অর্থ ও বাণিজ্য ১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০৩:১৯

কৃষকের টাকা হাতিয়ে নিতে কৃষি কর্মকর্তার ফাঁদ!

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাক্ষর জাল করে বরাদ্দকৃত টাকাসহ সরকারের বিভিন্ন কৃষিপণ্য কৃষকের নামে তুলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে

আজ মঙ্গলবার ফুলগাজীর কৃষক নুরুল হক, আবুলুল কাদের, শহীদুল, মহি উদ্দিন ও জামাল উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন কৃষকের অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলায় কৃষি উন্নয়ন এবং লেবুজাতীয় ফল চাষের দুটি বিশেষ প্রকল্পের অধীনে ৪৬০ কৃষক রয়েছেন এর অনুকূলে চলতি অর্থবছরে (২০১৯-২০) কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সুবিধাভোগী কৃষক হিসেবে সাড়ে ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার

৯০টি লেবুজাতীয় ফল বাগানের জন্য সাইট্রাস প্রকল্পে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে এই টাকায় বিভিন্ন ধরনের সার ও বীজ দেয়ার কথা থাকলেও তা এখন পর্যন্ত কোনো চাষি কিছুই পাননি এর পর তারা দেখতে পান প্রকল্পের সুবিধাভোগীর তালিকায় কৃষকদের নামের পাশে স্বাক্ষর দেয়া রয়েছে অথচ সেই স্বাক্ষর তাদের নয় বলে দাবি করছেন, যা দেখে হতবাক হয়েছেন দরিদ্র কৃষকরা

রহিম নামে এক কৃষক বলেন, আমার ও অপর একজন কৃষকের নামের পাশে যে স্বাক্ষর দেখেছি, তা আমাদের নয় আমার এ স্বাক্ষর জাল আমরা দেখেছি, স্বাক্ষর শিটে যত সুন্দর করে আমাদের অনেকের স্বাক্ষর দেয়া আছে, তা আমরা দিইনি এত সুন্দর করে আমরা নাম লিখতে পারি না এই প্রকল্পের আওতায় কিছু পরিত্যক্ত গাছের চারা ছাড়া আর কোনোরকম সুবিধা আমাদের দেয়া হয়নি

কাগজ-কলমে সুবিধা পাওয়া মাল্টা চাষি নাজিম উদ্দিন বলেন, মাল্টাগাছের প্রতিটির জন্য ৬০ টাকা বরাদ্দ হলেও কৃষকদের ১০-১৫ টাকার নিন্মমানের চারা সরবরাহ করা হয়েছে ফলে এর বেশিরভাগ গাছ মরে গেছে; যেগুলো বড় হচ্ছে সেগুলোরও ফলন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা

দরবারপুর ইউনিয়নের কৃষক আবুল কালাম জানান, তিনি দুদিন ট্রেনিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন এতে সকালে নাস্তা ছাড়া আর কোনো টাকা-পয়সা দেয়া হয়নি অথচ তার নামে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ১৩৫০ টাকা ভাতা উত্তোলন দেখানো হয়েছে

আনন্দপুর ইউনিয়নের নাজিম উদ্দিন মজুমদার জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ১০-১৫ টাকা দামের নিম্নমানের মাল্টা চারা দেয়া হয়েছে, যার কোনো দৃশ্যমান নেই যদিও বরাদ্দে প্রতি চারা বাবদ ৬০ টাকা ক্রয় ধরা হয়েছে এবং চুন, সার, আন্তঃপরিচর্যা ও মালচিং বাবদ অর্থ ধরা হলেও তার কোনো কিছুই কৃষককে দেয়া হয়নি

গত ২৩ নভেম্বর মাঠ দিবসের একটি সভাকে চার দিনের সভা দেখিয়ে লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে

এদিকে ফুলগাজী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগ আদৌ সঠিক নয়

জানতে চাইলে ফেনী জেলা কৃষি সম্প্রসারণের উপপরিচালক তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী বলেন, এর আগে কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নজরে আসেনি

তিনি বলেন, বিষয়টি প্রয়োজনীয় তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্হা গ্রহণ করা হবে

ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল আলীম জানান, কৃষকদের কৃষি উপকরণ বিতরণের অনিয়মের কথা কিছুটা তিনি শুনেছেন কৃষকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবেন তিনি