মুক্তমত ৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৭:২১

শেখ ফজলুল হক মনি একজন সফল যুব সংগঠক

গাজী সারোয়ার হোসেন বাবু

১৯৩৯ সালের ৪ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সম্ভ্রান্ত রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ। এরপর বেড়ে উঠা থেকে যৌবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় মানুষের কল্যাণে পার করেছেন। যিনি এখনো দেশের স্বপ্নবাজ, তরুণ যুবক সমাজের আইকন হিসেবে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন। এখনো লক্ষ যুব সমাজ তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তিনি হলেন একজন সফল যুব সংগঠক শেখ ফজলুল হক মনি।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ শেখ ফজলুল হক মণির ৮১তম জন্মদিনেও তাকে যুব সমাজ ভুলে যায়নি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণকারী যুব সমাজ শেখ ফজলুল হক মণিকে আইকন হিসেবে সমাজ, জাতি ও দেশ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

দেশ স্বাধীন করার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের জন্য গোটা বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামে অনন্য ভূমিকা রাখেন শেখ ফজলুল হক মনি। তিনি ছিলেন, মুজিব বাহিনীর অধিনায়ক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তিনি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১৯৭২ সালে ১১ নভেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে বাংলাদেশের প্রথম যুব সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এদেশে যুব রাজনীতির1 সূচনা করেন। দুই বছরের মাথায় কংগ্রেসে শেখ মনি যুবলীগের প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। শেখ ফজলুল হক মনি ব্যক্তি জীবনে দুই ছেলে সন্তানের জনক। তার সুযোগ্য দুই সন্তান বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে দেশের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।

১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে শেখ ফজলুল হক মনি ও তার স্ত্রী বেগম আরজু মনি শাহাদাৎ বরণ করেন। বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশ যতকাল টিকে থাকবে, ততদিনই ইতিহাসের পাতায় অম্লান, অক্ষয় থাকবে এ নামও। এখন যদি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ মনি বেঁচে থাকতেন তাহলে অনেক আগেই দেশ উন্নত হয়ে যেত। কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী ও অতি বিপ্লবীরা দেশ পরিচালনা করায় ৫০ বছর পিছিয়ে গেছি। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসায় এবং তার দূরদর্শী নেতৃত্ব এখন বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেব উপস্থাপন করেছে। তবে এখনও ষড়যন্ত্রকারীরা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে সবসময় আমাদের সজাগ থাকতে হবে এবং সংঘবদ্ধভাবে এদের বিষদাঁত ধ্বংস করতে হবে
শেখ ফজলুল হক মনি ঢাকা নব কুমার ইনস্টিটিউট থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন। এরপর ১৯৫৮ সালে তিনি জগন্নাথ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন। ১৯৬০ সালে তিনি বরিশাল বিএম কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন।

শেখ ফজলুল হক মনি কেবল রাজনীতি নয়, সাহিত্য এবং সাংবাদিকতায়ও অবদান রাখেন। তার লেখা ‘অবাঞ্ছিত’ উপন্যাস পাঠক সমাদৃত। এছাড়া তিনি দৈনিক বাংলার বাণী, ইংরেজি দৈনিক বাংলাদেশ টাইমস ও বিনোদন ম্যাগাজিন ‘সিনেমা’র সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই মনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ষাটের দশকে সামরিক শাসনবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তিনি সাহসী নেতৃত্ব দেন। ১৯৬০-১৯৬৩ সালে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। ১৯৬২ সালে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় তিনি গ্রেফতার হন এবং ছয় মাস কারাভোগ করেন। ১৯৬৪ সালের এপ্রিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর আবদুল মোনেম খানের কাছ থেকে সনদ নিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান এবং সরকারের গণবিরোধী শিক্ষানীতির প্রতিবাদে সমাবর্তন বর্জন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার ডিগ্রি প্রত্যাহার করে নেয়। পরবর্তী সময়ে তিনি মামলায় জিতে ডিগ্রি ফিরে পান। ১৯৬৫ সালে তিনি পাকিস্তান নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার হন এবং দেড় বছর কারাভোগ করেন। তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ও কৃতিত্ব ১৯৬৬ সালের ৭ জুনে ৬ দফার পক্ষে হরতাল সফল করে তোলা। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের শ্রমিকদের তিনি তখন সংগঠিত করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু তখন কারাগারে। ওই হরতাল সফল না হলে বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম পিছিয়ে যেত। ১৯৬৬ সালে ছয় দফা আন্দোলনে এ অগ্রণী ভূমিকা পালনের দায়ে তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি হয় এবং তিনি কারারুদ্ধ হন। এসময় বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আটটি মামলা দায়ের করা হয়। ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের সময় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

কবি আসাদ চৌধুরী শেখ মনি সম্পর্কে যা বলেছেন তাও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে চাই। তিনি বলেছেন, ‘সেই একটা সময় ছিল ত্যাগ-ব্রতের রাজনীতি তাদের ঘিরে যারা জড়ো হতেন তাদের মধ্যে গভীর দেশপ্রেম ছিল। রাজনীতি চর্চার জন্য শিক্ষা ও আদর্শ ছিল, চরিত্রে সংহতি ছিল। তারা দেশের মানুষকে ভোটার বা রাজনীতিকে ক্ষমতার সিঁড়িই শুধু ভাবতেন না, বড় করে দেখতেন। আমাদের মনি সাহেব ছিলেন এই দলের মানুষ। মনি ভাইকে আমার বিনম্র শ্রদ্ধা ও সালাম।’

লেখক: সাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ