অর্থ ও বাণিজ্য ২৯ নভেম্বর, ২০২০ ১২:১১

সোনালি ধানে ফুটেছে কৃষকের মুখে হাসি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

চারদিকে নতুন ধানের গন্ধে ভরে উঠেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাজারো কৃষক দেখছে নতুন আশার আলো। চলতি মৌসুমে জেলায় অর্জিত হয়েছে রোপা আমনের আবাদ ও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা। সাধারনত উপশী, হাইব্রিড ও দেশি এই তিন জাতের আমনের চাষ হয়ে থাকে।

এবার করোনার মধ্যেও আমন ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। প্রতিটি ধান গাছের থোকায় থোকায় প্রচুর পরিমাণে ধান হয়েছে। এছাড়া চলতি ধানের দরও পাওয়া যাচ্ছে ভালো।

অন্যান্য বছর লোকসানের মুখ দেখলেও এবারের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে নয়শ থেকে এক হাজার টাকা দরে। পাইকাররা বাড়ি আসছেন ধান কিনতে। উৎপাদিত ধানের মূল্য পেয়ে অনেক খুশি কৃষকরা।

কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন জমি থেকে ধান কাটা ও মাড়াই নিয়ে। নতুন ফসল ঘরে তোলার উৎসব চলবে আরো দুই সপ্তাহ জুড়ে। বেশ কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধানের বাম্পার ফলনের পাশাপাশি বাজার দরও এবার ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

ll

কৃষক লাল মিয়া বলেন, আমি এ বছর ছয় কানি জমিতে রোপা আমন আবাদ করেছি। খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। প্রতি কানিতে প্রায় ১৪ মণ ধান পাওয়া যাবে। ধানের ফলন ও গুণ ভালো হওয়াই দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

অপর কৃষক ছমির উদ্দিন বলেন, অন্যান্য বছর ধান আবাদ করতে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে। প্রতি মণ ধান বিক্রি করতে হয়েছে পাঁচশ থেকে সাড়ে পাচঁশ টাকা দরে। তবে এবার প্রতি মণ ধান বিক্রি করছি নয়শ থেকে এক হাজার টাকা দরে। আমাদের বাজারে যেতে হচ্ছে না। পাইকাররা জমি থেকেই ধান কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

কৃষক সোয়াব মিয়া বলেন, করোনাকালে ঋণ নিয়ে আমি চার কানি জমিতে রোপা আমন আবাদ করেছি। প্রথমে চিন্তিত ছিলাম যদি ফলন ভালো না হয় তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে। তবে ভালো ফলনে আশার সঞ্চার জাগিয়েছে। এভাবে সব সময় ভালো আবাদ হলে কৃষিকাজে আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন হবে।

জেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলিত মৌসুমে জেলায় রোপা আমনের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমি। আবাদ হয়েছে ৫০ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদিত ধান থেকে চাল হবে ১ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ মেট্রিকট্রন। কৃষিবিভাগ আশা করছে চলতি মৌসুমে আমন ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও অতিক্রম করবে।

জেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রবিউল আলম মজুমদার বলেন, সরকার সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণ ধান কেনায় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। এতে করে কৃষকরা ধানের বাজার মূল্য ভালো পাচ্ছেন। সেইসঙ্গে যে সব কৃষকরা ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন তারাও নতুন করে ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।


আরো খবর

post

সূচকের সঙ্গে কমেছে লেনদেন

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
post

ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজার

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
post
post
post

বিশাল পতনে স্বর্ণবাজার

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
post