মুক্তমত ২৫ মার্চ, ২০২১ ০৬:১৯

স্বাধীনতা ও এগিয়ে যাবার প্রেরণা

দেলোয়ার হোসেন ফারুক

বাঙালি জাতির ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন হলো একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা। আর এই স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের মুক্তির লড়াই যেদিন শুরু হয়, আজ সেই গৌরবময় ২৬ শে মার্চ। আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস। এই মহান দিবসে স্মরণ ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করছি বাংলার আপামর জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখানো ও স্বাধীনতার আহবানকারী বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি। সেই সাথে স্মরণ করছি প্রবাসী সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদসহ সকল নেতার স্মৃতির প্রতি। গভীর শ্রদ্ধাভরে আরো স্মরণ করছি স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রাণ উৎসর্গ করা শহীদদের ও বর্বরতার শিকার লাখো নারীদের।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ। পাকিস্তানি শোষক বাহিনীর নিপীড়ন ও অত্যাচারে জর্জরিত একটি জাতি যখন পরাধীনতার এ নাগপাশ ছিঁড়তে চাইছিল। ঠিক তখনই মুক্তির বার্তা নিয়ে হাজির হয় এক দেবদূত- যাঁর এক আঙুলের ইশারায় বদলে যায় পৃথিবীর মানচিত্র। তাঁর মুখ থেকে উচ্চারিত হয় সেই অমর কবিতা “এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম/ এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম”। তাঁর এই অগ্নিঝরা বক্তব্যে উজ্জীবিত হয়ে স্বাধীনতার স্বপ্ন বুনতে শুরু করে বাংলার লাখো জনতা। স্বাধীন আকাশে মেলে ধরতে চেয়েছিল নিজেদের। কিন্তু এরইমধ্যে সে আকাশ ছেয়ে যায় হায়েনাদের কালো থাবায়। ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ- বাঙালি জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায়। সেদিনের সেই কালো রাত্রিতে নিরীহ নিরস্ত্র ঘুমন্ত বাঙালীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পাকিস্তানি দানবেরা আর চালিয়েছিল বর্বর হত্যাযজ্ঞ। বিপদ ঘণীভূত জেনেও আত্মগোপন না করে দেশের এই চরম মুহূর্তে যিনি বুক চিতিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা করেন, তিনি আর কেউ নন; জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ২৫ শে মার্চের সে কালো রাতে গ্রেফতার হবার আগেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পৌঁছে দেন দেশের মুক্তিকামী জনতার উদ্দেশ্যে। যেখানে লেখা ছিল, “আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। বাংলাদেশের মানুষকে  আহ্বান জানাই, আপনারা যেখানেই থাকুন, আপনাদের সর্বস্ব দিয়ে দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যান”। তাঁর এ এক ডাকে সাড়া দিয়ে আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে নামমাত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাংলার মুক্তিকামীরা। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ছিনিয়ে আনে স্বাধীনতার লাল সূর্য।

সেই থেকে নানা বাধা-বিপত্তি ও চড়াই-উতরাই পাড়ি দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের এগিয়ে চলা। চড়া দামে কেনা এ স্বাধীনতা বারবার ই নানা বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধু ও তাঁর মতাদর্শ নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সারথিরা এ দেশকে বার বার ই সে সকল বাঁধা থেকে রক্ষা করেছেন। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা দেশনেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতার এ ৫০ বছরে বাংলাদেশের অগ্রগতি বিশ্বদরবারে প্রশংসিত। মাথাপিছু আয় ও জিডিপি বাড়ার সাথে সাথে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে হয়েছে অভূতপূর্ব উন্নয়ন। দেশনেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন আজ বাস্তব। দূরদর্শী নেত্রী যে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে উঠেছিল তা যে কত সময় উপযোগী ও প্রয়োজনীয় তা আমরা টের পাই গত বছরের করোনাকালীন দিনগুলিতে। দেশের চরম মূহুর্তে বঙ্গবন্ধুর মতো আরেকবার দেশের জন্য হাল ধরেন যিনি, তিনি বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনা। তাঁর ডিজিটাল বাংলাদেশের রথে চড়ে সচল ছিল শিক্ষা, যোগাযোগ, চিকিৎসা, পণ্য উৎপাদন, বিপণন থেকে শুরু করে সবই। এই নতুন যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ছিল যোগাযোগ-প্রযুক্তির সুদৃঢ় অবকাঠামো। আর এই সুদৃঢ় অবকাঠামোর পেছনে যিনি আছেন তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক মাননীয় উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ জয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পেছনে আরো একজনের অসামান্য অবদান স্বীকার করতে হয়- তিনি হচ্ছেন বর্তমান ডাক ও টেলি যোগাযোগ মন্ত্রী জনাব মোস্তফা জব্বার। দেশের তৃণমূল পর্যায়ে প্রযুক্তিকে ছড়িয়ে দিতে তিনি কাজ করেছেন নিরলসভাবে। সর্বশেষ আইসিটি এক্সপো ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০২০ এর মাধ্যমে বাংলাদেশের করোনাকালীন প্রযুক্তির প্রসার বিশ্বদরবারে তুলে ধরা হয়।

গত অর্ধশতক ধরে দেশের ক্রান্তিলগ্নে যেভাবে বাংলাদেশ লড়ে গেছে বারবার, সেই শক্তি নিয়ে সামনের দিকে আমরা এগিয়ে যাবো আরো বহুদূর। স্বাধীন ও স্বনির্ভর যে বাংলাদেশের স্বপ্ন মুজিব দেখেছিলেন,তার স্বরূপ বিশ্ব আজ দেখছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে।

লেখকঃ সম্পাদক ও প্রকাশক দৈনিক আমাদের কাগজ