সোশ্যাল মিডিয়া ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০৯:০৩

'রাব্বানীর মতো ছাত্রলীগের ক্ষতি এরশাদও করতে পারেনি'

ডেস্ক রিপোর্ট ।। 

কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান। তিনি সাবেক সহ-সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে নিয়ে তিনি তার ফেসবুক প্রোফাইলে একটি স্ট্যাটাস দেন। পাঠকদের সুবিধার জন্য তার স্ট্যাটাসটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো- 

"এই ধাক্কা খুব প্রয়োজন ছিল
ছাত্রলীগ এবং সকলের জন্য !!

আমি শুদ্ধি অভিযানের কথা বলে যাচ্ছি বহুদিন ধরে । অবশেষে মনে হচ্ছে শুদ্ধি অভিযানের দিকে যাচ্ছে আওয়ামীলীগ ।

নেত্রীর একার ইমেজ দিয়ে দেশব্যাপী একটা দল জনপ্রিয় থাকবেনা , এটি আমাদের সকল মন্ত্রী , এমপি , নেতা , উপনেতা এবং পাতি নেতাদের অবশ্যই বুঝতে হবে ।

বিশেষ করে ভূইফোর নেতাদের উপর মানুষ খুবই বিরক্ত । মাত্র ৫/৭ বছর আগেও যাদের কেউ চিনতোনা , কোন বিশেষ কারনে , আজ তাদের অনুমোদন অনিবার্য সকল ক্ষেত্রে ! কারন তারা মাননীয়'র খুবই পেয়ারা , আপন লোক ,অথবা এপিএস !!

এমপি এবং মন্ত্রীদের ইমেজ ভীষণ রকম সংকটে আছে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই , তাদের অবস্থা সোভন রাব্বানীদের মতোই !!

এবং তারা তা জানেনও না ! তারা ভাবছেন সারা দেশে যাই হউক তিনি নিজে খুবই জনপ্রিয় !! যেখানেই যায় শুভেচ্ছা স্বাগতম পায় ! মুই কি হনুরে অবস্থা !!

মাননীয়দের কাছের লোক এবং এপিএসদের ক্ষমতা দেখলে মনে হয় সুর্যের চাইতেও বালি গরম !! মনে হচ্ছে অচিরেই তারা রাষ্ট্রের যাবতীয় দায়ীত্ব পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন !

কোথাও কোথাও এপিএসরা উপজেলা চেয়ারম্যান এমনকি থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি / সাধারণ সম্পাদকও হয়ে গেছেন !!!

কুমিল্লার কেউ একজন মন্ত্রী থাকাকালীন সাবেক প্রেমিকার ভাইকে এপিএস বানিয়ে কোটিপতি করেছিলেন , এখন সেই সাবেক এপিএসকে নিজের উত্তরাধিকার বানাবার চেস্টায় আছেন !!

নেত্রী দলকে জনপ্রিয় করতে চাইলেও , স্থানীয় ভাবে নেতারা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে জনপ্রিয় নেতা কর্মীদের অকেজো করে , নাম নিশানাই মুছে দিতে চাচ্ছেন !

শোভন - রাব্বানীরা ছাত্রলীগের যে ক্ষতি করে গেলেন , ছাত্রলীগের তেমন ক্ষতি এরশাদও করতে পারেননি!

কতবড় অথর্ব হলে একজন নেতা বলতে পারে আমাদের অজ্ঞাতসারে কেন এক কোটি ষাট লক্ষ টাকা চাঁদা দেয়া হলো ! মানে হচ্ছে , তাদের জানিয়ে চাঁদা দেয়া উচিৎ ছিল !!

এদেরকে কে যোগ্য ছাত্রনেতা হিসেবে নেত্রী কাছে সুপারিশ করলো ? এখন যদি শুভন - রাব্বানিকে গ্রেফতার করা হয় , তাদের সাথে সুপারিশ কারি কেও গ্রেফতার করা উচিৎ ।

যে ভয় নেত্রী আজ ছাত্রলীগের ভেতর ঢুকালেন একই রকম ভয় মন্ত্রী এমপিদের মনেও ঢুকা উচিৎ ।

আঙ্গুল ফুলে বটগাছ বনে যাওয়া দু একজন সাবেক মন্ত্রী এবং তাদের চেলা চামুন্ডাকে ধরে মিছকিন বানিয়ে , আগের অবস্থায় ফেরৎ পাঠালেই , বর্তমানদের জ্ঞান বাড়বে ।

আজ থেকে সোভন - রাব্বানীর পক্ষে লেখার লোক বাটি চালান দিয়েও পাওয়া যাবেনা । সহমত ভাইয়েরা উধাও !!

অথচ গতকালও ওরা ছিল মানবতার ফেরিওয়ালা !! শুনলাম আজ কেউ তাদের ফোনও রিসিভ করছেনা !!

কালের চক্র বক্র গতিতে
ঘুরিতেছে অবিরত
আজ দেখি যারা কালের শীর্ষে
কাল তারা পদানত !!"