কোটি আওয়ামীলীগার।
আমাদের যৌবন কেটেছে বিরোধী দল করে। ১৯৯৩ সালে মাদারীপুরে ১নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি;
কলেজ পেড়িয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ফজলুল হক মুসলিম হলের ক্রিড়া সম্পাদক ছিলাম পরবর্তীতে একই হলের সাধারন সম্পাদক ছিলাম,
এরপর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলাম; তারপর আবার ষড়যন্ত্রকারীদের বিষ দাঁতের কামড়ে ক্ষতবিক্ষত হয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি সাধারন সম্পাদক হতে পারিনি, এরপর জননেত্রী শেখ হাসিনা আপার একজন কর্মী হিসেবে জায়গা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক লীগে।
একটি পরিচ্ছন্ন সংগঠন হিসেব সুনামের সাথে রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছি; এই দীর্ঘ ২৬/২৭ বছরের রাজনৈতীক পথ চলায় সুনাম অক্ষুন্ন রাখার অসম যুদ্ধে কখনও জিতেছি কখনও শিখেছি হারিনি কভু...
অনেক ঘাত প্রতিঘাতে কেটেছে জীবন; ছাত্রদলের হামলা পুলিশের প্রহার কারাগারে জীবন এটা জীবন প্রনালির নিত্যনৈমিত্তক অংশ
বিগত ১/১১ তে আন্দোলন করতে গিয়ে সেনা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে অমানুষিক নির্যাতনের স্বীকার হয়ে বিনা বিচারে দীর্ঘ এক বছর ডিটেনশনে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে থেকে হারিয়েছে যৌবনের সুবর্ণ দিনগুলো।
একবছরের কারা জীবন কেড়ে নিয়েছে আমার পিতা মাতার সুস্থ জীবন এবং অকালে ঝড়ে গেছে তাদের জীবন প্রদ্বীপ।
তারপও দলের কাছে প্রত্যাশা নেই
জননেত্রী শেখ হাসিনা আপা আমাকে অনেক দিয়েছেন,
স্নেহ-মমতা সর্বপরি একটি পরিচয়,
নেত্রীর প্রতি অসিম কৃতজ্ঞতা।
মহান আল্লাহ তাকে সুস্থতা এবং নেক হায়াত দান করুন।
১২ বছর আওয়ামীলীগ ক্ষমতায়; এরমধ্যে কোনদিন একটা কাজ অথবা তদবির নিয়ে কোন মন্ত্রী-এমপি, আমলা-কামলা সাহেব’দের কাছে গিয়েছি এমন কথা কেউ বলতে পারবেনা।সারা জীবনে সচিবালয়ে গিয়েছি বড় জোর ৪/৫ দিন।দলিও পরিচয় দিয়ে কোথাও কাজ করার চিন্তাও করিনি,
কারন আমি জানি আজকের বাংলাদেশে যেখানে একজন কনষ্টেবলও দলীয় পরিচয়ের মুল্যায়ন করেনা সেখানে কাজ পাওয়া তো দূরের কথা। আমি সব জেনেশুনে এই অপচেষ্টা কোন সময় করিনা।
১/১১ তে অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করেছি,
যখন অনেক বড় বড় নেতারা নেত্রীর প্রশ্নে আপোষ করেছে, নেত্রীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি,
পথে ঘাটে নেত্রীর বিরুদ্ধ গাল ঝুলিয়ে কুৎসা রটিয়েছে তখন নিজের শরীরে অমানুষিক টর্চার সহ্য করেও নীতির সাথে বেইমানি করিনি।
নেত্রীর প্রশ্নে কোন কিছুতে আপোষ করিনি;
যদি ওদের কথায় নেত্রীর বিরুদ্ধ ওদের কথা মতো কাজ করতাম তবে হয়তো শীতের রাতে ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে এমন অমানুষিক নির্যাতন সইতে হতো না;
আজ দল ক্ষমতায় আছে ১২ বছর;
আমাদের ত্যাগের কথা সবাই ভুলে গেছেন..!
এই ১২ বছরে কিছু দাঁতে বিষওয়ালা মানুষের বেষ্টনি পেড়িয়ে এক মূহুর্তের জন্যেও নেত্রীর সামনে গিয়ে বলতে পারিনি কারাগার থেকে বের হয়ে নেত্রীর সাথে দেখা করতে গেলে মাননীয় নেত্রী সেদিন মাতৃস্নেহে মাথায় হাত বুলিয়ে যে কথা দিয়েছিলেন সেই কথা মনে করিয়ে দিতে,
আমি জানি নেত্রী দেশ এবং দেশের মানুষের কল্যানের জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করেন;
আমার মত কর্মীর কথা এই ব্যাস্ততার মধ্যে মনে রাখার কথাও নয় আর সেটার দরকারও নেই কারন তিনিতো সারা দেশে মানুষের কল্যানের জন্যেই কাজ করেন,
আর এর মধ্যে তো আমিও পরে যাই,
তাই হয়তো আলাদা ভাবে মনে করিয়ে দেয়ার সুযোগ হয়নি;
যে ভাবেই হোক আল্লাহর অশেষ রহমত আর নেত্রীর কল্যানেই তো আলহামদুলিল্লাহ ভাল আছি
বঙ্গবন্ধু আর তার কন্যার সততাই আমার প্রধান অনুসরণ। হালাল রুজিতে নিজে আর পরিবারের মানুষ খেয়ে আলহামদুলিল্লাহ বেঁচে আছি। আমার ব্যাবসায় নামার প্রথম দিনের শপথ ছিলো- সেই সব কাজ আমি কখনোই করবো না, যে রোজগারের হিসাব ইহকালে ও পরকালে মহান আল্লাহর কাছে দিতে পারবো না। আজো সেই নীতি মেনে চলি- আল্লাহ যতোদিন হায়াত রেখেছেন, ততদিন আমার এই নীতির বদল হবে না ইনশাআল্লাহ…