উন্নয়ন সংবাদ ২৬ অক্টোবর, ২০২০ ০২:১৬

বরগুনায় মুক্তা চাষে সফলতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বরগুনায় ঝিনুকের মুক্তা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল ইসলাম। ইতোমধ্যে তার মুক্তা চাষের সফলতার গল্প ছড়িয়ে পড়েছে গোটা জেলা জুড়ে। প্রথমে মুক্তাচাষের প্রদর্শনী খামার গড়ে তুললেও এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষে আগ্রহী তিনি। নুরুল ইসলামের সফলতা দেখে এলাকার অনেকেই এখন মুক্তা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে মুক্তা চাষে। তবে আগ্রহী চাষীরা বলছেন মুক্তা চাষ করতে প্রয়োজন সরকারি সহায়তা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলার কে লতাবাড়িয়া গ্রামে ব্রাইট এগ্রো নামের একটি কৃষি খামার স্থাপন করেন অবসারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম। এতে পরামর্শ সার্বিক সহযোগীতা করেন তার আপন ছোট ভাই মো. কামরুল ইসলাম। এই এগ্রো ফার্মেই ২০১৯ সালে মাছের পাশাপাশি ঝিনুকের মুক্তা চাষের প্রকল্প হাতে নেয় নুরুল ইসলাম। গড়ে তোলে একটি প্রদর্শনী খামার।

মুক্তা চাষে আগ্রহী আবদুস সোবাহান বলেন, আমাদের প্রচুর প্রাকৃতিক জলাধার রয়েছে যাতে ঝিনুক পাওয়া যায়। আমরা নুরুল ইসলাম ভাইয়ের প্রদর্শনী খামার দেখেছি আমরা নিজেরাও মুক্তা চাষ করতে আগ্রহী। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এটা বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ সম্ভব।

মুক্তা চাষের উদাক্তা মো. নুরুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, পুকুর বা জলাশয় একই সাথে মুক্তা এবং মাছ চাষ করে যেকোনো পরিবার অর্থনৈতক ভাবে লাভবান হতে পারে। ব্রাইট এগ্রোর মুক্তা চাষ প্রকল্প দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসছে। ব্রাইট এগ্রোর পক্ষ থেকে হাতে কলমে আগ্রহীদের ধারণা দেয়া হচ্ছে ঝিনুকের মুক্তা চাষের পদ্ধতি কৌশল সম্পর্কে।

তিনি আরো বলেন, প্রতিটি ঝিনুক থেকে উৎপাদিত হয় ৬টি মুক্তা। বর্তমানে হাজারের বেশি মুক্তা উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে গ্রীসে অবস্থানরত বাঙালিরা মুক্তা সংগ্রহের ব্যাপারে যোগাযোগ করছেন। আগামী নভেম্বর মাসে গ্রীসে প্রবাসী বাঙালিদের চাহিদা মতো হাজার পিস মুক্তা পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বরগুনার জেলা প্রাশাসক মোঃ মোস্তাইন বিল্লাহ ঝিনুকের মুক্তা চাষ প্রকল্প পরিদর্শন করে তার এই মুক্তা চাষের প্রশংসা করে এর প্রসারে সকল প্রকার সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বরগুনার এই উপকূলীয় এলাকায় ধরনের উদ্যোক্তার প্রয়োজন। তার এই উদ্যোগ দেখে আমি খুবই আনন্দিত। এলাকার বেকার যুবকরা একটু উদ্যোগী হলে মুক্তা চাষ প্রকল্প থেকে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবে।