সারাদেশ ২৪ অক্টোবর, ২০২০ ১২:৪০

কিশোরীকে গণধর্ষণ, প্রধান আসামি নুরু আটক

ডেস্ক রিপোর্ট

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ট্রেনের যাত্রী কিশোরীকে গণধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি নুরু মিয়াকে (৪০) নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার সকালে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরজু মো. সাজ্জাদ হোসেন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

শুক্রবার সকালে নুরুকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে তাকে কালীগঞ্জ থানায় নিয়ে আসা হয়। গ্রেফতার নুরু কালীগঞ্জের তুষভাণ্ডার ইউনিয়নের তালুক বানিনগর গ্রামের মজিবর রহমান মজির ছেলে। এর আগে গত ০৯ অক্টোবর একই গ্রাম থেকে গণধর্ষণের ঘটনায় মূলহোতা রকিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রকি ওই গ্রামের রজব আলীর ছেলে।  

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ০৫ অক্টোবর রংপুরের কাউনিয়া এলাকার মামার বাড়ি থেকে বাবার সঙ্গে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে খালার বাড়িতে বেড়াতে আসে এক কিশোরী (১৫)। সেখান থেকে পরদিন ০৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় লালমনিরহাটগামী আন্তঃনগর করতোয়া এক্সপ্রেস ট্রেনে কাউনিয়ার উদ্দেশে রওনা হয় সে। ট্রেন কালীগঞ্জের কাকিনা স্টেশনে দাঁড়ালে ওই কিশোরী নাস্তা করতে নামে। সে সময় রকি (২২) নাম পরিচয় দিয়ে এক যুবক কিশোরীর কাছে জানতে চান সে কোথায় যাচ্ছে। তখন মেয়েটি তাকে কাউনিয়া যাচ্ছে বলে জানায়। রকিও নিজেকে কাউনিয়ার বাসিন্দা বলে পরিচয় দেন। এরই মধ্যে ট্রেন স্টেশন ছেড়ে গেলে রকি অটোরিকশায় করে কাউনিয়া যাবেন এবং সেই অটোরিকশায় মেয়েটিকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি অটোরিকশায় রকি ওই কিশোরীকে নিয়ে কাউনিয়া যাওয়ার কথা বলে কৌশলে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে মধ্য রাতে একটি সেচ পাম্পের নির্জন ঘরে নিয়ে যান। সেখানে রকি ও তার তিন বন্ধু মিলে কিশোরীকে গণধর্ষণ করেন। পরদিন ০৭ অক্টোবর সকালে মুখ না খোলার শর্তে কিশোরীকে মুক্তি দেন বখাটে ওই চার যুবক। পরে অসুস্থ অবস্থায় কিশোরী পথ ভুলে চলার পথে স্থানীয়রা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মেয়েটি তাদের কাছে বিষয়টি খুলে বলে। তারপর স্থানীয়দের সহায়তায় এক গ্রাম পুলিশ সদস্যের বাড়িতে আশ্রয় নেয় মেয়েটি। ০৮ অক্টোবর রাতে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মাতব্বররা বৈঠকে বসে ধর্ষণকারী যুবকদের শনাক্ত করে মোটা অংকের টাকা জরিমানা আদায় করেন। তবে কিশোরীর অভিযোগ, টাকাগুলো তাকে না দিয়ে নিজেদের পকেটেই রাখেন মাতব্বররা।  

জরিমানার টাকা কিশোরীকে না দিয়ে উল্টো তাকে হুমকি দিয়ে পথ খরচ দুই হাজার টাকা দিয়ে মাতব্বররা তাকে পাঠিয়ে দেন বলেও অভিযোগ করে মেয়েটি। পরে ০৯ অক্টোবর দুপুরে স্থানীয়দের মাধ্যমে কিশোরী কালীগঞ্জ প্রেসক্লাবে আশ্রয় নেয়। প্রেসক্লাবে ঘটনার লোমহর্ষক এ বর্ণনা শুনে সাংবাদিকরা থানায় জানায়। এর পরপরই কিশোরীকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় কালীগঞ্জ থানা পুলিশ এবং পরে মেয়েটির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত করে গত ০৯ অক্টোবর দিনগত রাতে মূলহোতা রকিকে আটক করা হয়। রকির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই কিশোরী বাদী হয়ে সাতজন ধর্ষক, ইউপি সদস্যসহ ১০ জনের নাম উল্লেখসহ আরও চার/পাঁচ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা নেয় পুলিশ। এ মামলায় রকিকে গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ অক্টোবর বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়।  

এদিকে, গোপন খবরের ভিত্তিতে কালীগঞ্জ থানার একটি দল নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সহায়তায় এ মামলার প্রধান আসামি নুরু মিয়াকে গ্রেফতার করে। ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাকে কালীগঞ্জ থানায় নিয়ে আসা হয়।  
এ নিয়ে আলোচিত এ মামলায় এজাহার নামিয় ১০ আসামির মধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কালীগঞ্জ থানার ওসি আরজু মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, মূলহোতা রকির পরে গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি নুরুকে ফতুল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।