অর্থ ও বাণিজ্য ১ ডিসেম্বর, ২০২০ ১০:২৫

মোংলা সমুদ্রবন্দরের ৭০ বছর

ডেস্ক রিপোর্ট

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা পার করল ৭০ বছর। ১৯৫০ সালের ১ ডিসেম্বর বিশ্বের একমাত্র প্রাকৃতিক বন্দর হিসেবে যাত্রা শুরু মোংলা বন্দরের। প্রথম দিকে লোকসানের মুখ দেখালেও বর্তমানে মোংলা বন্দর এখন একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান।

মোংলা বন্দরের ভাগ্যচাকা ঘুরতে শুরু করে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই। বর্তমানে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এ বন্দর। ১১ বছরে ৫০টির বেশি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে এ বন্দরের উন্নয়নে ।

দিনটি উপলক্ষে সীমিত পরিসরে সকাল ৯টায় র‌্যালি, ১০টায় স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ও দুপুরে আলোচনা সভা এবং বন্দরের সাফল্য ও অগ্রগতি কামনায় মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে এ বছর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বড় কোনো আয়োজন নেই বলে জানিয়েছে বন্দরের বোর্ড ও জনসংযোগ বিভাগ।

১৯৫০ সালের ১১ ডিসেম্বর বৃটিশ বাণিজ্যিক জাহাজ ‘দি সিটি অব লিয়নস’ সুন্দরবনের মধ্যে পশুর নদীর জয়মনির গোল নামক স্থানে নোঙর করে। এটাই ছিল মোংলা বন্দর প্রতিষ্ঠার শুভ সূচনা। পরে ১৯৫১ সালের ৭ মার্চ জয়মনির গোল থেকে ১৪ মাইল উজানে চালনা নামক স্থানে এ বন্দর স্থানান্তরিত হয়ে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত বন্দরের কার্যক্রম চলে।

এরপরই স্যার ক্লাইভ অ্যাঙ্কনিস পশুর ও শিবসা নদী জরিপের জন্য আসেন। দীর্ঘ বিস্তৃত জরিপের পর তিনি তার রিপোর্টে বন্দরকে চালনা থেকে সরিয়ে মোংলায় নেয়ার প্রস্তাব করেন।

চালনা থেকে ৯/১০ মাইল ভাটিতে মোংলা নদী এবং পশুর নদীর মিলনস্থলে ছিল ‘মোংলা’। এখানে নদীর নাব্যতাও ছিল বেশি। সুবিস্তৃত স্থলভাগ ও বন্দর নির্মাণের জন্য ছিল উপযোগী। উপরোক্ত প্রস্তাব অনুযায়ী ১৯৫৪ সালের ২০ জুন এ বন্দরকে সরিয়ে মোংলা নামক স্থানে নিয়ে আসা হয়।

বন্দর যখন চালনায় ছিল তখন এটা ছিল একটা অচেনা গ্রাম। নাম ছিল শেলাবুনিয়া। তবে বন্দর স্থানান্তরের পরই ঘটে তার পরিবর্তন। একটা অচেনা ক্ষুদ্রগ্রাম পায় আন্তর্জাতিক পরিচিতি। মোংলা নদীর তীরে স্থাপন হওয়ায় এ বন্দরের নাম হয় মোংলা। জনশূন্য এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে কলরবে।

একটি সরকারি অধিদফতর হিসেবে যাত্রা শুরু করে ১৯৭৬ সালের মে মাসে চালনা বন্দর কর্তৃপক্ষ নামক একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে এবং পুনরায় ১৯৮৭ সালের মার্চ মাসে এটির নাম পরিবর্তন করে ‘মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ’ করা হয়।